৫ শতাংশ সুদে সরকারি চাকরিজীবীরা গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন | sampadona bangla news
বুধবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৮

৫ শতাংশ সুদে সরকারি চাকরিজীবীরা গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন

সম্পাদনা অনলাইন : সরকারের সহযোগিতায় ব্যাংক থেকে ৫% সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারি পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এ ঋণ দেয়া হবে। মোট সুদের হার হবে ১০ শতাংশ। এই সুদের মধ্যে ৫ শতাংশ দেবে সরকার, বাকি ৫ শতাংশ ঋণগ্রহীতাকে পরিশোধ করতে হবে।

গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে চারটি সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছেÑ সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি)। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে নিজ নিজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো: জাফর উদ্দীন এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো: আসাদুল ইসলাম, অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, এ ঋণের আওতায় সব সরকারি চাকরিজীবীকে আনতে প্রায় ২ বছর সময় লাগবে। সরকারের যেসব মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠান অটোমোশন হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা আগামী ১ অক্টোবরেই এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অটোমশন হয়েছে পাঁচটি মন্ত্রণালয়। তবে তিনি এই মন্ত্রণালয়গুলোর নাম বলেননি।
অনুষ্ঠানে গৃহনির্মাণের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ঋণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আগে একজন সরকারি কর্মচারী অবসরে যাওয়ার পর মাথাগুঁজার ঠাঁই নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের সে সমস্যা দূর হবে বলে মনে করি।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী একজন নাগরিকের অধিকার হচ্ছে খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান নিশ্চিত করা। আমরা খাদ্যের বিষয়ে বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছি। এটা অর্জনে আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে। কৃষিজমি অনেক কমে গেছে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়েছি।

মুহিত বলেন, শিক্ষার বিষয়ে ইতোমধ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে, যদিও এখনো সর্বজনীন শিক্ষা হয়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের জনগণের ৪০ বছর পর্যন্ত যাদের বয়স তাদের আমরা শিক্ষিত করব। যাদের বয়স ৪০ পার হয়ে গেছে তাদের বিষয়ে আমরা খেয়াল করছি না। এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা শিক্ষার নেটে যাদের আবদ্ধ করছি সেটা মোটামুটি সাড়ে ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ। সার্বিকভাবে শিক্ষিতের হার কখনোই শতভাগ হবে না। আমার মনে হয় আমরা যদি ৯০ শতাংশের ওপরে যেতে পারি সেটাই আমাদের জন্য ভালো।

গত ৩১ জুলাই সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে অর্থ বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে এবং সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত গৃহ ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনি¤œ ২০ লাখ টাকা ঋণ নেয়া যাবে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

বর্তমানে ১০ শতাংশ সুদহারে একজন সরকারি কর্মচারী সর্বোচ্চ ঋণ পান এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু নতুন নীতিমালা অনুযায়ী উপ-সচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা, জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম থেকে প্রথম গ্রেডভুক্তরা ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ কিংবা ফ্ল্যাট ক্রয় করতে পারবেন। সর্বনি¤œ ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এ ঋণ নিতে পারবেন। একজন সরকারি চাকরিজীবী তার সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত এ ঋণ নিতে পারবেন।

ব্যাংক সুদের হার কমবে : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এখনো অনেক ব্যাংক ঋণে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে পারেনি। তবে আশা করছি শিগগির তারা সুদের হার কমিয়ে আনবে। এ জন্য হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। এটা করা খুবই সহজ, এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর মুনাফা একটু কম করলেই হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী গতকাল একথা বলেন।

গত ৯ আগস্ট থেকে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ ও ৯ শতাংশ সুদহারে শিল্প ঋণ বিতরণ করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে সরকারি কয়েকটি ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেও বেসরকারি খাতের বেশির ভাগ ব্যাংকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*