সুদ মানুষের সংকট

মীর আখতার হোসেন নজরুল: ধার-কর্জ বা ঋণ শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘ক্রেডে’ অার সংস্কৃত-ল্যাটিন ক্রাড থেকে। ইংরেজি ক্রেডিট শব্দটি ধার বোঝালেও ক্রেডিট বলতে অন্যের প্রতি অাস্থাকে বুঝায়। অর্থাৎ কাউকে ধার দিয়ে ফেরত পাওয়া যাবে, তার আস্থা। অধিকাংশ ধারই আর্থিক, যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর লাভ বা সুদ সহ ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু মুদ্রা ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগেও ধার-কর্জ বা ঋণ চালু ছিল। আর সেটা ছিল ফসল আর গবাদি পশুর মাধ্যমে। যাদের ফসল উদ্বৃত্ত থাকত; তারা যাদের ঘটতি হতো, তাদের উদ্বৃত্ত ফসল থেকে ঋণ দেয়ার পদ্ধতি চালু ছিল। মৌসুমের সময় ঋণ দেয়ার পরিমাণের থেকে বেশি আদায় বা ফেরত নেয়ার প্রচোলন ছিল। এই প্রচলনের বয়স প্রায় সাড়ে বার হাজার বছর আগের। এরপর গত পাঁচ হাজার বছর থেকে মূদ্রার প্রচলন থেকে কয়েকটি অধ্যায়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা বর্তমান অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে। আশারিয়া, ব্যাবিলনিয়া এবং পরবর্তীতে রোমান সম্রাজ্যে, প্রাচীন গ্রীক, চীন এবং ভারতেও ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিদর্শন পাওয়া যায়। ব্যাংকিং আসলে হাজার হাজার বছরের বিবর্তনের ফসল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে মহাদেশে এর ব্যাপ্তি পরিলক্ষিত হয়।

অতি প্রাচীন কালকে প্রথম পর্ব (খ্রীঃ পূর্ব ১২০০০) দ্বিতীয় পর্ব (খ্রীঃ পূর্ব ৫০০০)ধরে এবং পরবর্তীতে মধ্যযুগে ইউরোপে অাধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আরাম্ভ । মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ফসল কেনা বেচার সহায়তায় জন্য। ইটালির ভেনিসে ১১৫৭ সালে প্রথম আধুনিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং পরবর্তীতে ফ্লোরেন্স সহ সাড়া ইউরোপে ব্যাংকিং ব্যবস্থার দ্রুত প্রসার ঘটতে থাকে। তবে মুদ্রার প্রচলনের সাথে সাথে ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থার দ্রুত বিকাশ ঘটতে থাকায় ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে ঋণ-পদ্ধতিতে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে দেশি মাহাজন, স্বর্ণকার ও বণিকশ্রেণী।

বাংলাদেশের ঋণ প্রদ্ধতি কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও উল্লেখ পাওয়া যায়। বৈদিক যুগে অপ্রতিষ্ঠানিক ঋণ লেনদেনের অস্তিত্ব ছিল। সে সময় ধর্মীয় ভিত্তিতে ঋণ দেয়া-নেয়া হতো। মনু-র আমলে ঋণ দেয়া নেয়ার কার্যক্রম ব্যাংকের আদল পায়। প্রাচীন বাংলায় ধারে টাকাপয়সা ও মালামাল লেনদেনের চর্চা ছিল কিন্তু সেই লেনদেনে সুদের প্রচলনও ছিল। তাই বলা যায় হাজার হাজার বছর হলো সুদের প্রচলন দেখা যায়। আর এই সুদের মাধ্যমে মানুষও শোষিত হচ্ছে। সুদ থাকলেও শোষিত হওয়ার শঙ্কা আবার না থাকলেও পুঁজির অভাবে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার সম্ভবনা। এর প্রকৃষ্ট উদাহর পাওয়া যায় বিশ শততেক ত্রিশের দশকে।

বিশ শতকের ত্রিশের দশকে মহাজনি ব্যবসা বা সুদের ব্যবসায় মহাজন আর বাংলার কৃষকের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়ে অবস্থা যখন মারত্মক পরিণতির দিকে যেতে বসেছিল তখন সেই অবনতি ঠেকাতে সরকার এগিয়ে এসেছিল। ১৯৩৬ সালে বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ডেটরস অ্যাক্ট (১৯৩৬ সালের বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭)এর অধীনে ঋণ সালিশি বোর্ড স্থাপন করে।

