যৌনতা (সেক্স)-২

 

মীর আখতার হোসেন নজরুল: বংশ সংরক্ষণের প্রয়োজন থেকে সৃষ্টির নিয়ম অনুযায়ী স্বতঃস্ফুর্তভাবেই মানুষ পেয়েছে যৌনকাঙ্খা-ব্যাপারটা প্রাকৃতিকই বলা চলে। পেটের ক্ষুধার পরই জীবজগৎ-এ মানুষের যৌনকাঙ্খা প্রবল এবং দ্বিতীয় প্রধান চাহিদা। এজন্য প্রাচীন কাল থেকে আধুনিক এই সভ্যতা পর্যন্ত যৌনতা বহু বিপত্তি অন্যদিকে আনন্দ উপহার দিয়ে আসছে মানুষকে । প্রাচীনকালে মানুষ যৌনতার অভিশাপ থেকে বাঁচার জন্য যৌনতার প্রতীকের মূর্তী পর্যন্ত গড়ে তার পুঁজা করত। এখন পর্যন্ত ভারত এবং এর বাইরেও যৌন আবেগের প্রকাশ বিভিন্ন উৎসব আনন্দে মূর্তী বা প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে।

যৌন আবেদনের ফল, সন্তান জন্ম। এবং তার উত্তরাধিকার থেকে পরিবার বংশ, গোত্র, সমাজ, জাতি এবং সম্ভবত রাষ্ট্রেরও উৎপত্তি হয়েছে। গোত্রীয় ও উপজাতীয় জীবন কোন এক সময় মাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো। পুরুষ শ্রম দিয়ে উৎপাদন করত আর মা তা বন্টন এবং খরচ করতেন। যুগের বিবর্তনে যা এখন পুরুষশাসিত রূপ নিয়েছে।

যৌন আবেগ ও আকর্ষণ প্রায় অদম্য। যার ওরপ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব। তাই যৌন আবেগ বা চাহিদাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বা সভ্য করতে
নর-নারীর মিলন একদিন রূপ নেয় বিয়েতে। জগৎ সৃষ্টির বিবর্তনে আজকের বিয়ে বা পরিবার এভাবেই হয়তো এ সভ্যতা তৈরিতে সহায়ক হয়েছে। যৌন মিলনকে প্রাতিষ্ঠানিক বা সভ্যরূপে রূপ দান করতে সমাজকে অনেক ক্ষতিও স্বীকার করতে হয়েছে। এমনকি মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। যার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল বৈরাগ্যবাদ। বৈরাগ্যবাদীরা মনে করতেন যৌন আবেগ কে অবদমিত করতে পারলেই শান্তি পাওয়া যাবে আসবে মানবতার মুক্তি-দুর হবে সমস্ত অশান্তি। সেজন্য মিসর, গ্রীস, ভারতবর্ষ, চীন, ইউরোপ এবং আরো বহু জায়গায় বৈরাগ্যবাদ সথেষ্ট প্রসারও লাভ করেছিল। এব্যাপারে বেশি পানি ঢেলেছে খ্রীষ্টবাদ। কারণ যিশু নিজেই বিয়ে করেননি-তিনি কখনই মিলিত হননি কোন নারীর সাথে। তাই খ্রীষ্ট পাদ্রীরা নারী থেকে এমনভাবে দুরে থাকতে আরাম্ভ করে যে, তাঁরা মনে করতো নারী বা যৌনতা মানেই কোন নোংরা ক্লেদময় অবস্থা। এ জন্য সেন্ট বেসিল বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোন নারীর সাথে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করতেন না। সেন্ট জন আটচল্লিশ বছর পর্যন্ত কোন নারীর চেহারা দেখেননি। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি পাদ্রীরা এতই বিরক্ত হয়ে পড়েছিল যে, তারা মা বোনের সাথেও দেখা করত না। সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারীকে জন্মদান করার জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সম্রাজ্ঞী জানুবীয়া তার স্বামীর সাথে যৌন মিলনে রাজি হতেন না। পিশা যদিও বিয়ে করেছিলেন কিন্তু সারা জীবন কুমারি ছিলেন-স্বমীকে কখনো তাঁর সাথে মিলন করতে দেননি।

