রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ক্ষতি হবে অর্থনীতির | sampadona bangla news
রবিবার , ২৭ মে ২০১৮

রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ক্ষতি হবে অর্থনীতির

সম্পাদনা অনলাইন : আজ থেকে শুরু হওয়া নতুন বছরে প্রত্যাশার মধ্যেও থাকছে কিছু চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম না হলে অর্থনীতির অনেক সূচকেরই নিম্নগামিতা দেখা দিতে পারে। ব্যবসায়িক অঙ্গনেও নতুন বছর নিয়ে শংকা কাজ করছে। বিশেষত: ২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। এমনিতেই গেল বছরেও বিনিয়োগ স্থবিরতা ছিল অর্থনীতির বড় দুর্বলতা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর হবে রাজনীতি কর্তৃক পরিচালিত। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি হবে- তা নিয়ে সংশয়, সন্দেহ রয়েছে। বিগত সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা নতুন করে দেখা দিতে পারে, এমন শংকা ব্যবসায়ীদের। তা যদি হয়, সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কর্মসংস্থানও বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরাও।
এমনিতেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কমে এসেছে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে এই বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১.৮ শতাংশে নেমে আসে। ফলে নতুন বছরে কর্মসংস্থান বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৭ ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। বাংলাদেশে যে ভিশন বা লক্ষ্য রয়েছে তা অর্জন করতে হলে এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী।
এদিকে রাজনীতি উত্তপ্ত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে রাজনীতিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্তরায় না বানিয়ে দ্রুত বাড়ন্ত অর্থনীতির দেশ হিসাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। তাদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য অগ্রসর হলে দেশে কর্মসংস্থান হবে এবং মানুষের আয় বাড়বে। তাতে উন্নত দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগুনো সম্ভব হবে।
বিগত বছরে ব্যাংকিং খাতে যে অস্থিরতা ছিল, তা চলমান থাকবে কি না- সে সংশয়ও ব্যবসায়ীদের। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ব্যাংক খাতে চলমান অস্থিরতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর ভূমিকা রাখা উচিত। নজরদারি বাড়াতে শক্তিশালী আইনও প্রয়োজন।
নতুন বছরে আর্থিক খাত সুসংহত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় গেল বছরের মতই যদি ব্যাংক খাতে অস্থিরতা থাকে কিংবা ‘হঠাত্ পরিচালনা পর্ষদ’ বদল হওয়ার ঘটনা ঘটে, তা সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী অনেকগুলো ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করছে। ৪৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের অভাবে এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, মোট দেশজ উত্পাদনের অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, অর্থপাচারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অস্থিতিশীলতা ও অদূরদর্শিতা প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামপ্রতিক বছরগুলোতে আবির্ভূত হয়েছে। যা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজস্ব আয় হ্রাস, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নে অর্থায়ন ঘাটতি হতে পারে।
তিনি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে এমন কৌশল গ্রহণ, আর্থিক খাতে প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*