যৌনতা (সেক্স)

মীর আখতার হোসেন নজরুল: সেই আদিম কাল থেকেই পেটের ক্ষুধার পরেই যৌন ক্ষুধার জন্য জীবজগৎ উন্মত্ত হয়ে পড়ে-এটাই জৈবিক রীতি। যৌনতার জন্য মানুষ সমকাম, বিষমকাম, উভকাম, রূপান্তরকাম, বহুকাম, সর্বকাম, ব্লুফ্লিম দেখা, পর্ণগ্রাফি পড়া ইত্যাদি সবই করে থাকে।   কোনটি-ই অপ্রাকৃতিক নয়। সব কামই, সব যৌন আচরণই যত কম সংখ্যক লোকই সে আচরণ করুক না কেন তা প্রাকৃতিক; যেহেতু প্রকৃতিতেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে। এমনকি প্রাণী জগতের মধ্যেও শত শত প্রজাতির বিচিত্র যৌন প্রবৃত্তির চিত্র দেখা যায়। ভেড়া, শিম্পাঞ্জি, হাতি, জিরাফ, সিংহ, ডলফিন, পেঙ্গুইন, হাঁস ইত্যাদিও ফাঁক পেলেই সমকামে মেতে ওঠে। মানুষের সবচেয়ে কাছের আত্মীয়, ‘বনোবো’, যাদের ডিএনএ-র সঙ্গে আমাদের ডিএনএ-র মিল ৯৮%, তাদের মধ্যেও উভকামীতা বিদ্যমান। তাই বিবর্তনের তত্ত্ব দিয়ে বিচার করলেও সমকামীরা সমাজে অপ্রয়োজনীয় নয়। তবে বেশি সংখ্যক লোক যে আচরণটা করে, সেটাকেই ‘ন্যাচারাল’ বা ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরা হয়। আদিম কাল থেকে আধুনিক এই সভ্যতায়ও যৌনতা নিয়ে যে অস্বাভাবিকতা বা বিকৃতি আছে তার কাছে মানবিক নৈতিকতা স্তব্দ নির্বাক হয়ে যায়। তবুও সমাজ সংস্কারকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; বিকৃতি থেকে মানব সমাজকে রক্ষা করে, একটি সুন্দর সবার কাছে গ্রহনযোগ্য স্বাভাবিক সমাজ তৈরি করতে।

আদিম কাল থেকে আধুনিক এই সভ্যতায় যৌনাতর যে প্রকাশ মাঝেমধ্যে পাওয়া যায় তার অল্পকিছু তুলে ধরার চেষ্ট করা হল এই স্বল্প পরিসরে যেমন: একসময় ইহুদিদের নৈতিক অবক্ষয় এমন চরমে পৌছায় যে, তাদের লিংগজ কামের যতপ্রকার কদাচার কল্পনায় আসতে পারে তাই তারা করত। তারা ভ্রাতা-ভগ্নী পিতা-পুত্রী ও মাতা-পুত্রের মধ্যেও জঘন্য জঘন্য সম্পর্ক স্থাপন করত। যার জন্য মুসা (আঃ) বলেছিলেন, “Let no one go unto his mother to lie with her”. (Leviticus) And the man who lieth with his father’s wife hath uncovered his father’s nakedness; both of them shall usrely be put to death”. (Lbid, Chap.20).

