মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালে হাইকোর্টের রায় আছে | sampadona bangla news
রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালে হাইকোর্টের রায় আছে

সম্পাদনা অনলাইন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা, তা সংরক্ষণে হাইকোর্টের রায় রয়েছে। যেখানে হাইকোর্টের রায় আছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে আমরা কীভাবে কোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করব? সেটা তো আমরা করতে পারছি না। আমি তো বলেছি টোটাল কোটা বাদ দিতে। কিন্তু হাইকোর্টের রায় অবমাননা করলে তখন তো আমি কনটেম্পট অব কোর্টে পড়ে যাব। গতকাল  বৃহস্পতিবার সংসদে অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ৫ জুন শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশন ২৫ কার্যদিবসের মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলাকারীরা ভুলে গিয়েছিল ভিসির ভাসভবন ছাড়াও আশপাশে ব্রিটিশ কাউন্সিলেরসহ আরও সিসি ক্যামেরা ছিল। ক্যামেরা দেখে একটা একটা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে। ভিসির বাড়িতে যারা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করেছে, আক্রমণ করেছে, তাদের ছাড়া হবে না।
এর আগে সমাপনী বক্তব্যে কোটা আন্দোলনকারীদের সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু সেখানে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, গাড়িতে আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাঙচুর করা, বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা, আলমারি ভেঙে গহনাঘাটি, টাকাপয়সা সবকিছু লুটপাট করেছে। ভিসির পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে। এটা কী কোনো শিক্ষার্থীর কাজ? এটা কী কোনো শিক্ষার্থী করতে পারে? কথায় কথায় বলে ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়? ক্ষতিগ্রস্ত কারা হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি। এদের কারণে এখন আবার সেই সেশনজট।
আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা হলের গেট ভেঙে ফেলে দিবে, মধ্য রাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাবে। টেনশনে আমি বাঁচি না। আমি পুলিশকে, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী তাদের বলেছি- এই মেয়েদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত জেগে থেকে যার যার হলে পৌঁছে যাওয়ার পর আমি ঘুমাতে গেছি।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকা খাবার। কোথায় আছে পৃথিবীর? ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিটভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক। তিনি বলেন, আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারি দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছে। তাহলে এদের অসুবিধাটা কোথায়? সহসাই কোটা সংস্কার করা হবে। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে এখনই মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা কয়েক বছর ধরেই চলছে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে গত এপ্রিলের আন্দোলনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা কি আন্দোলন? উচ্ছৃঙ্খলতা কখনও বরদাস্ত করা যায় না। তারা যে ঠিক কী চায়, বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, সেটা কিন্তু সঠিকভাবে তারা বলতে পারে না। শিক্ষার নীতিমালা তো সরকার করবে। সেটা আমাদের দেখার বিষয়, শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করবে। অনেক জায়গায় চাকরি খালি আছে, যারা মেধা তালিকায় থাকছে, কেউই বাদ যাচ্ছে না। যারাই মেধাবী তারা চাকরি পাচ্ছে।
দেশের মানুষের সহযোগিতা-সমর্থন কামনা করে তিনি বলেন, দেশবাসী যদি মনে করেন তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ভুল করেননি, তারা দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করছে; তাহলে দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও তাদের সেবার করার সুযোগ দেবেন। আমাদের বিরোধী দল এবং যারা আছে আমি আশা করি সকলে নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে আমরা বিশ্বের দরবারে যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছি সেটা আমরা ধরে রেখে এগিয়ে যাব।
রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিলিটারি ডিক্টেররেরা ক্ষমতা দখল করে উপকারের বদলে দেশের সর্বনাশ করে গেছে, দেশ নিয়ে খেলেছে, নিজেরা টাকা উপার্জন করেছে। মতিঝিলে একসময় ঝিল ছিল। আইয়ুব খান তা বন্ধ করে দেয়। সেগুনবাগিচা ও পান্থপথে আগে খাল ছিল। এরশাদ সাহেব এসে সেই খাল বন্ধ করে বক্সকালভার্ট নির্মাণ করেন। এতে করে পানি এখন আর নামতে পারে না। জিয়া এয়ারপোর্ট থেকে দীর্ঘরাস্তায় দুইধারে থাকা সকল কৃষ্ণচুড়া গাছ কেটে ফেলে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারলে আমরা সকল বক্স কালভার্ট ভেঙ্গে ফেলে নিচে খাল এবং উপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করে দেব। পানিসম্পদ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ড্রেজিং করে নদী-খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে।
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধির সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের কারণে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি করতে সংসদে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এতে করে কোনো নারীর সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়ে আসার পথে কোনো বাধা হবে না।
অধিবেশন শেষ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সমাপ্তি বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে শোনান। এই অধিবেশনেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন। বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলসহ অন্যান্য দলের ২২৩ জন সংসদ সদস্য ৫৫ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট আলোচনা শেষে গত ২৮ জুন ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়। এই অধিবেশনে ১৪টি বিল পাস হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*