নরী বিমুখতার চরম অবস্থার প্রতিক্রিয়াও সমাজ ও মানুষকে করেছে আরো ক্লেদাক্ত। লেকি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইউরোপের নৈতক চরিত্রের ইতিহাসে’ লিখেছেন, পোপ জন বিসেট গোপনে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছেন। এমনকি নিজের মা বোনের সাথে পর্যন্ত ব্যভিচার করেছেন। ১১৭১ খৃষ্টাব্দে ক্যানটার বারীর বিশপ শুধু একটি ক্ষেত্রেই সতেরটি অবৈধ সন্তানের পিতা বলে প্রমাণিত হয়েছিলেন। এরকম বহু উদাহরণ আছে যা বর্ণনা করতে গেলে বহু পাতা ব্যয় করলেও বর্ণনা শেষ হবে না।

যৌন আবেদনের আর একটি জটিল ব্যাপার হলো-মানুষ যখন যৌনতাকে অবদমন করে তখন মেজাজ ও স্বভাব-প্রকৃতি ওই চেষ্টা সাধনাকে গ্রহণ করতে পারে না। কারণ মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি এমন যে, তার মধ্যে যৌন আবেগ ও চাহিদা প্রচন্ডভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত তার যৌন চাহিদা পূরণ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত যে স্বাভাবিক হতে পারে না। ১৯৫৭ সালের মার্চে বৃটেনের একদল মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এগার হাজার মানসিক রোগীর কেস হিষ্ট্রি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেন যে, “মনের শান্তি ও নানাবিধ মানসিক রোগ থেকে রক্ষা পেতে বিয়ের চেয়ে ভাল কিছু আর হতে পারে না।”

প্রাচীন কাল থেকে বৈরাগ্যবাদের পাশাপাশি অবাধ যৌচারের ধারণটিও বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। অবাধ যৌচারের যুক্তি হলো যেহেতু যৌনকাঙ্খা প্রাকৃতিক তাই তাতে বাধ সাধার কোন অবকাশ নেই। অন্যান্য প্রকৃতিগত আকাঙ্খার মত তার ও (যৌনকাঙ্খা) পরিতৃপ্তির ব্যবস্থা থাকা দরকার। এ ব্যাপারে সঠিক ও বেঠিক এবং বৈধ অবৈধতার বাধ্যবাধকতা আরোপ নির্থক। এজন্য হিন্দু পুরাণেও (বেদ) গণিকা (যৌনকর্মী) শব্দটির পরিচয় পাওয়া যায়। বাইবেলের নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, একদা একদল লোক যিশুর সময়ে এক ব্যভিচারিনীকে উপস্থাপন করে যিশুকে তার বিচারের জন্য অনুরোধ করেছিল। তখন যিশু বলেছিলেন, ‘যে তোমাদের মধ্যে নিস্পাপ সে ওই ব্যভিচারিনীকে প্রথম পাথরটি মারো।’ একথা শুনে যুবা থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেই মাথা নীচু করে চলে গিয়েছিল। অশিষ্ট ছিল শুধু যিশু নিজে। (যোহন, অধ্যায়-৮) এতে উপলদ্ধি করা যায় আজ থেকে দুই হাজার বছর আগেও ব্যভিচারমুক্ত কোন লোক ছিল না। সেন্ট অগাষ্টাইন দেহ পসারিনীদের (যৌনকর্মী) পেশাকে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন। সিসেরোর মত পন্ডিত ও দার্শনিক তার এক বক্তৃতায় বলেছেন, “যুবকদের বেশ্যাদের (যৌনকর্মী) সাহচর্য থেকে দুরে রাখা তাদের জন্য কঠিন হবে-এটা শাস্তিই বলা চলে।” বর্তমানে কিছু মুসলিম দেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশে যৌনকর্মীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা আছে। বাংলাদেশে আজও পতিতালয় অবশিষ্ট আছে-যদিও ঢাকার পতিতালয় সহ বড় বড় পতিতালয় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যৌনকর্মীদের পুর্বাসন করা হয়নি-তারা সমমাজের মধ্যে মিশে গেছে।