মনু থেকে বশিষ্ট পর্যন্ত সংহতিকারকদের সময় কাল যদিও সঠিকভাবে নির্ণয় হয়নি। তার পর ও বলা যায় দেড় হাজার বছর আগে লিখিত হিন্দু পুরাণে অন্ততঃ পাঁচ-ছয়জন সংহিতাকারই মাতৃগমের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে বিষ্ঞসংহিতাকারের মাতৃগমনে কথা স্পষ্ট। বিষ্ঞুসংহিতা বলেছেন, “মাতৃগমন, কন্যাগমন ও পুত্রবধুগমন-এই তিনটি অতিপাতক। এই সকল অতিপাতকীগণের অগ্নিপ্রবেশ ব্যতীত অন্য কোনরূপে নিস্কৃতি নেই।” পরাশর বলেছেন, “মাতরং যদি গচ্ছেত ভগিনং পুত্রিকাং তথা। এতাস্ত্ত মোহতো গত্বা ক্রীন কৃচ্ছাংস্ত্ত সমাচারেৎ। চান্দ্রয়ণত্রয়ং কুর্যাচ্ছিশ্নচ্ছেদেন শুধ্যতি।” (১৮৭ পৃঃ) বৈদিক পূষন: ‘পূষন’ শব্দটি কয়েকবার ঋগ্বেদে উল্লেখি হয়েছে। ঋগ্বেদে উল্লেখ আছে পূষন এক সময় তার মাতার দিধিযু হয়েছিল। এই দিধিযু শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গে ও পুংলিঙ্গে ববহৃ হতো। দিধিযু শব্দের স্ত্রীলিংগে অর্থ-দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে-এমন স্ত্রী। পুংলিংগে শব্দটির অর্থ বিধবার স্বামী।

খৃঃ পূঃ পাঁচ সালে প্রধান গ্রীক নাট্যকার সফোক্লিস ইদিপাস নাটক রচনা করেন। ইদিপাসের কাহিনীতে দেখানো হয়েছে: রাজা লাইআস (মতান্তরে-ক্রেঅন) ছো্ট্ট থিবিস রাজ্যের রাজা ছিলেন। রাণীর নাম জোকাষ্ট। রাজা ছিলেন নিঃসন্তান। তাই তিনি একটি পুত্রসন্তানের আশায় অ্যাপোলোর মন্দিরে পুজো দিয়ে-ধর্না দিয়ে পড়ে থাকেন। অবশেষে তিনি দৈব বাণী শুনতে পেলেন। অ্যাপোলো বলছেন, “তুমি একটি পুত্রসন্তান পাবে। তবে সেই পুত্র সন্তান তোমাকে হত্যা করে তোমার স্ত্রীকে অর্থাৎ তার মা কে বিয়ে করবে। কারণ তুমি পেলপ্সের পুত্রকে অপহরণ করেছিলে। সে তোমাকে অভিশাপ দিয়েছিল; স্বর্গরাজ ইন্দ্র (জিউস) সেই অভিশাপ পুরণ করবেন বলেই তোমার পুত্র ওইরূপ করবে। তুমি তোমার সন্তানের হাতে নিহত হবে। সাবধান!

যাই হোক, যথাসময়ে রাজা লাইআসের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিলে রাজা ওই সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক মরুময় পার্বত্য এলাকার তপ্ত বালুর মধ্যে নিক্ষেপের জন্য তার এক বিশ্বস্ত ভৃত্যকে দায়িত্ব দিল। ওই রাজভৃত্য ক্রন্দনরত রাজপুত্রকে হত্যা না করে কারিন্হবাসী এক মেষপালকের হাতে দিয়ে বলল অভিশপ্ত ওই শিশুটিকে হত্যা করতে। কারিন্হবাসী মেষ পালক সুন্দর দৃষ্টিনন্দন শিশুটির পরিচয়ও জানতনা। সে (মেষপালক) শিশুটিকে হত্য না করে কারিন্হ রাজা পলিবাসের দরবারে হাজির হলো। রাজা পলিবাস ছিলেন অপুত্রক। তিনি শিশুটির রূপে মুগ্ধ হয়ে তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে দত্তকপুত্র হিসেবে গ্রহণ করলেন। তিনি তার নাম রাখলেন ‘ইদিপাস’ (স্ফীতপদ)। ইদিপাস পলিবাসকে বাবা এবং তাঁর স্ত্রীকে নিজের মা হিসেবে জেনেই বড় হতে থাকল। পরবর্তীতে ইদিপাস যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হলেন, তখন এক মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে দৈববাণী শুনলেন, “সাবধান যুবক! তোমার ভাগ্যে পিতৃ হত্যা ও মাতৃপরিণয় লেখা আছে”। যেহেতু ইদিপাস পলিবাসকে পিতা এবং তাঁর স্ত্রীকে মা হিসেবে জানতেন সেহেতু সে যাতে দৈববণী অনুযায়ী অভিশপ্ত কাজ করে মহাপাপী না হন; সেজন্য বহুদুরে এক দুর্গম পার্বত্য এলাকায় চলে গেলেন। এক সংকীর্ণ গিরিসংকটের প্রবেশ মুখে রথযাত্রী এক সমভ্রান্ত বৃদ্ধের সন্মুখিন হলেন। সে ছিলেন থিবিস রাজ লাইআস। তাঁর (ইদিপাস) সাথে রাস্তা ছাড়া নিয়ে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে থিবিস রাজ লাইআস মৃত্যু বরণ করলেন। বালা বাহুল্য ইদিপাস দৈববাণী অনুযায়ী নিজের পিতাকেই হত্যা করে বসল।

