বিয়ে | sampadona bangla news
শনিবার , ২০ জানুয়ারি ২০১৮

বিয়ে

বিয়েকিরো : প্রেম, প্রেমে আর প্রেম এর সংজ্ঞা কোন কালেই নিরূপিত হয়নি। তারপরও অনেকে আবেগঘন ভাষায় বলে থাকেন প্রেম পবিত্র এক ধারণা। প্রেম সর্গীয় এক অবস্থান, আরো কত কি….। কিন্তু আসেলে কি তাই? দেড় যুগ প্রেম করে বিয়ে হয়েছে। বাসর রাতে দেখা গেল প্রেমিক পুরুষ মিলনে অক্ষম। তাহলে কি প্রেমিকা-নারী আর থাকবে ওই প্রেমিক বরের কাছে। এর উত্তর অপ্রিয় সত্য হলো, না। আসলে সেক্সের চাহিদাতেই নর ছোটে নারীর পানে। এজন্য যুদ্ধ হোক বা আরো বড় কিছু হোক, চাই ওকে, চাই ওকে।

নর নারীর প্রেম বা নৈকট্যের চরম পরিণতি হলো বিয়ে। সেই বিয়ে যে কতটুকু দায়িত্বপূর্ণ তা সকলে বোঝে কি না বলা মুশকিল। কারণ আমাদের সমাজে সাধারণত একটি ছেলে যখন কর্ম জীবনে প্রবেশ করে বা আয় রোজগার আরাম্ভ করে, তখন বাবা মা ছেলের বিয়ের জন্য ব্যস্ত হন। অন্যদিকে মেয়েদের যৌবন প্রাপ্ত হওয়ার পথেই বাবা মা বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। যার জন্য গ্রাম বাংলার মেয়েদের প্রায় সত্তুরভাগেরই বিয়ে হয় বয়ঃপ্রাপ্তির আগেই। সেজন্য বর কনে প্রায়ই বিয়ের দায়িত্ব বোঝে না।

আমেরিকায় আশি লাখ থেকে এক কোটি মানুষ সাড়া জীবন বিয়েই করে না। সত্তুর আশি বছর বয়স পর্যন্ত-লিভটুগেদার করে। এ সংখ্যা ক্রমন্বয়ে বৃদ্ধিই পাচ্ছে। আবার সমকামিদের বেগে সন্তানই জন্ম নেয় না। আথচ আমাদের দেশই হলো বিশ্বের প্রধান দেশ যেখানে বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়। সন্তান জন্ম দেয়। ভারতের অবস্থাও প্রায় এরকমই। সেখানে এমন দৃষ্টান্তও আছে, বার বছরের বাবা সতের বছরের মেয়ের গর্ভে জন্ম দিয়েছে সন্তান।

রুমিদের মহল্লায় নতুন এসেছে রোমরা-ভাড়াটিয়া। পনের বছরের রোম চৌদ্দ বছরের রুমির সৌন্দর্য আর যৌবন দেখে পাগল প্রায় হয়ে গেল। জীবনে কত মেয়ে দেখেছে রোম-কোন প্রতিক্রিয়া হয়নি। কিন্তু রুমিকে দেখে রোম কেমন যেন হয়ে গেল। ধরতে গেলে তার মস্তিস্কে গোন্ডগোলই দেখা দিল। আর এখানে নির্ধারিত হয়ে গেল রোমের জীবনের নিয়তি।

মহল্লায় লাগোয়া বাড়িতে দু’জনের অবস্থান। বাহ্যিক নিষেধাজ্ঞার কথা ভুলে রুমিদের জেলা শহরের প্রায় গ্রাম্য বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে রোম। শুধু আরেকবার রুমিকে দেখার জন্য। রোমের আচরণে রুমিদের বাড়ির লোকজন যারপর নাই বিস্মিত আর বিরক্ত হতে লাগল। কিন্তু সেদিকে লক্ষ্য নেই, পরোয়াও নেই রোমের।

রুমির মধ্যেও কোন বিরক্তি নেই, বিস্মিয়ও নেই। রুমি যেন মনে করতে লাগল এ তার জীবন যৌবনের মূল্যায়ন। তার জীবনের চরম পাওয়া। কৈশরে পা দেয়া রুমির দ্রুত শারীরিক পরিবর্তনের সাথে মনেরও অনেক পরির্বতন হলো। রোমকে দেখলে কেমন যেন শিহরণ উপলদ্ধি করতে লাগল। রোমের প্রতি এমন দুর্বার অকর্ষন উপলদ্ধি করতে লাগল যার তুলনা করা মুশকিল।