আধুনিক যুগে নারী আর সেই আগের পর্যায়ে নেই। এখন নারীর হাতে অনেক ক্ষমাতা। যুগের প্রয়োজনে নারী পেয়েছে অনেক স্বাধীনতা। প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে থেকেই জানা যায় প্যারিসে যে সব বিয়ে হয়েছে তার নব্বই ভাগই বিয়ের আগেই যৌনতায় লিপ্ত হয়েছে। ৫৫ সালে ফ্রান্সের মেডিকেল বোর্ড রিপোর্ট দিয়েছিল সে দেশে একটিও সতি সাধ্বি নারী নেই-আর এ জন্য তারা গর্বিত। বৃটিশ মেডিকেল বোর্ডও ওই সময় বলেছে, তাদের দেশে প্রতি তিন জন্ নারীর মধ্যে একজনই নিজের ইচ্ছায় যার সাথে খুশি যৌন সম্পর্ক তৈরি করে। যার ফলে ২০টি শিশুর মধ্যে একজনই হতো অবৈধ সন্তান।

আধুনিক আমেরিকাবাসী যৌন উচ্ছঙ্খৃলতার দিকে যেন দৌড়িয়ে এগুচ্ছে। যৌনাতার খোলাখুলি হাতছানি এখন যেন চারিদিকে ছড়াছড়ি। আমেরিকার রাজনৈতিক জীবন পর্যন্ত যৌনতার উত্তাল তরঙ্গে ভেসে যাচ্ছে। যৌনাতাকে এখন হাতিয়ার বানিয়ে কি না হচ্ছে। মন্ত্রী, সরকারী কর্মচারী, সিনেমা, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপনে এখন যৌনতাই যেন একমাত্র হাতিয়ার। এমনকি আমেরিকার প্রসিডেন্ট ক্লিন্টন পর্যন্ত মনিকার সাথে যৌনতার যে বিকৃতি দেখিয়েছেন, তা আমেরিকায় ইতিহাস হয়ে আছে। ওই ব্যাপারে যে কেলেঙ্কারির কথা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে সাড়া আমেরিকাবাসী স্তম্ভিত হয়ে পেড়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কুমারী মায়ের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘চাইল্ড ট্রেন্ড’র সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ জরিপে উদ্ঘাটিত হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ৫ দশকে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী কুমারী মায়ের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। তবে গরিব পরিবার এবং স্কুল-কলেজ থেকে ড্রপআউট হওয়া মহিলার মধ্যেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্তান ধারণের ঘটনা বেশি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালে যত শিশু জন্মেছে তার ৪১ শতাংশ কুমারী মা। এসব শিশুর ৭৩ শতাংশ জন্মেছে কৃষ্ণাঙ্গ কুমারী মায়ের গর্ভ থেকে। ল্যাটিন ৫৩ শতাংশ এবং শ্বেতাঙ্গ কুমারী মায়ের সংখ্যা হচ্ছে ২৯ শতাংশ। সরকারি তথ্যের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় আরও জানা গেছে, কলেজে নিয়মিতভাবে পড়াশোনা করছে এবং গ্র্যাজুয়েশন করেছে—এমন মহিলাদের খুব কমসংখ্যক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তান নিচ্ছে। এক সময় আমেরিকায় এসব শিশুকে অবৈধ শিশু হিসেবে অভিহিত করা হলেও এখন আর সে ধরনের শব্দ কেউই উচ্চারণ করে না। অর্থাত্ বিষয়টি এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এমনকি এখন কেবল গরিব এবং সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের মধ্যেই তা সীমিত নেই, বিস্তৃত হয়েছে সব শ্রেণীর আমেরিকানদের মধ্যেও।

আমেরিকার রোগ প্রতিরোধক গবেষণা থেকে জানা যায়, ত্রিশ বছর বয়সি চার জনের একজন নারী এখন বিয়ে ছাড়াই পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত। ১৫-৪৪ বয়সি ১২,২৭৯ জনের মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে এর মধ্যে ৪০ শাতাংশ অবিবাহিত। অর্থনৈতিক ঝুকির জন্য ৪৮ ভাগা নারী বিয়ে করতেই নাজি নয়।

নারী অধিকার নিয়ে বলিউড সুপারস্টার দিপীকা পাড়ুকোনের ‘মাই চয়েস’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। ‘মাই চয়েস’ এ দিপীকার মুখে শোনা যায়, ‘আমার সিদ্ধান্ত, আমি বিয়ে করবো কি করবো না। বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে জড়াবো নাকি বিয়ের পরে, নাকি বিয়ের বাইরে গিয়ে জড়াবো। নাকি জড়াবো না। এটা আমার সিদ্ধান্ত।’ নির্মাতা হোমি আদাজানিয়া নির্মীত ‘মাই চয়েস’-এ মূলত তুলে ধরা হয়েছে সমাজ এবং পুরুষের চোখে নারীদের নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণাকে। নারীর শরীর, যৌনতা, পেশা এবং জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নারীরই- এমন বক্তব্যই তুলে ধরে এটি। উল্লেখ্য ভারতীয় চলচিত্র সেদেশের মানুষের উপর বিশেষ করে নারীদের উপর খুবই শক্তিশালীভাবে প্রভাব বিস্তার করে।

