শিমুলিয়ায় ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়

সম্পাদনা অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলামুখী মানুষের ভিড় শনিবারও অব্যাহত ছিল, দেখে মনে হচ্ছে ঈদের ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার ভিড়। ভোর রাত থেকেই এই ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই রাজধানী ঢাকা বা আশপাশের এলাকা থেকে সেহেরি খেয়েই রওনা হয়ে গেছেন। তাই সরকার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ছিল ঘরমুখো মানুষের ঢল। লঞ্চ, স্পিটবোড বন্ধ থাকায় ফেরিতে করেই লোকজন পারাপার হচ্ছে। তাই ফেরিতে গাড়ি দেখাই যাচ্ছে না। লোকে লোকারণ্য। শারীরিক দূরত্বে বালাই নেই। গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মা পার হচ্ছে।

লৌহজং উপজেলার এই ঘাট দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকামুখী মানুষের প্রবল স্রোত ছিল। কিন্তু শুক্রবার থেকে স্রোত এখন চলছে উল্টো দিকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে এই ভিড়ও কমে যায়। কারণ হিসাবে মাওয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জেএম সিরাজুল কবির জানান, খুব ভোরে ভিড় ছিল প্রচন্ড রকেমের। কিন্তু শিমুলিয়া মোড়ে হাইওয়ে পুলিশ ব্যারিকেট দিলে ভিড় কমে আসে।

তিনি জানান, শনিবার শিমুলিয়া-কাঁঠাবাড়ি রুটে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় বেলা সোয়া ১১টায় পণ্যবাহী ৬০টি ট্রাক এবং ছোট আকারের প্রায় ৫০টি যান পারাপারে অপেক্ষায় ছিল।

তিনি বলেন, মাওয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, “ঢাকা থেকে যারা শনিবার ফিরছে, এদের মধ্যে গার্মেন্টস কর্মী তেমন দেখা যায়নি। এদের বেশীরভাগই অন্যান্য পর্যায়ের লোকজন মনে হচ্ছে। যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য বা অন্যান্য কাজের জন্য গিয়েছিলেন। আবার লকডাউন হয়ে যাওয়ায় খোলার মত পরিবেশ না থাকায় এবং সাধারণ ছুটি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, শনিবার ঢাকার দিকেও কিছু কিছু যাত্রী যাচ্ছে। যারা বাড়ি এতদিন ছিলেন, এখন ঢাকায় ঈদ করবেন এমন লোকজন মনে হয়েছে। তিনি বলেন, বাস না থাকলেও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের ছোট ছোট ডানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে তারা রাজধানী ঢাকা থেকে ঘাটে আসছে।

শিমুলিয়া ঘাটে ভোরে দেখা যায়-দক্ষিণবঙ্গমুখী বহু মানুষ ফেরির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ফেরি ঘাটে আসা মাত্রই লোকজন ওঠার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে কোনো রকমে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন, এরপর গাদাগাদি করেই পার হচ্ছেন পদ্মা। লোকজনের চাপে ফেরিতে উঠতে বেগ পেতে হচ্ছিল গাড়িগুলোকে। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবারও চাপের কারণে ১৩ ফেরি চলাচল করছে। তবে ভোরে চাপ বেশী ছিল। আস্তে আস্তে কমে আসছে।

ভোরে মোটারসাইকেল নিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী মনির হোসেন বলেন, সরকার সাধারণ ছুটি বাড়িয়েছে, তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আরেক যাত্রী নাম প্রকাশ না করেই বলেন, দোকান-পাট খুলবো তাই গিয়াছিলাম। পরিবেশ নাই তাই বাড়ি ফিরা যাচ্ছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *