লেনদেনে ধীর গতি : ব্যাংকগুলোতে সঙ্কট প্রকট | sampadona bangla news
মঙ্গলবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

লেনদেনে ধীর গতি : ব্যাংকগুলোতে সঙ্কট প্রকট

সম্পাদনা অনলা্ন : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পেছনে সুইফট সিস্টেমের সাথে নতুন সফটওয়্যার আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) সংযোগকে দায়ী করা হয়। তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নরকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক অতিউৎসাহী নির্বাহী পরিচালকের পরামর্শে এ সংযোগ দেয়া হয়েছিল অভিযোগ আছে। রিজার্ভ চুরির দুই বছরের মাথায় সেই আরটিজিএস সার্ভার এবার বিকল হয়ে পড়েছে। ব্যয়বহুল এ সার্ভার বিকল হয়ে পড়ায় ব্যাংক লেনদেনে গতি ধীর হয়ে পড়েছে।

আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে চার হাজারটি লেনদেনের বিপরীতে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতো, এখন তা দেড় হাজার লেনদেনে নেমে এসেছে। অতিপ্রয়োজনীয় লেনদেন করতে না পারায় ব্যাংকগুলোতে সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতিতে লেনদেনগুলো সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, ব্যাংক লেনদেন দ্রুত করার অজুহাতে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে আরটিজিএস সিস্টেম চালু করা হয়। একই সাথে নতুন এ সফটওয়্যার সুরক্ষিত সুইফটের সাথে সংযোগ দেয়া হয়। ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা এর বিরোধিতা করেছিলেন। তা ছাড়া অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুইফট সিস্টেমের সাথে আরটিজিএস সংযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শকেরা।

কিন্তু কোনো কিছুরই পাত্তা না দিয়ে ওই সময় এ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালকের নির্দেশে সুইফট সিস্টেমের সাথে আরটিজিএস সংযোগ দেয়া হয়। এর কিছু দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হয়ে যায় ১০১ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে মাত্র ৩৫ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা হলেও আজো ৬৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সাড়ে ১৪ মিলিয়ন ডলার কে নিয়েছে বা কোথায় গেছে তাও সনাক্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেই আরটিজিএস সিস্টেমই এখন বিকল হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, আরটিজিএস পদ্ধতিতে এক ব্যাংকের গ্রাহক আরেক ব্যাংকের গ্রাহককে এক লাখ টাকার বেশি যে কোনো অঙ্কের অর্থ তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে পারেন। ২০১৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৫টি ব্যাংকের ৭০০ শাখায় লেনদেন হয়েছে।

প্রতি কর্মদিবসে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এ ব্যবস্থায় পেমেন্ট অর্ডার দেয়া যায়। এ পদ্ধতিতে দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা যায়। এর বাইরে অনলাইন প্লাটফর্মে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটিএন), অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনপিএসবি) পদ্ধতিতে লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।তবে এ ব্যবস্থায় লেনদেন নিষ্পত্তিতে এক দিনের বেশি সময় লাগে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কারণে ব্যাংকগুলোতে গিয়ে তাৎক্ষণিক লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারছেন না গ্রাহক। চলতি মাসের প্রথম থেকেই এ সমস্যা চলছে।

সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় ব্যাংকগুলোকে অবহিত করে চিঠি পাঠিয়েছে পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে গত দুই দিন ধরে আরটিজিএস সঠিকভাবে কাজ করছে না। সমাধানে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। অতিপ্রয়োজনীয় লেনদেনগুলো বিকল্পপদ্ধতিতে সম্পন্ন করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে ২১ কর্মদিবসে আরটিজিএসের মাধ্যমে ৮৯ হাজার ৫৫০টি পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে এক লাখ ৭৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়। আগের মাস নভেম্বরে ২২ কর্মদিবসে ৯৪ হাজার ৬৭৩ পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে লেনদেন হয়েছিল এক লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*