বেকুব বলেই আওয়ামী লীগে গিয়েছিলাম : মান্না | sampadona bangla news
মঙ্গলবার , ২১ নভেম্বর ২০১৭

বেকুব বলেই আওয়ামী লীগে গিয়েছিলাম : মান্না

সম্পাদনা অনলাইন : ‘আদর্শ নাগরিক আন্দোলন’র আয়োজনে ‘দেশে অব্যাহত গুম-খুন-অপহরণ : শঙ্কিত নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না।

‘আদর্শ নাগরিক আন্দোলন’র আয়োজনে ‘দেশে অব্যাহত গুম-খুন-অপহরণ : শঙ্কিত নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না।

আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াকে নিজের বোকামি মনে করছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে আওয়ামী লীগের ‘স্বরূপ’ বুঝতে বেশি সময় লাগেনি তার।

দুই দিন আগে আ স ম রবের বাড়িতে গিয়ে পুলিশের কাছে হেনস্তা হওয়ার প্রেক্ষাপটে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক।

মান্না বলেন, “নৌকায় (আওয়ামী লীগ) তো আমিও ছিলাম। ড. কামাল নৌকা থেকে নেমেছেন, সেই নৌকায় আমিও চড়েছি। বেকুব না হলে করে এরকম।”

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের বিরোধী হয়ে জন্ম নেওয়া জাসদে ছিলেন মান্না। জাসদ ভাঙার পর বাসদে যোগ দেন তিনি, দুই বার ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

নব্বইয়ের পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন মান্না, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদকও হন তিনি। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন দলটির দীর্ঘদিনের নেতা কামাল হোসেন। জরুরি অবস্থার সময় সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের পদ হারান মান্না।

আওয়ামী লীগকে বোঝার বিষয়ে মান্না বলেন, “ড. কামালের বুঝতে কত সময় লেগেছে জানি না, কিন্তু আমার বুঝতে অত সময় লাগেনি।”

শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের মামলার আসামি হয়ে বছর খানেক কারাগারে কাটিয়ে আসা মান্না আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচনা করেন।

“মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা যখন আওয়ামী লীগ বলে, এই আওয়ামী লীগের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কোনো মূ্ল্যবোধ নেই। আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়, আওয়ামী লীগের কোনো মূল্যবোধই নেই।

“তা নাহলে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, এটা কোনো নির্বাচন? এর চাইতে রাজনীতির নামে ফোর-টোয়েন্টি আর কী হতে পারে? এবং সেটা করে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন, গর্বের সাথে কথা বলছেন, অনুশোচনাও তাদের নেই।”

আ স ম রবের উত্তরার বাসায় অনুষ্ঠানের বিষয়ে মান্না বলেন, “আ স ম আবদুর রবের বাসায় আমরা কয়েকজন নিরীহ মানুষ গেলাম। আমি নিরীহ না, আমি দেশদ্রোহী, সেনা বিদ্রোহে উস্কানি দিয়েছি। সুব্রত চৌধুরী, মাহী তো নিরীহ মানুষ। আমাদের মিটিং করতে দেয়নি বাসার মধ্যে।

“রব ভাই বললেন, আমার বাসায় দাওয়াত করেছি, উনাদেরকে চা খাওয়াব। উনার স্ত্রী বললেন, এতগুলো বড় বড় মানুষ এসেছেন, উনাদের ডিনার খাওয়াব। রান্না-বান্না করতেও তো সময় লাগবে। তারা(পুলিশ) বলল, এখনই যান। না খেয়ে যাব আমরা? শেষ পর্যন্ত রেগে গিয়ে রব ভাই বললেন, ‘সারা রাত থাকব, যা পারেন করেন। সেহেরি খেয়ে যাবেন।”

‘আদর্শ নাগরিক আন্দোলন’র আয়োজনে ‘দেশে অব্যাহত গুম-খুন-অপহরণ : শঙ্কিত নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক আলোচনা সভার নিজের গ্রেপ্তার হয়ে ২২ মাস কারাগারে থাকার কথাও বলেন মান্না।

“২২ ঘণ্টা আমি নিখোঁজ ছিলাম, প্রতিটা মুহূর্তে আমার নিকটজনরা ভেবেছেন, বোধহয় এখনই মারা গেল। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখুন, এটা মানবতার কত বড় অপমান।” গুম-খুনের কারণে বাংলাদেশ এখন ‘মৃত্যু উপত্যকায়’ পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

“এই দেশ স্বাধীন করার জন্য, একটা মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবার জন্যে লক্ষ মানুষ ইজ্জত দিয়েছেন, লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছেন, লক্ষ মানুষ লড়াই করেছেন। এদেশে সেই মানবতার ধর্ষণ চলছে।” সরকার পরিবর্তনে সবাইকে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক।

“যতক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের জবাবদিহিহীন সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কিছুই হবে না। মানুষ মরবে চিকুনগুনিয়ায়, মানুষ মরবে গুলিতে, মানুষ মরবে হাওরের পানিতে। ওরা শুধু বিবৃতি দিতে থাকবে।”

সভায় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আজকে জনগণ যেমন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত, আমাদের রাষ্ট্রও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত।”

রবের বাড়িতে গিয়ে পুলিশের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ওখানে আমরা একটু চা খেতে গেছি, সেখানে গিয়ে পুলিশ হামলা করছে। দেশে কি মার্শাল ল হয়েছে? দেশে কি সামরিক আইন জারি করেছেন?

“ঘরেও বসতে দেবেন না, মাঠেও বসতে দেবে না, মিছিল করতে দেবেন না, সভা-সমাবেশও করতে দেবেন না। মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে রাজপথে নামতে দেবে না, ব্যানার কেড়ে নেবেন, লাঠিপেঠা করবেন। কোন রাজনীতিতে আমরা পৌঁছে গেলাম?”

বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগ মনে করে, যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। বিএনপি মনে করে, যে কোনো মূল্যে যাইতে হবে। এটা বন্ধ করতে হবে।

“আমি মাহী বি চৌধুরী আর শেখ হাসিনার শাসন চাই না, আমি আর খালেদা জিয়ার শাসন চাই না, আমি বাংলাদেশের মানুষের শাসন দেখতে চাই।”

নিজের বাবা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি তুলে ধরে মাহী বলেন, “আইনের শাসন থাকলে শুধু একটি মাজার জিয়ারতের জন্য একজন রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের চাপে পদত্যাগ করতে হইত না। এটা বাস্তবতা, আমরা অনুধাবন করি আজকে।”- বিডিনিউজ

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*