একান্নভুক্ত বাড়ির লোকজন জানতে পারল রুমি রোমের প্রেমের কথা। তারা এমন বিরক্ত আর বিস্মিত হলো যে, তা প্রকাশ করা দুরহ। সকলের মুখেই ছিঁ ছিঁ। বলে এইটুকুন একটা মেয়ে সেও প্রেম করে। কেউ রুমির মনকে বোঝার চেষ্টাও করে না। সকলের মুখেই এক কথা, দাও কয়েক ঘা, দেখবে আর প্রেম থাকবে না। শারীরিক নির্যাতন আরাম্ভ হলো।। মামা, চাচা সকলে যে যখন সময় পায়, সেই চর-থাপ্পর মারতেই থাকে। মা কখনও গায়ে হাত তোলে না, তবে এমন সব কথা বলে তা সহ্য কর খুবই কঠিন। গৃহবন্দি রুমি তাদের আধাপাকা বাড়ির ফাঁক ফোকর দিয়ে রোমকে দেখার চেষ্ট করত। কখনও দেখা পেত। আবার পেত না। রুমি ভাবলেশহীন। নীরবে সকলের নির্যাতন সহ্য করত-কিছুই বলত না। স্কুল বন্ধ, বাড়ি থেকে বের হওয়া বন্ধ, এমনকি ওয়াশ রুমে গেলেও তার সাথে একজন পাহারদার থাকে।

রুমির ভাবসাব দেখে বাড়ির লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়ল। অবশেষে স্থির হলো রুমিকে আর রাড়িতে রাখা যাবে না। তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো অনেক দুরে-ফুফুর বাড়ি। ফুপুর বাড়ি থেকে রোমের সাথে রুমি আর কোন যোগাযোগ রাখতে পারল না।

সকলেই মোটামুটি ভেবেছিল রুমি আর রোমের প্রেম শেষ। আউট অব সাইট আউট অব মাইন্ড। কিন্তু না, রুমিকে রোম থেকে ভৌগলিকভাবে দুর করলেও ফুপুর বাড়িতে রুমি সবসময়ই রোমের কথা ভাবত। রুমির ফুপু ব্যস্ত মানুষ তাই রুমিকে ভালভাবে লক্ষ্য করতে পারত না। সেই সুযোগে প্রত্যেক দিন রুমি রোমকে চিঠি লিখত।

কিন্তু চিঠি পোষ্ট করা হতো না। নিজের কাছেই রেখে দিত চিঠি। এভাবে প্রায় তিন মাস কেটে গেল বাড়ি থেকে দুরে রুমি। অবশেষে বাড়ি ফিরে আসল রুমি। বাড়িতে এসে দেখল কেমন যেন থমথমে পরিবেশ। তাকে জানানো হল রোম একদিন রাতে তাদের বাড়িতে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হামলা করেছিল। রুমির মামাকে মারধোর করেছে, এমনকি মেয়েদের শরীরেও নাকি হাত তুলেছে রোম।

রোম আর রুমিকে দেখার কোন চেষ্টা করে না। রোম ভাবে তাদের প্রেম শেষ। কারণ রোম রুমির মামার নামে মামলা করেছে। রুমির অবর্তমানে এক রাতে রোমকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল রুমির বাবা, চাচা, মামারা। রোমকে আটকিয়ে শেষ করে দেওয়ার পায়তারা করছিল-আর একটু হলে সফলও হত তারা। কিন্তু কিভাবে যেন একজন টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। তরিৎ পুলিশ আসায় বেঁচে যায় রোম। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা পাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। একটা করেছে রোম আরেকটা করেছে রুমিদের বাড়ি থেকে। রুমির বাড়ির লোক মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। আসামি দিয়েছে রোমদের বাড়ির মালিক ও ছেলে সহ তাকে। তারা নাকি রুমিকে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছিল।

এমনই যেমন নাজুক অবস্থা, তখন রুমি বাড়ি এসে তৈরি করল আরেক নতুন অবস্থা। সে যখন প্রকৃত সত্য জানতে পারল; তখন সে রোমকে বলল, ‘সে রোমের সাথে পালাবে।’ রোমতো শুনে অবাক হলো। সে ভাবতেই পারেনি মারামারি মামলা মোকদ্দমা, এতো কিছু হওয়ার পরও তাদের প্রেম বা সম্পর্ক আর টিকে আছে!