এর পর ইদিপাস থিবিস নগরের দিকে অগ্রসর হলো। ইদিপাস যখন থিবিসে প্রবেশ করে তথন থিবিসে চলছিল এক মহা-প্রলয়। স্ফিংক্ম নামের এক দানব যার দেহের উপরিভাগ মানবীর মতো এবং নিম্নভাগ সিংহীর মতো। মূলতঃ সে (স্ফিংক্ম) থিবিস রাজ্য দখল করে নিয়েছিল আর লাইআস (ইদিপাসের প্রকৃত বাবা) স্ফিংক্ম এর ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। স্ফিংক্ম প্রতিদিন এক এক জনকে একটি প্রশ্ন করত আর উত্তরদাতার অপারগতায় তাকে হত্যা করত। ওই ক্রান্তিলগ্নে ইদিপাস স্ফিংক্ম এর সন্মুখিন হলো। স্ফিংক্ম তাঁকে সর্বজনপরিজ্ঞাত প্রশ্ন করল, “সে কোন জীব যে সকালে চার পায়ে, দুপরে দুই পায়ে এবং সন্ধ্যায় তিন পায়ে চলে”! ইদিপাস অকুতোভয়ে স্ফিংক্ম এর ধাঁধার উত্তর দিলে চুক্তিমতো স্ফিংক্ম সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে অদৃশ্য হলো। ইদিপাস থিবিসবাসীকে মহাপ্রলয় থেকে উদ্ধার করলে রাজ্যের সকল জনগণ ইদিপাসকে সসম্মানে রাজপদে বরণ করলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী রাজমাতা জোকাস্টার সাথে ইদিপাসের বিয়ে দিলেন। বেশ কিছু কাল সুখ শান্তিতে কাটিয়ে ইদিপাস না জেনে, না চিনে নিজের মাকে বিয়ে করে দুটি পুত্র আর দুটি কন্যার জন্মও দিলেন। ইতিমধ্যে রাজ্যের মধ্যে দেখা দিল ভায়বহ মহামারি। দলে দলে লোক দৈববাণী পাওয়ার জন্য মন্দিরে ধর্ণা দিতে লাগল। শেষে দৈববাণী হলো থিবিস রাজ লাইয়াসের হত্যাকারী ও মহাপাতক মাতৃগমনকারী দেশে আছে বলেই ওই মহামারি দেখা দিয়েছে। যতক্ষণ ওই মহাপাতককে রাজ্য থেকে বিতারিত না করা হবে ততক্ষণ মহামারি থামবে না। শেষ পর্যন্বত মহাজ্ঞানী ঋষিতুল্য টাইরেসিআস ব্যাকুল প্রজাদের অনুরোধে ইদিপাসকে চিহ্নিত করলে ইদিপাস সাথে সাথে নিজের দুই চোখ উৎপাটিত করে অজ্ঞাতসারে বহুদুরে হারিয়ে যায়। ইদিপাস মাতার কি হয়েছিল তা নাট্যকার হয়তো দর্শকদের উপই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এখানে উল্লেখ্য, ইদিপাস যদিও নাট্যকার সফোক্লিসের কল্পিত একটি সৃষ্টি; কিন্তু মনোবিজ্ঞানী ফ্রএড গুরত্বের সাথে ইদিপাস কমপ্লেকসের ব্যাখ্যা করেছেন। কাম কে ব্যাখ্যা করে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, মানুষের মনের আদিম ইচ্ছা-মায়ের প্রতি পুত্রের এবং কন্যার প্রতি পিতার সবসময়ই বিদ্যমান থাকে বলেই সফোক্লিস নাটকের মধ্যে ওই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কাম নিয়ে ফ্রএডের ওই ব্যাখ্যায় তার সমকালীন সময়ে অনেক বন্ধু পর্যন্ত তার থেকে দুরে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক এই গ্লোবাল ভিলেজে আমরা ইন্টারনের মাধ্যমে যেসব তথ্য পাচ্ছি তা ফ্রএডের ব্যাখ্যাকে সত্যেই রূপ দিচ্ছে যেমন: ২৮ এপ্রিল, ২০০৮ এ www.jillstanek.com প্রকাশ করেছে বিচিত্র এক ঘটনা। পিতা মাটির নীচের একটি ঘরে তার নিজ কন্যাকে ২৪ বছর আটকিয়ে রেখে ৭ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে ওই সময় সাড়া পৃথিবীর প্রথম সারির পত্র-পত্রিকায়া তোলপড়া পেড়ে গিয়েছিল। আগষ্ট ২৯, ২০১৩ jade african Related: HEART & SOUL, Life Style, Popular Stories প্রকাশ করেছে: ৪০ বছরের জিম্বাবুই এর এক মা তার ২৩ বছরের ছেলে কে বিয়ে করেছে। এমনকি জানা গেছে বিয়ের আগে ওই মা তার নিজ সন্তন দ্বারা গর্ভবতীও হয়েছেন। পরে গ্রামের প্রধান ও লোকজন ওই মা ছেলেকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে গ্রাম থেকে তারিয়ে দিয়েছে। প্রাইম নিউজ.কম বিডি ১৫-০৫-২০১৪ তারিখে প্রকাশ করেছে ১৯৩৫ সালের জুন মাসে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী তাঁর ছেলে হরিলালকে উদ্দেশ্য করে যে তিনটি চিঠি লেখেন তা। চিঠিগুলির প্রতিটি ছত্রে ছেলের প্রতি নিজের উষ্মা ও ঘৃণা প্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি তিনি।একটি চিঠিতে হরিলালের চালচলন নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি লিখেছেন, তোমার জানা উচিত, তোমাকে নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা এই মুহূর্তে স্বাধীনতা আন্দোলনের চেয়েও আমার কাছে বেশি জটিল। একটি চিঠিতে গান্ধী লিখেছেন, মনু আমার কাছে তোমার সম্পর্কে বেশ কিছু ভয়ঙ্কর কথা বলেছে। সে জানিয়েছে, তার আট বছর বয়েস হওয়ার আগে তুমি তাকে ধর্ষণ করেছিলে। ঘটনায় মনু এতোই জখম হয় যে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রসঙ্গত, হরিলালের মেয়ে মনু সবরমতী আশ্রমে তার ঠাকুরদা মোহনদাসের কাছে এই সময় কিছু দিন কাটিয়েছিলেন। বোঝা যায়, তখনই জীবনের চরম লজ্জাজনক অধ্যায়টি গান্ধীজির কাছে তিনি (মনু) প্রকাশ করেন।