নারীবাদীরা নারী স্বাধীনতার নামে নারীকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়, তা হয়তো অনেকে নিজেরাও বোঝে না। বাংলাদেশের নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার প্রমাণ। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন, আবার প্রত্যেক স্বামীকে ছুঁড়েও ফেলে দিয়েছেন। তিনি প্রেম বলতে কি বুঝাতে চান তা বুঝা যায় না। একদিকে তিনি চান পুরুষ তার দেহের কামজ্বালা মিটাক কিন্তু সে (পুরুষ) যেন তার দাসের মতো থাকে। বিশ্লেষণ করলে সোজা কথায় দাঁড়ায় তিনি হয়তো পুরুষকে ধর্ষণ করতে চান। তসলিমা নাসরিনের আরেকটি উপলদ্ধি বেশ খাপছাড়া, তিনি চান না পুরুষ নারীর দিকে কামনা নিয়ে এগিয়ে যাক। তিনি হয়তো চান নারীর যে পুরুষকে পছন্দ হবে তার দিকে সে (নারী)এগিয়ে যাবে। তিনি হয়তো চান পুরুষের নারী প্রতি কোন বাধ ভাঙ্গা আকর্ষণ বা কামনা থাকবে না। প্রয়োজনে পুরুষ বৈরাগী বা বিশেষ ক্ষেত্রে সাধু হয়ে যাবে! অর্থাৎ নরী লোভনীয় হলেও তার দিকে কেউ কাম দৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না! এখানে প্রশ্ন, নারী-পুরুষের আকর্ষণ বা কামনা যদি না থাকে তার অর্থ কি দাঁড়ায়, তা ব্যাখা করা খুবই দুরহ। সৃষ্টি তত্ব, ফ্রয়েডের মনোবিজ্ঞানের নারী-পুরুষের প্রেম নিয়ে বিশ্লেষণ, আদিম সত্তা বা আদস সবই অর্থহীন হয়ে গেলে যাক। তিনি ব্যক্তি জীবনে একজন চিকিৎসক হলেও-বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ যে স্বতঃস্ফুর্ত-তা তিনি (তসলিমা নাসরিন) বুঝতে নারাজ। যদিও তিনি চিকিৎসক হিসেবে ফিজিওলজি গাইনোলজি-সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি বোঝেন!

কর্ণাটকে ১৯৬১ সালের একটি আইন (দোকান এবং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান আইন) প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। আইনটি হলো-মেয়ারা রাত আটটার পার কোন কাজ করতে পারবে না। কারণ-নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেহেতু ভারতে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নটি সাড়া বিশ্বে বেশ জোরে আলোচনায় এসেছে। তাই হয়তো আইন প্রণেতাগণ বা আইন প্রয়োগকারীগণ এ ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন। এ নিয়ে তসলিমা নাসরিন এক নিবন্ধে জ্বালাময়ি ভাষায় মন্তব্য করেছেন ভারতীয় নারীদের আবার মধ্য যুগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! নারীর পায়ে শিকল পড়ানর জন্যই ওই ব্যবস্থা ……… ইত্যাদি।

রাশিয়ায় ডিভোর্স শতকরা ৬৫, সুইডেনে ৬৪, বেলজিয়ামে ৫৬, যুক্তরাজ্যে ৫৩, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ আর ভারতে ১.১। তাসলিমা নাসরিনের দৃষ্টিতে এটা খুব বড় অন্যায়। শিক্ষিতি সমাজে যদি ডিভোর্স বেশি হয় তা হলে ভারতে কেন কম ডিভোর্স হবে। ভারতকেও পশ্চিমা সমাজের মতে ডিভোর্সে এগিয়ে যেতে হবে। তা হলেই নারী স্বাধীনতা বেশি হবে ….। অন্যদিকে তসলিমা নাসরিন বলছেন, “আমি বিশ্বাস করি নারীর কোনও দেশ নেই। দেশ মানে যদি নিরাপত্তা, দেশ মানে যদি স্বাধীনতা, তবে নারীর নিশ্চয়ই কোন দেশ নেই। পৃথিবীর কোথাও নারী স্বাধীন নয়, পৃথিবীর কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই। তাঁর কথায় মনে হয় নারী যদি সম্রাজ্ঞীও হয় তবু সে তার দেহরক্ষী দ্বার ধর্ষিতা হতে পারে। এখানে প্রশ্ন তসলিমা নাসরিনের মনোভাব আর উপলদ্ধি কি আসলেই সত্য। নারী কি এ সভ্যতায় এতই নিরাপত্তাহীন? মনে হয় না ব্যাপারটা ওতটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে। তার চেয়ে বরং বলতেই হয় নারী এখন  ভাল অবস্থায়-ই আছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী।

নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা না থাকায় বলা হয় পুরুষের কাছে নারী একসময় দাসী হয়ে পড়েছিল। তাই নারীকে অার্থিক স্ববলম্বিতা দেয়ার নামে এখন তাকে করা হয়েছে পণ্য। পুরুষ এখন নারী দেহকে পণ্য বানিয়ে ভোগতো করছেই, তার উপর পয়সাও কামাচ্ছে। নারীর উলঙ্গ প্রায় দেহ কোন দিক থেকে ক্যামেরার সামনে ধরলে সবচেয়ে বেশি কাম উত্তেজনাকর হবে, পুরুষ কীটের মত তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তা নিয়ে এখন রীতিমত গবেষণা ও প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়েছে। আর এব্যাপারে প্রতিযোগিতায় নারীও যেন পুরুষেরর চেয়ে বেশি বেগে এগিয়ে আসছে। তাই তারা পুরুষের কাছে নিজের দেহকে আকর্ষণীয় করতে ডায়েড কন্ট্রলের নামে এমনভাবে দেহকে কষ্ট দিচ্ছে, তার কোন হিসেবই যেন নেই। ডায়েড করতে যেয়ে অনেকে অসুস্থ পর্যন্ত হয়ে পড়ছে। কারণ তারা জানে না কতটুকু ডেয়েড শরীরের জন্য সহনীয়। মনে করছে, না খেয়ে থাকলেই ভাল বা বেশি ডয়েড কন্ট্রোল হয়।

যৌনতার বাড়াবাড়ি, বহুগামিতা একসময় যন্ত্রণাদায়ক রোগের সৃষ্টি করতো। যেমন সিফলিস গোনরিয়ার মতো রোগ নর-নারীকে প্রচন্ড কষ্ট দিত। তারপরও হয়তে সে রোগ ভাল হতো। কিন্তু বর্তমানে বহুগামীতার সাথে হমো সেক্স, লেসবিয়ান, গ্রুপ সেক্স, ব্লু ফ্লিম তৈরিতে যেসব বিকৃতির পর্যায়ে নর-নারী পৌঁছিয়েছে তার পরিণতিতে মানুষ পেয়েছে এইডস। যার প্রতিশেধক এখন পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। ফলতঃ যার এইডস হচ্ছে সে এগিয়ে যাচ্ছে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান এখানে অসহায়ের মতো পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না-এইডসের বিরুদ্ধে।

যৌনতার বিকৃতি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচতে আমাদের অবশ্যই সংযমের পথ বেছে নিতে হবে। মানুষ হলেও মানুষের মতো নয়-অপবাদ ঘুচাতে হবে। আমাদের জীবনে  বিশেষ করে যৌনতার ক্ষেত্রে মানবিক গুণাবলী আরও বেশি করে নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে-কোন মতেই পশুর মতো আচরণ আমাদের যৌন জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া যাবে না। “প্রত্যেক সত্তা বিপরীত সত্তা থেকে দৃশ্যমান”, “সৃষ্টি হয়েছে জোড়ায় জোড়ায়”-মিলনের জন্য। কিন্তু না, মানব জীবনে কখনই লাগামহীন যৌনতার অস্তিত্ব থাকতে পারবে না-যেমন পশুর মধ্যে থাকে। মানব জীবনে থাকতে হবে পবিত্রতা, নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি সৃষ্টি হবে সম্মান আর শ্রদ্ধা,ভালবাসা-প্রেম। তবেই হয়তো আমাদের যৌন জীবন হবে শান্তি, সুখ আর আননন্দের।

এপ্রিল ১৫, ২০১৫

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *