ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে-এর প্রতিকার চাই | sampadona bangla news
শনিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে-এর প্রতিকার চাই

মরুভূমি প্রক্রিয়াসম্পাদনা: অনলাইন। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ভারত আন্তর্জাতিক সকল রীতিনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিকল্পিত বাংলাদেশের উপর পানি আগ্রাসন চালাচ্ছে। এতে করে মরে যাচ্ছে দেশের প্রায় ৫৪টি নদী। দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ভারতের পানি আগ্রাসন এবং সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার বিচার চাইতে আন্তর্জাতিক ফোরামে যেতে বাধ্য হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ভারতের পানি আগ্রাসন ও সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। আগ্রাসন প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর মজুমদারের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জাগপার চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আবদুল মোবিন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, অসংখ্য নদী ও শাখা নদীবিধৌত বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির হৃদস্পন্দন হচ্ছে পলিমাটি আর পানি। এর মূল উৎস হচ্ছে নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও মিয়ানমার হতে ভারত হয়ে এবং ভারত থেকে সৃষ্ট ছোট-বড় প্রায় ৫৪টি অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদী। এর উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নিয়ে যাচ্ছে ভারত তার বিভিন্ন খরা অধ্যুষিত এলাকায়। পদ্মা-যমুনা, তিস্তা-মেঘনা ইত্যাদি প্রধান নদী আজ প্রবাহ হারিয়ে ফেলছে। ফারাক্কার প্রভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহারের কারণে পদ্মা-যমুনা শুকিয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিস্তায় পানি প্রবাহ কমে দাঁড়িয়েছে এক-দশমাংশে। এতে বৃহত্তর রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও জয়পুরহাটে চাষাবাদে সেচ কার্যক্রমের লক্ষ্যে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়। এতে কমপক্ষে ১ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা বঞ্চিত হবে। ফলশ্রুতিতে এ অঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি মানুষ অর্থনৈতিকভাবে মহাসংকটে পড়বে। দেশের মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৯টি জেলার জনজীবনও হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এক কথায় বাংলাদেশকে ভাতে-পানিতে মারার মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ভারত আন্তর্জাতিক সকল রীতিনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই পরিকল্পিত পানি আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে তারা সীমান্তেও অন্যায় এবং অমানবিকভাবে বাংলাদেশীদের নির্বিচারে হত্যা ও গুম করে চলেছে। প্রয়োজনে ভারতের পানি আগ্রাসন ও সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার বিচার চাইতে আন্তর্জাতিক ফোরামে যেতে হবে এবং অবিলম্বে আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প গড়ে তুলতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*