যাই হোক, যৌনার যে বিকৃত দিক দেখা যায় তার কারণ অসামান্য নয়। এজন্য কাউকে ঘৃনা করলে চলবে না। তবে পাপ বা অস্বাভাবিক যৌনতাকে অবশ্যই ঘৃনা তথা এড়িয়ে চলতে হবে তবে পাপিকে নয়। মনোবিজ্ঞানীরা যৌনতাকে কোকেন আসক্তির চেয়েও ভয়ঙ্কর বা বিষক্ত বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। একজন পুরুষ একজন নরীর বুকের দিকে বা পশ্চাৎভাগের দিকে তাকালে মস্তিষ্কে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে তাতে কিছুদিনের জন্য হলেও ঘুম হারাম হয়ে যেতে পারে। স্ত্রী, সন্তান, সাংরারে প্রতি বৈরাগ্য দেখা দিতে পারে। এ জন্য ভুক্তভুগিকে দোষ দেয়া যাবে না। কারণ নিওরো সায়েন্স অনুযায়ী মস্তিষ্ক থেকে যৌনতার নির্দেশ পাওয়া যায়-যার সুক্ষ্মতার জন্য আমরা বুঝিনা আমাদের কি থেকে কি হয়ে যায়। ড. ড্যানিয়ে আমেনের ‘হোয়াট সেক্স ডাজ টু এ ম্যানস ব্রেইনের ছায়া অবলম্বনে বলা যায়; যখন আমরা কামনার কোনো বস্তুকে দেখতে পাই তখন মস্তিষ্কের নিওরোট্রান্সমিটার ডোপামাইন মস্তিষ্ককে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। আমাদের আনন্দ, উদ্দীপনা, সব কিছু অর্জন হয় এবং সেক্সের দিকে আমাদের অনুভূতিকে নিয়ে যায়। হার্টবিট বেড়ে যায়, উত্তেজনা অনুভব হয়। তখন মস্তিষ্কে ফেনাইলথ্যালামাইনের (phenylethylamine) নিঃসরণ ঘটে। এই ফেনাইলথ্যালামাইনের নিঃসরণের ফলে স্নায়ুকোষগুলিতে তথ্য আদান-প্রদান বেড়ে যায়। ফলে পুরুষ নারী আর নরী পুরুষের প্রতিটি মুভমেন্টে উত্তেজনার সাথে দেখতে থাকেন মনোযোগ দিয়ে।

কেন নারী-পুরুষসবসময় ‘হর্নি’ থাকেনবাউত্তেজনাঅনুভবকরেন: এর কারণ হলো টেস্টোস্টেরন হরমোন। টেস্টোস্টেরন হরমোন ব্রেইনের হাইপোথ্যালামাস অংশকে উদ্দীপিত করে। ব্রেইনের হাইপোথ্যালামাস অংশ যৌনতার ব্যাপারে আগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করে। নারীর তুলনায় পুরুষের ব্রেইনের হাইপোথ্যালামাস সাধারনতঃ প্রায় দুই গুণ বড় হয়ে থাকে।

কিশোরবয়সথেকেইকেনউত্তেজনাঅনুভব হয়: এই বয়সে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের দেহে ২০ গুণ বেশি টেস্টোস্টেরন নিঃসৃত হয়। কিন্তু ব্রেইন এইসময় সামাজিক যোগাযোগের জন্য উপযুক্ত থাকে না। সুতরাং কোনো মেয়ে মিষ্টি করে কথা বললেও ছেলেদের চুপ করে থাকতে অথবা লজ্জা পেতে দেখা যায়। আর এই কারণে মেয়েরা এ সময় এগিয়ে থাকে, যেটা ছেলেরা সারাজীবনেও আর পূরণ করতে পারে না।

সৌন্দর্যআমাদেরকেবোকাবানায়যেকারণে: কারণ সৌন্দর্য ব্রেইনের পারফ্রন্টাল কর্টেক্সকে শূন্য করে দেয়। ফলে বিচার-বিবেচনা তখন কাজ করে না। এ কারণেই লাস ভেগাসের ক্যাসিনোগুলিতে সুন্দরী ককেটেইল ওয়েট্রেস রাখা হয়। তারা লো কাট টপস এবং মিনিস্কার্ট পরে অ্যালকোহল সার্ভ করে। এই সব কিছু পুরুষদের আত্ম নিয়ন্ত্রণ হারাতে উৎসাহী করে।

সবকিছুর বিবেচনায় সেক্স বা যৌনতা নিয়ন্ত্রণ খুব সহজ ব্যাপার নয়। এজন্যই রসিকজনেরা বলে থাকেন, নারীর আকর্ষণে মুনি ঋষির ধ্যান পর্যন্ত ভঙ্গ হয়ে যায়-সাধারণ মানুষ তো কোন ছাড়! তাই আমাদের সচেতন থাকা উচিত এবং স্রোষ্টার স্মরনাপন্ন হওয়া উচিত। একমাত্র তিনিই পারেন আমাদের মনকে কে অবৈধ বা অস্বভাবিক যৌনাতা থেকে রক্ষা করতে।

আগস্ট ২৭, ২০১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *