গোলাম সারওয়ার | sampadona bangla news
শনিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গোলাম সারওয়ার

সম্পাদনা অনলাইন : কিংবদন্তী সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে আজ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে শায়িত করা হবে। এর আগে তার প্রিয় কর্মস্থল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জাতীয় প্রেসক্লাবে তাকে তিন দফা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। গতকাল বুধবার তার নিজ গ্রাম বরিশালের বানারীপাড়ায় মরদেহ নেয়া হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাজা শেষে তাকে আবারও ঢাকায় আনা হয়। রাতে মরদেহ রাখা হয় বারডেমের হিমঘরে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। সেখানে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমকাল সম্পাদকের মরদেহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখান থেকে দেশবরেণ্য এই সাংবাদিকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অনেকটা সময় তিনি কাটিয়েছেন প্রিয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। সংবাদকর্মীরা সেখানে গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
এর আগে গতকাল দুপুরে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে তার জন্মস্থান বরিশালের বানারীপাড়া নেওয়া হয়। সন্ধ্যা নদীর তীরের বানারীপাড়ায় বেড়ে উঠেছেন তিনি। বাবা-মা আদর করে তাদের এই বড় সন্তানকে ডাকতেন দুলাল নামে। এলাকাবাসীরও দুলাল ছিলেন তিনি। ছিলেন বানারীপাড়া অন্তঃপ্রাণ।
নিউমোনিয়া ও ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটার পর গত ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি হলে ৭৫ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত  সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে আনা হয় সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ।
গোলাম সারওয়ার (১ এপ্রিল ১৯৪৩১৩ আগস্ট ২০১৮[১]) একজন স্বনামধন্য বাংলাদেশী সাংবাদিক ও কলাম লেখক। তাঁর সাংবাদিকতার জীবন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে দৈনিক পয়গম দিয়ে। এরপর তিনি যুক্ত ছিলেন দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সমকাল এর মত শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে কিছুদিন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োজিত ছিলেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার দেশের সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ২০১৬ সালে কালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (সিজেএফবি) আজীবন সম্মাননা[২] এবং ২০১৭ সালে আতাউস সামাদ স্মারক ট্রাস্ট আজীবন সম্মাননা[৩] অর্জন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*