সিরিয়ায় দীর্ঘ অবস্থানের বিষয়ে ট্রাম্পকে বুঝিয়েছে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ | sampadona bangla news
বুধবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিরিয়ায় দীর্ঘ অবস্থানের বিষয়ে ট্রাম্পকে বুঝিয়েছে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ

সম্পাদনা অনলাইন : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে’ সিরিয়ায় অবস্থানের ব্যাপারে প্যারিস ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এ দেশের ব্যাপারে মার্কিন মিশনের ‘কোনো পরিবর্তন নেই।’ খবর এএফপি’র।
সিরীয় সরকারের বিভিন্ন অবস’ানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নজিরবিহীন অভিযানে ফ্রান্স যোগ দেয়ার একদিন পর রবিবার ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেন, এ হস্তক্ষেপ আইনসম্মত। তিনি সাত বছরের এ বর্বর যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ দিতে আন্তর্জাতিক ক্ষমতাধরদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
একটি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাতকারে ৪০ বছর বয়সী মধ্যপন্থী এ নেতা বলেন, ‘আমরা বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি না।’
প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আবারো যুক্তি তুলে ধরে ম্যাক্রোঁ বলেন, যে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারকারীরা শাস্তি পাবে না এমনটা হতে পারে না।
পশ্চিমা এ দেশ বলছে দৌমা শহরে বিষাক্ত গ্যাস হামলার জবাবে কথিত রাসায়নিক অস্ত্রের তিনটি স্থান লক্ষ্য করে শনিবারের বিমান অভিযান চালানো হয়।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বৈধতা পরিপূর্ণভাবেই আমাদের রয়েছে।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য রাসায়নিক অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করেই নির্ভুল অভিযান চালায়।
মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশে ম্যাক্রোঁ বলেন, সিরিয়া যুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদে অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে ট্রাম্পের মনের পরিবর্তনে ফ্রান্স সহায়তা করে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘মাত্র ১০ দিন আগে ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র যতদ্রুত সম্ভব সিরিয়া থেকে চলে আসতে চায়।’ তিনি তার সাক্ষাতকারীদের বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি যে সিরিয়া যুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদে অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে আমরা ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’ তবে ম্যাক্রোঁর এ সাক্ষাতকার প্রচার করার পরপরই হোয়াইট হাউস জানায়, সিরিয়ার ব্যাপারে মার্কিন মিশনের কোনো পরিবর্তন নেই।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে যত দ্রুত সম্ভব তিনি সৈন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আইএস’কে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া আমরা সেখানে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই যেটা আইএসের ফিরে আসাকে প্রতিরোধ করবে। আমাদের আঞ্চলিক মিত্র ও অংশীদাররা এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সামরিক ও আর্থিক উভয় ক্ষেত্রেই আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে বলে আশা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*