এই আইন হওয়ার আগে মহাজন আর কৃষকের মধ্যে দেখা দিয়েছিল বড় ধরনের অসন্তোষ। ১৯৩০ সালের অর্থনৈতিক মহামন্দায় বাংলার কৃষকদের করে তোলে একদম দর্বল ক্ষয়িঞ্চু। উৎপাদন খরচের তুলনায় শস্যের মূল্য নেমে যায় অনেক নিচে। তাতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে হতে হতদরিদ্র হয়ে পড়ে। যার জন্য তারা মহাজনদের চক্রবৃদ্ধি হারের সুদের সাথে ঋণ শোধ তো দুরের কথা জমিদারের খাজনা দিতেও অপারগ হয়ে পেড়েছিল। অন্যদিকে সুদের মাহাজনরা বন্ধক ছাড়া কোন ঋণ দিত না-সেক্ষেত্রে কৃষকদের হাতে বন্ধক দেয়ার মতো সম্পদ ছিল বেশি ক্ষেত্রেই জমি। তাই জমিদার বা মাহজনদের কাছে দরিদ্র কৃষকের জমি আটকা পড়তে পড়তে এমন অবস্থায় এসে পড়েছিল যে, জমি চাষ করত যে কৃষক সেই কৃষকের হাতে ধরতে গেলে চাষের জমি একেবারেই কমে গিয়েছিল। এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া গোটা অর্থনীতির উপর পড়ে যখন বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্খা দেখা দেয় তখন ইংরেজ সরকার তৈরি করে ওই ১৯৩৬ সালের বেঙ্গল অ্যাক্ট-৭ আইন ।

আইন তৈরি করে ঋণ সালিসি বোর্ড করার মতো সুদুরপ্রসারি কার্যক্রম গ্রহন করার কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ ছিল, ওই সময় কৃষকের ক্রয়ক্ষতা একদম কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে গ্রামীণ ঋণগ্রস্ততা ও কৃষকের ভূমিহীন অবস্থা এতো বেড়ে গিয়েছিল যে, হিন্দু মুসলমানের দাঙ্গা বেধে যাওয়ার মতো অবস্থার অশঙ্খা ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কারণ জমিদার, তালুকদার আর মহাজনের সংখ্যায় হিন্দুরা ছিল বেশি । তাই বোর্ড অব ইকোনমিক ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করে তাদের কাছ থেকে সরকার সুপারিশ গ্রহন করেছিল। যাতে অকৃষকের কাছ থেকে কৃষকের কাছে জমি হস্তান্তর করা যায়-যারা জমি চাষ করে। ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ের কমিটি বেঙ্গল রিলিফ অব ইনডেটেডনেস বিল নামের আরও একটি বিল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

১৯৩৬ সালের বেঙ্গল অ্যাক্ট ৭ এপ্রিলে আইন পরিষদে আইন হিসেবে পাস হয়। ওই আইনের মূল লক্ষ্য ছিল ঋণগ্রস্ত হতদরিদ্র কৃষকদের সুদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য দেওয়ানি আদালতের সার্টিফিকেট মামলা রোধ করা। যাতে আদালত থেকে কাউকে দেউলিয়া না ঘোষনা করা হয়। বোর্ডের দায়িত্ব ছিল দুপক্ষের কথা শুনে মোহাজনদের কাছ থেকে আনুপাতিকহারে সুদ কমানো হয় এবং সহজ কিস্তিতে ঋণ শোধ করার ব্যবস্থা করা, যাতে মহাজনদের হাত থেকে চাষের জমি উদ্ধার করে, কৃষকের হাতে জমি ফেরত দেয়া যায়।

ঋণ সালিসি বোর্ডের গৃহীত কার্যকালাপের জন্য মহাজনদের নিকট থেকে সুদের মাধ্যমে নেয়া টাকা সংগ্রহ করা বন্ধ হয়ে গেলে কৃষকদের পুঁজির শূন্যতা তৈরি করে। যার জন্য কৃষকের হাতে একদম পুঁজি না থাকায় চাষের কার্যক্রমও খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। আবাদি জমি এতটাই কমে যায় যে, তাতে খাদ্য সরবারাহও কমে গিয়েছিল। এজন্য অনেকেই মনে করে ঋণ সালিসি বোর্ডের কার্যক্রমের জন্যই ১৯৪৩ সালের খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিল।

বর্তমান যুগে বড় বড় অত্যাধুনিক মিল কারখানা স্থাপন করার জন্য অনেক পুঁজি দরকার। কারণ অত্যাধুনিক মিল-কারখানার যন্ত্রপাতি সাজ-সরঞ্জাম কোনটাই অল্প পুঁজিতে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন অনেক অনেক বড় পুঁজি, যা কোনভাবেই এককভাবে বা একব্যক্তির পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। আর বড় বড় শিল্প কারখানা স্থাপন না করতে পারলে একদিকে যেমন বিপুল জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান হবে না, তেমনই বিশ্বের অন্যান্য শিল্পোন্নতো দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ও সম্ভব হবে না। তাই পুঁজির জন্য ব্যাংক ঋণ হোক আর অন্য যেকোনভাবেই হোক বড় পুঁজি সংগ্রহ করা দরকার।

ঋণগ্রহীতার ধরন অনুযায়ী বিভিন্নভাবে ঋণের শ্রেণীকরণ করা যায় যেমন: ব্যক্তিগত ঋণ, ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক ঋণ, স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। বর্তমানে ঋণদাতার শ্রেণীতেও বহুমাত্রিকতার যোগ হয়েছে। এর মধ্যে সরকারী ব্যাংক, বেসরকারি ব্যাংক, এনজিও, মাল্টিপারপাস সমিতি, স্থানীয় বিত্তশালী লোকজন, মহাজন, বর্গামালিক, উদ্বৃত্ত চাষি, স্বর্ণের দোকান মালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে ব্যাংকেরে ঋণে সুদের মাধ্যমে যেসব শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে তার মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠান সুদসহ পুঁজি ফেরত দিতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংক তাদের দেয়া পুঁজি উদ্ধার করতে মর্টগেজ দেয়া সম্পত্তি নিলামে উঠিয়েছে। তারপরও ব্যাংক তাদের লগ্নিকৃত পুঁজি সম্পূর্ণ উদ্ধার করতে পারেনি। তাতে দিন দিন ব্যাংকের ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

আবার ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতার কথা যদি বলা হয়, তবে একটি উদাহরণ দিলে কিছুটা অন্ততঃ অনুভ করা যাবে-ব্যাপারটা খুব সুখপ্রদ নয়। নোবেল বিজয়ী ইউনুস সাহেবের গ্রামীন ব্যাংকের প্রথম ঋণ গ্রহীতা নাহুয়াল মিথ; ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে তিনি বিনা চিকিৎসায়, না খেয়ে অনাহারে অর্ধাহারের পেষণে এ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। আজ তার দুটি মেয়ে অন্যের বাড়ি চাকরানীর কাজ করে এবং মানুষের নিকট হতে চেয়ে-চিন্তে অত্যন্ত মানবেতর ভাবে দিনাতিপাত করছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রচন্ড চাপে অনেকে যে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তার প্রমাণ প্রায়ই খবরের পাতায় পাওয়া যায়। স্মরণ করা যেতে পারে ২৩ এপ্রিল ২০০৮-এ যে সিডর বাংলাদেশে অঘান হেনেছিল তার ভয়াবহতা আর তীব্রতা এতো ব্যাপক ছিল যে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত মানুষ সেই সিডরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। যে সিডরের ভয়ঙ্কর আর ভয়াবহ রূপের কথা সাড়া পৃথিবীর মানুষ ভয়ের সাথে স্মরণ করেছে। অথচ ওই সিডরের মধ্যেও ক্ষুদ্র ঋণ দাতারা তাদের কিস্তি আদায়ের জন্য তৎপর ছিল যার প্রতিক্রিয়ায় পত্র-পত্রিকায় হৈই চৈই পড়ে গেলে তাদের কিস্তি আদায়ে কিছুটা সাময়িক শিথিলতা দেয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণে লগ্নি করছে, এমন বেশ কিছু সংগঠনের জোট হচ্ছে ক্রেডিট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)।  উক্ত সংগঠনের ২০০৫ সালের একটি প্রকাশনা থেকে জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক গঠনের পর থেকে যে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছে, তার পুঞ্জিভূত পরিমাণ ২১৭,৩১৩.৯ মিলিয়ন  টাকা (সিডিএফ : ২০০৫)। এ সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকের খাতকের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ছয় শ ৩২ জন। এদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার তিন শ ৮৩ জন। এ সময় গ্রামীণ ব্যাংকের  ক্ষুদ্র ঋণ বিস্তৃত ছিল ৪৮ হাজার চার শ ৭২টি গ্রামে । বর্তমানে ওই সংখ্যা আরো বেড়েছে। সিডিএফের কাছে ২০০৪ সালে তথ্য দিয়েছিল ক্ষুদ্র ঋণে লগ্নিকারী ৭২১টি প্রতিষ্ঠান। এদের ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া অর্থের পরিমাণ ২০০৪ সালে ছিল ৩৩৮,৬৩৫.৬৫ মিলিয়ন টাকা। এ ধরনের ৭২০টি প্রতিষ্ঠান ২০০৩ সালে দেয় ২৬৯,৪৭২.০৯ মিলিয়ন টাকা এবং ২০০০ সালে এ ধরনের ৫৮৫টি প্রতিষ্ঠান দেয় ১২৫,৬০৭.৬১ মিলিয়ন টাকা। উল্লেখিত পরিসংখ্যন থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিমাণে ঋণপ্রবাহ বিশেষ করে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে তা থেকে ঋণে জর্জরিত মানুষ কে উদ্ধার করতে ভবিষ্যৎ-এ শ’ শ’ ঋণসালিসি বোর্ড গঠন করলেও তাদের রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

