রবির ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়েছে এনবিআর | sampadona bangla news
বৃহস্পতিবার , ২৪ মে ২০১৮

রবির ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়েছে এনবিআর

সম্পাদনা অনলাইন : রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে জব্দ করা মোবাইল ফোন অপারেটর রবির ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি পাওনা পরিশোধের ‘অঙ্গীকারনামা’প্রদান করায় বৃহস্পতিবার রবির ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে চিঠি দিয়েছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন মূসকের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) কমিশনার মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘বৃহৎ করদাতা ইউনিট, মূসক দফতর থেকে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব অপরিচালনযোগ্য (ফ্রিজ) করার জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়। অতঃপর প্রতিষ্ঠানটি এই মর্মে অঙ্গীকারনামা দেন যে, অবলিম্বে সরকারি পাওনা পরিশোধ করবে। এমতাবস্থায়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব পরিচালনযোগ্য (আনফ্রিজ) করার অনুরোধ করা হলো।’
এর আগে রবির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) রনি থমি সই করা একটি অঙ্গীকারনামার চিঠি এলটিইউ কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়।
রবির ব্যাংক হিসাব খোলার অনুমতির বিষয়ে কমিশনার মতিউর রহমান বলেন, ‘রবির সিএফও আমাকে চিঠি পাঠিয়েছেন আজকে ব্যাংক হিসাব খুলে দিলে রবিবার টাকা দিয়ে দেবেন। বাকি যে রাজস্ব রয়েছে-যেগুলোর জন্য মামলা হয়নি সে টাকাগুলোও দ্রুত দিয়ে দেবেন। তাদের কথার ওপর আস্থা রেখেই আমরা তাদের ব্যাংক হিসাব যেটি অপরিচালনযোগ্য (ফ্রিজ) করেছিলাম তা আজ পরিচালনযোগ্য (আনফ্রিজ) করে দিয়েছি।’রবি তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আগামী রবিবার সরকারি পাওনা পরিশোধ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলটিইউ কমিশনার বলেন, ‘সরকারের পাওনা রাজস্ব যদি রবি সঠিকভাবে পরিশোধ করে, তাহলে আইন অনুযায়ী যে সাপোর্ট পাওয়ার তা তারা পাবে। তবে রবিবারের মধ্যে তারা যদি পাওনা রাজস্ব পরিশোধ না করে-তাহলে আগামী সোমবার আবারও তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হবে।’
এদিকে, সকালে এলটিইউ এর সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রবির ব্যাংক হিসাব জব্দে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তা স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।
এদিকে প্রায় ১৯ কোটি টাকার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ফোন অপারেটর কোম্পানির ব্যাংক হিসাব তিন কার্যদিবসের জন্য বন্ধ রাখতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের চিঠি দেয় এনবিআর।
এই চিঠি ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান চ্যালেঞ্জ করে ২৭ ফেব্রুয়ারি রিট করে রবি। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুল দেওয়ার পাশাপাশি ওই চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এতে স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*