মুভি রিভিউ: 'পিয়া রে'তে মন ভাল করা বিনোদন পাবেন | sampadona bangla news
মঙ্গলবার , ১৬ অক্টোবর ২০১৮

মুভি রিভিউ: ‘পিয়া রে’তে মন ভাল করা বিনোদন পাবেন

সম্পাদনা অনলাইন : সরল প্রেমের ছবি ‘পিয়া রে’। কোথাও কিছু হয়ে ওঠার তাগিদ নেই। আর তাই এমন ঘাঁটা সময়ে এ ছবি আরও ভাললাগে। পোস্টার থেকে অভিনয়-সঙ্গীত, সবেই সাদামাটা প্রেমের ছবির ছাপ। তাই তেমন কিছু দেখতেই সিনেপ্লেক্সে যেতে পারেন। ছবি শেষ হলে কিছুটা হাল্কা বোধ করবেন নিশ্চিত।

গল্প কেমন? খুবই সাধারণ এক বস্তিবাসী মেয়ে রিয়া। তার দুই প্রেমিক আদিত্য আর রবি। আদিত্য বড়লোকের ছেলে। আর, রবি ছোট ব্যবসায়ী কিন্তু সৎ। ছবির শুরু থেকে দু’জনেই চেষ্টা করে রিয়াকে ভালবাসতে। কিন্তু রিয়া দু’জনকেই এড়াতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ সংসারে টান পড়ে। মায়ের শরীর খারাপ। দাদাকে চোর সন্দেহে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। অসহায় রিয়া টাকার জন্য বাধ্য হয় আদিত্যকে বিয়ে করতে। রবির ভালবাসা ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু সুখী হতে পারে না রিয়া। এখান থেকেই গল্প ঘুরতে থাকে। রবির কাছে কি ফিরে যাবে রিয়া? যদি যায় তো কীভাবে? জানতে আপনাকে হলে যেতে হবে।

পনার মনে হতে পারে, এমন সাদামাটা প্রেমের ছবি দেখতে যাবেন কেন? উত্তরে বলা যায়, স্রেফ আপনার মন ভাল করা বিনোদন ছাড়া এ ছবির আর কোনও উদ্দেশ্য নেই। ’৭০-’৮০-র দশকের হিন্দি তথা বাংলা ছবিতে এমন সারল্য দেখা যেত। ‘কেয়া মত সে কেয়া মত তক’ বা ‘মৌচাক’— নাম বলে শেষ করা যাবে না। এখন যখন একদিকে বাংলা ছবি বাণিজ্যিক আর বিকল্প ধারায় বিভক্ত, যখন নব্য বাঙালি শ্রেণিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে আখ্যানে আর কলকাতার মধ্যবিত্ত পাড়াতেই আটকে পড়ছে ক্যামেরা, তখন পিয়া রে-র মতো ছবি স্বস্তি দেয়। বলে, বেশি চাপ না নিলেও চলবে।

সোহম আর শ্রাবন্তীর অভিনয় ভাল। তবে অসহায় বস্তিবাসীর ভূমিকায় শ্রাবন্তীকে বেশি ভাল লাগে। স্ক্রিপ্ট, মিউজিক সবেই ব্যলান্স আছে। তবে, ছবির শেষে এপ্রিল ফুলের জায়গাটা আরও ভাল হতে পারত। মানুষকে সহজ ভাবে বোকা বানিয়ে আনন্দ পাওয়াই এপ্রিল ফুলের উদ্দেশ্য। কোনও মানুষের গভীর দুঃখ নিয়ে তার সঙ্গে মজা করাট অমানবিক মনে হল। ছবির সারল্য যেন এখানে এসে থমকে যায়। ছবিটিকেও কিছুটা বেসুর লাগে। ফলে ছবির পরিণতিও কেমন জোর করে মনে হয়।


রবির কাছে কি ফিরে যাবে রিয়া?

অভিনেতাদের মধ্যে বিশেষ ভাবে মনে থাকে কাঞ্চন মল্লিকের অভিনয়। কমিক রিলিফ থেকে বেরিয়ে বস্তিবাসী দাদার ভূমিকায় কাঞ্চন কিছুটা ব্যতিক্রমী। ভাল লাগে রবির বাবার ভূমিকাও। তবে, এ ছবির সম্পাদনা আরও ভাল হতে পারত। শেষ ভাগের বেশ কিছু জায়গা একঘেয়ে লাগে।

শেষে বলব, সাউন্ড ডিজাইন নিয়ে মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবি কখনওই খুব ভাবে না। এ ছবিতেও মারামারি, ধাক্কাধাক্কির অংশ অনেক। কিন্তু সবেই এত একঘেয়ে নয়েজ কেন? মাঝে মাঝে কান ঝালাপালা অবস্থা হচ্ছিল। সংঘাত কি অন্য ভাবে বোঝানো যেত না? নির্দেশক অভিমন্যু তো মীরাক্কেলের ক্রিয়েটিভ মানুষ হিসেবে খ্যাত। টাইপ সিচুয়েশনের উপস্থাপনানিয়ে কি আর একটু ভাবলে পারতেন না?

আরও পড়ুন, নতুন কিছু আসছে শুভশ্রীর জীবনে!

ছবি দেখে বেরিয়ে কথা হচ্ছিল বেশ ক’জনের সঙ্গে। কলেজের এক কাপলকে প্রশ্ন করলাম, কেমন লাগল? বললেন, ‘‘পুজোর আগে নিপাট প্রেমের ছবি। আকাশে তুলোর মেঘ। বাঁশ বাঁধা হচ্ছে, চাইছিলাম একটু প্রেমের আমেজ। পেয়ে গেলাম।’’ মধ্যবয়সী দুই বধূ জানালেন, সমাজে কী চলছে জানতে সাদামাটা এ ছবিগুলো দেখি। ‘পিয়া রে’ দেখে এটাই বুঝলাম, অনেক কিছু বদলালেও প্রেম একই ভাবে হয় এখনও।’’ আর এক দম্পতি জানালেন, নিছক বিনোদনের জন্য ‘পিয়া রে’ দেখতে আসা। একটুকও ভুল হয়নি সিদ্ধান্ত।

হল থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে চোখে পড়ল এ ছবিরআকাশছোঁয়া পোস্টার। সোহম আর শ্রাবন্তীর মুখ হাওয়ায় উড়ছে। আসন্ন শরতের হাওয়া। যা বলে, ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*