বর্তমান বিশ্বে ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও অনেকটা অচলাবস্থা বা স্থবিরতা এসে পড়েছে। কারণ ব্যাংক চালাতে বিশাল জনগোষ্ঠির আকাশ ছোয়া বেতন ও অত্যাধুনিক এবং জাঁকজমকপূর্ণ চোখ ধাঁধানো কর্মপদ্ধতির প্রয়োগ প্রয়োজন হয়। যার জন্য  ব্যাংক পরিচালনা করতে বিপুল পরিমান খরচেরও প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে যারা ঋণ নেয় তারাও ঠিকমত সুদসহ ঋণ পরিশোধ করতে পারে না। তারপরও চড়া সুদ আদায় করেও ব্যাংক চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রমান পাওয়া যায় যদি আমরা গত কয়েক বছরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং অবস্থার চিত্র খুজতে যাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩ এবং ২০১৪ সালের প্রথম মাস পর্যন্ত যথাক্রমে ১৪০, ১৫৭, ৯২, ৫১, ২৪, ও ৩টি সহ মোট ৪৯২টি ব্যাংক দেউলিয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

সাড়া বিশ্বের সুদের দেনা-পাওনার অবস্থা পর্যপেক্ষন করলে মানব জাতির সামনে এখন সবচেয়ে উত্তম পথ হলো, সুদ বিহীন লেনদেনের পথ খুজে বের করা। সেজন্য বিল গেটস এর মতো ধনি লোকদের এগিয়ে আসতে হবে। বিল গেটস উদ্যোগি হয়ে একটা ক্লাব গঠন করেছেন, যারা সকলেই এক বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি করে অনুদান বা চাঁদা দিয়ে ক্লাবের সদস্য হয়েছেন। উনাদের উদ্দেশ্য মানব জাতির সেবা করা।  যাদের কাছে অঢেল বিত্ত পুঞ্জিভুত হয়ে আছে; অথচ ওই অঢেল বিত্ত কাজে আসছে না, বা মানুসিক সুখ দিতে পারছে না। মানুষকে সুদ মুক্ত করার জন্য; তাঁদের (বিত্তবানদের) গোটা মানব জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার ব্যাংকে পড়ে আছে, যার মালিক খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওইরকম টাকা বিশ্বে অনেক ধনি দেশই হয়তো পড়ে আছে। অলস যতো পুঁজি পড়ে আছে, সব নিয়ে মানবজাতিকে এগিয়ে আসতে হবে-সুদ বর্জন করার জন্য। প্রয়োজনে যে যে বিষয়ে দক্ষ অর্থৎ ইঞ্জিনিয়ার, কামার, কুমার যে-ই হোক তাদের সমিতির মাধ্যমে পুঁজি দিয়ে, অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে বড় বড় মিল করখানা, ব্যাংক, বীমা গঠন করে দিতে হবে। সকলে কাজ করবে সকলের নিজের কাজ। সেক্ষেত্রে সবাই দুনির্তীর বিরুদ্ধে গার্ড হিসেবে কাজ করবে। যাতে কেউ চুরি করে বা অপচয় করে পুঁজি বিনষ্ট করতে না পারে। তাহলেই হয়তো সুদের অভিশাপ থেকে মানব জাতির মুক্তি মিলবে।

যদি এই পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা মানুষের থাকে; তবে এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিশ্বে যতো জ্ঞানি-গুনি, বিশেষজ্ঞ আছেন, সকলেরই চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। মনে রাখতে হবে সুদ থেকে দুর্নীতি আর দুর্নীতি থেকে যতো যুদ্ধ বিগ্রহ অশান্তির সৃষ্টি হয়। তাই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে সুদ বিহীন পৃথিবী গড়তে হবে। শ্লোগান হতে হবে-সুদবিহীন পৃথিবী গড়বো আমরা সকলে।

 

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *