‘ভোটের আগে তো পারলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘর ঝাড়ু দেন’ | sampadona bangla news
বুধবার , ২৬ জুলাই ২০১৭

‘ভোটের আগে তো পারলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘর ঝাড়ু দেন’

সম্পাদনা অনলাইন : চিকুনগুনিয়া নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার তার বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে।

আনিসুল হক গতানুগতিক জনপ্রতিনিধিদের মতোই এমন মন্তব্য করেছেন বেশিরভাগ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী।

শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘চিকুনগুনিয়ার প্রাইম রিজন ঘরের ভেতরে জন্ম নেয়া মশা; সে পর্যন্ত পৌঁছানো সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। আপনার ঘরের ভেতরে গিয়ে আমি মশারি টানাতে পারব না। আপনার চৌবাচ্চায় আমি ওষুধ লাগাতে পারব না। আপনার ঘরের ভেতর সামান্য স্বচ্ছ পানিতে যে মশা জন্মাচ্ছে, সেটা আমি মারতে পারব না।’

সাবরিন সাদিয়া নামে একজন লেখেন, ‘এটা মেয়র হবার আগে মনে ছিল না। তখন তো পারলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরগুলো ছাড়ু দিয়ে দেন।’

মো. ওবায়দুল হক সোহেল নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ক্ষমতা পাবার পূর্বে দায়িত্ব বড় মহান, অনেক সহজ; পাস করার পর দায়িত্ব অনেক কঠিন, বিরক্তির! এটা বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের চরিত্র।’

আনিসুল হককে উমর ফারুক (রা:)এর জীবনী পড়ার পরামর্শ দিয়ে নূর শামিম নামের একজন লিখেছেন, আপনার কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয় । মেয়র সাহেব, আপনি হয়তো ইসলামের খলিফাদের রাজত্ব পড়েননি। হযরত উমর ফারুক (রা:) রাতের অন্ধকারে, তারপরও ছদ্দবেশে তার প্রজাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর রাখতেন । বিশাল ক্ষমতার অধিকারী হয়েও নিজের পিঠে খাদ্যের বোঝা নিয়ে দরিদ্রের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন । তাদের জীবনী পড়ুন, তাদেরকে অনুসরণ করুন অনেক ভালো লাগবে ।’

অনেকে আনিসুল হককে উদ্দেশ করে দায়িত্বহীন, ব্যক্তিত্বহীনসহ বিভিন্ন অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ তাকে মনিষীদের জীবনী পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইকবাল হোসাইন লেখেন, ‘নির্বাচন এর আগে তো বাড়ি বাড়ি ঝাড়ু নিয়ে ঘুরেছেন। এখন মশারি টানালে সমস্যা কোথায়।’

মোস্তফা কামাল লেখেন, এতদিন ভেবেছিলাম গাওয়া ঘি এখন দেখছি পুরোটাই পামওয়েল।’

মোহাম্মদ জসিম, মিস্টার মেয়র সাহেব, এমন নির্লজ্জ —(অশ্লীল শব্দ) টাইপের কথা বলার আগে ভেবে নেনতো, যেদিন মেয়র হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছিলেন, একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে কি বলেছিলেন? গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানুষের ন্যূনতম অধিকার যদি থাকতো রাস্তায় বের হতেই—(অশ্লীশ শব্দ) গণধোলাই কি ঠিকই টের পেতেন!’

নজরুল ইসলা লেখেন, ‘মেয়র হওয়ার আগে তো বলছিলেন মেয়র হতে পারলে ঢাকাকে সিংগাপুর বানাবেন। এখন দেখছি কবর ও শশান বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।’

ইমরান হোসাইন লেখেন, ‘নির্বাচনে আগে জনগণকে দেয়া কথা ৬ মাসের মধ্যেই ভুলে গেলেন। বলেছিলেন ঢাকাকে সিংগাপুর বানিয়ে ফেলবেন, এখন এরকম কথা কেন?’

নূরু আলম লেখেন,’নির্বাচনের আগে তো মিষ্টি কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়েছিলেন কোকিলের মতো,
এখন এত কর্কষ কেন? কাকের মতো!!’

