সব সিটিতেই জয় চায় আওয়ামী লীগ | sampadona bangla news
বৃহস্পতিবার , ২১ জুন ২০১৮

সব সিটিতেই জয় চায় আওয়ামী লীগ

সম্পাদনা অনলাইন : খুলনা সিটি নির্বাচনের পর এবার চার সিটির দিকে নজর আওয়ামী লীগের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব সিটি করপোরেশনে জয় নিশ্চিত করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মনোবল আরো চাঙ্গা থাকবে। এ ছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও অনেকাংশে কমে আসবে। অন্য দিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশ ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। যার সুফল মিলবে জাতীয় নির্বাচনে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, খুলনা সিটির মতো বাকি সিটি করপোরেশনগুলোতেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। কারণ জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত দল বিএনপি থেকে এরই মধ্যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছে এবং বাকিগুলোতেও হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, খুলনায় বিজয়ের পর আওয়ামী লীগের চোখ এখন গাজীপুরে। আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ সিটির নির্বাচনে জয় পেতে এরই মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকেরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতীয় নির্বাচনের আগে আরো চারটি সিটি নির্বাচন ঐক্যবদ্ধভাবে করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সূত্রগুলো জানায়, খুলনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বিজয়ী হলেও বিএনপি প্রার্থীর ভোটের হিসাব দেখে অবাক ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এত দুরবস্থার মধ্যেও বিএনপি প্রার্থী কিভাবে এত ভোট পেল তা নিয়ে দলীয় ফোরামে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। পরের সিটি নির্বাচনগুলোতে বিষয়টি ভালোভাবে খেয়াল রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর গাজীপুর ছাড়াও বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য দলীয় প্রার্থী ঠিক করতে কাজ করছেন নেতারা।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর খুব একটা বেশি দেরী নেই। এর ঠিক আগ মুহূর্তে অনুষ্ঠিত এসব সিটি নির্বাচনে কোনো ধরনের নেতিবাচক ফলাফল এলে তা জাতীয় নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া এসব নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হলে জাতীয় নির্বাচনে সরকারের ওপর চাপ বাড়ত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারত। আর বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পথে যায় তাহলে এসব নির্বাচনের ফল তাদের জন্য ইতিবাচক হতো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও জনপ্রিয় দল হিসেবে বিএনপিকে নিয়েই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার সুযোগ পেত। অন্য দিকে এসব নির্বাচনে বিএনপি হারলে তারা নিজেদের জনপ্রিয় দল হিসেবে আর প্রমাণ করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সরকারের ওপর তেমন কোনো বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। এতে বিএনপিকে বাইরে রেখেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান সহজ হবে। চার সিটিতে যদি আওয়ামী লীগ জয়ী হয় তাহলে ‘বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব না’- এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি থাকবে না। সেজন্য সিটি নির্বাচনে কোনোভাবেই হারতে চায় না আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি দিয়েই বিএনপিকে ঘায়েল করতে চাইছে সরকার। যেন কারো কাছে এটি মনে না হয়, বিএনপি নেই তাই নির্বাচন অর্থহীন। বরং জনগণের কাছে বিএনপির আগের আবেদন নেই, এটি প্রমাণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যাতে আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা না করা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু না হয়।

এ দিকে নির্বাচনের আগে সব সিটিতে জয় নিশ্চিত করতে চাইলেও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে খানিকটা শঙ্কা রয়েছে। এখানে গতবারের মেয়রপ্রার্থী আজমতউল্লাহ খানের সাথে বর্তমান মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিরোধ চরমে। জনপ্রিয় শ্রমিকনেতা আজমত উল্লাহ খানকে নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি করা হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েই গেছে। বিষয়টি কেন্দ্র পর্যন্ত গড়িয়েছে একাধিকবার। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা থেকে সরাসরি ফোন করে আজমত উল্লাহ খানকে ধমকও দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লাহ খান দলীয় লোকজনকে বাদ দিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী পরিচালনায় বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন বলে খবর বেরিয়েছে। তার অভিযোগ, দলের পরীক্ষিত এবং ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম তার পছন্দের লোকজনকে এজেন্ট করছেন। মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বদলে গাজীপুরে জাহাঙ্গীর লীগ তৈরির চেষ্টা করছেন বলে আজমত উল্লাহ খানের সমর্থকেরা অভিযোগ করছেন। তবে জাহাঙ্গীর আলম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে নির্বাচনী অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ নৌকা প্রতীককে হারাবার জন্য ভেতর থেকে কাজ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর দুইজন সদস্য বলেন, গাজীপুরে দলীয় কোন্দল নিয়ে দল খানিকটা বিপাকে রয়েছে। নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে তা ঠিক হয়ে যাবে। আর শেষ পর্যন্ত নৌকার প্রার্থীর বিজয় হবে বলেই আমরা মনে করি।
এক নেতা বলেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগ হারলেও তেমন সমস্যা হবে না। বরং এতে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি বরং উজ্জ্বল হবে। এতে বিএনপিও নির্বাচন কমিশন নিয়ে আর প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আর পরের তিন সিটিতে অনায়াসে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*