মাহমুদুর রহমান লেখেন, ‘কোনো কাজ না পারলে করবেন না, চুপ থাকেন। তাতে মানুষ মাফ করবে। কিন্ত এসব কথা বললে পরের বার ঝাটা মারবে।’

আব্দুল হামিদ লেখেন, ‘উপদেশ সবাই দিতে পারে মাননীয় মেয়র, কিন্তু বাস্তবে কাজ করা কঠিন।তাই নির্বাচন এর সময় কথা চিন্তা ভাবনা করে দিবেন, মানুষ কিন্তু এখন অনেক সচেতন।’

এমডি শহিদুল ইসলাম লেখেন, আপনাকে তো কেউ বলেনি, প্রত্যেকের সোবার ঘরে যেয়ে মশারি টানাতে। ফালতু লোক, মশা নিধনের ঔষুধটা ঠিক মতো প্রয়োগ হচ্ছে কিনা সেটা দেখুন। ঔষোধ প্রয়োগ হচ্ছে নাকি ঔষোধ এর নামে শুধু পানি স্প্রে হচ্ছে। চিকুনগুনিয়া কি জিনিস একবার হলে বুঝতে পারতেন। উত্তেজনামূলক কথা বলে মানুষকে উত্তেজিত করবেন না। নির্বাচনে আসার সময় নাকে খদ দিয়ে আসছেন।’

পসি মনি লাল লেখেন, ‘চিকুনগুনিয়া ধরে নাই তাই এটা সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, এখনও সময় আছে ধরলে হাড়ে হাড়ে টের পাবেন কি করতে হবে।’

স্বাধীন বিশ্বাস লেখেন, ‘ঘরে গিয়ে মশারি টানাতে হবে না জনাব,আগে নিজের দায়িত্বটা ঠিক ভাবে পালুন করুন। ঠিকভাবে স্প্রে করুন,পানি না মিশিয়ে।’

আশরাফুল ইসলাম লেখেন, ‘ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট ভিক্ষা ঠিকই করতে পারেন। আর ঘরে ঘরে গিয়ে মশারি টানাতে আপনাকে কে বলেছে। মশা নিধনের ঔষুধটা ঠিক মতো দেন তাতেই চলবে।’

মোহাম্মদ হাবিবুল্লা লেখেন, ‘মশারি নয় শুধু, টয়লেটও পরিষ্কার করতে হবে। না পারলে সরে দাঁড়ান, যে পারবে জনগণ তাকেই চেয়ারে বসাবে।’

আব্দুল হক লেখেন, মেয়র বলেছেন পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা শহর সিংগাপুর বানাবেন । এখন দেখি বাকশালী কায়দায় কথা বলছেন ।’

এমডি রবি লেখেন, ‘মেয়র সাহেব ভোটের সময় মানুষের ঘরে ঘরে কেমনে যান? তখন আপনাদের একথা গুলা মনে থাকে না। ভোটটা চাইতে পারবেন সেবা দিতে পারবেন না এটা তো হতে পারে না।’

সাইদুর আহমেদ লেখেন, আপনাকেতো কেউ মশারি টাঙাতে বলেনি। আপনাদের যেটা দায়িত্ব সেটাই করবেন আপনারা। দায়িত্ব অবহেলার কারণে জনগণের ক্ষতি হবে এর দায়ভার আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে।’

তৌফিক হোসাইন লেখেন, ‘নির্বাচন এর আগে টিভিতে ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন। ওটা কি ছিল লোক দেখানো?’

রাবেয়া আক্তার লেখেন, ‘কারও ঘরে গিয়ে মশারি টাঙিয়ে দিতে না পারলেও ঢাকা মহানগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব ।’

লাল আরফাত লেখেন, ‘কারণটা হল আপনি কারো ঘরের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত নন তাই।’

মাকসুদ আলম লেখেন, ‘নির্বাচনের সময়তো দেখছি রাস্তা ঝাড়ু দিতে এতো তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে নেই।’

দিদার হোসাইন লেখেন, ‘রাস্তাকে তো নদী করে দিতে পারছেন।’

সাইয়েদ মোহাম্মদ লেখেন, ‘দুর্নীতিবাজ মেয়র হলে যা হয় আর কি…..।’

আশিক মাহমুদ লেখেন, ‘সিংগাপুর হতে আর কত বছর লাগবে স্যার?’

মোহাম্মদ আল আমিন লেখেন, ‘আগে ছিল কোকিল আর এখন কাক।’

আজীজ ভুইয়া লেখেন, ‘বিনা ভোটে পাস ঢাকাবাসীর সর্বনাশ।’

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*