বাবা মায়ের হাজারো পাহারা, নজরদারি আর সতর্কতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রুমি ঠিকই এক সন্ধায় রোমের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালাল। রোমের এক দুরসম্পর্কের আত্মিয়ে বাড়িতে রোম আর রুমির বিয়েও হয়ে গেল। এমন বিয়ে, যে বিয়েতে নেই কোন বেনারসি, নেই কোন গহনা। নেই কোন আনন্দ; হাসি-তামাশা আড়ম্বর। শুধু যেন একটা ভিতীকর অবৈধ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে এই বিয়েটা। তার পরেও রুমির মধ্যে কোন অনুশচোনা নেই। নেই কোন দুঃখবোধ।

বিয়ে হলেও রুমির মামা কিছুতেই এ অবস্থাকে মানল না। মামলা করল। রুমি নাবালিকা। তাকে জোর করে বাড়িতে থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রোমরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকত সে বাড়ির মালিক এবং তার ছেলেকে আসামি করা হলো। এবং বাড়ির মালিকের ছেলেকে গ্রেপ্তারও করা হলো।

পার্শ্ববর্তী জেলায় রোম আর রুমি অবস্থান করছিল। তারা এখন স্বামী স্ত্রী। তাদের বিবাহিত জীবনের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সেখানেও রুমির মামা পুলিশ নিয়ে হাজির হলো। যখন রোম আর রুমি দুই সত্তা মানসিক আর দৌহিকভাবে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে; তখন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একা ধরা পড়ল রোম। রুমির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জামিনে তার মামার হাতে তুলে দেওয়া হলো।

রোম যখন পুলিশের হেফাজতে থানায়। তখন ওই এলাকার মানুষ বুঝতে পারল প্রভাব খাটিয়ে রোমের প্রতি অন্যায় আর অবিচার করা হলো। তাই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মামাকে কিছু উত্তম মধ্যম দিয়ে রুমিকে মামার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তুলে দিল রোমের আত্মীয়ের হাতে। আরেকটা মামলা হলো, আসামি হল দশ বারজন।

থানা হাজত থোকে রোমকে পাঠানো হল জেলখানায়। জেলখানায় যেয়ে রোম বুঝতে পারল বাস্তবতা কাকে বলে। জেলখানার নিয়ম হল, যারা নতুন হাজতি তারা যদি বড় এমাউন্ট ঘুষ দেয়, তবে তাদের অপেক্ষাকৃত ভাল জায়গায় থাকতে দেওয়া হবে। আর যদি টাকা পয়সা না দিতে পারে তবে হাজতিকে রাখা হয় একদম পায়খানা ঘেসিয়ে, তাও চিৎ হওয়ার উপায় নেই কাত হয়ে বড়জোর একফিট জায়গায় ঘুমাতে হবে। আরেকটা সমস্যা হল কি ধরনের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদি মার্ডারের আসামি হয় তবে সমীহ করা হয়। আর যদি চুরি কেসের আসামি হয় তা হলে হাথি উষ্টার অভাব হবে না।

বড় বড় চুল দাড়িওয়ালা ম্যাট। যাকে দেখলে সাধারণ মানুষের হৃদকম্প আরাম্ভ হবে; সে এসে রোম কে জিজ্ঞেস করল, কি কেসের আসামি।’ যখন শুনল প্রেমের ব্যাপার; তখন তাকে প্রায় কোলে করে একনম্বর রূমে নিয়ে গেল। ওই রূমে থাকে হোমড়া চোমড়া টাকা পয়সাওয়ালা আসামি। যারা প্রয়োজনে লাখ টাকা হাসতে হাসতে খরচ করে। তারা রোমের কাহিনী শুনল। তাদের এমন প্রতিক্রিয়া হলো যেন রুমির বাবা মামাকে চিবিয়ে খাবে। কিন্তু পারল না হাতের কাছে পেল না বলে।

এক কয়েদি বলল, ‘রোমকে এক নম্বর রূমে রাখতে।’ ম্যাট তখন খুব বিনয়ের সাথে টাকা পয়সার কথা বলল। তখন ওই কয়েদি বলল, ‘সে ব্যাপারে আমি দেখব।’ আর হুকুম দিল তার বাড়ি থেকে যে খাবার আসে, তা যেন রোমকে দেওয়া হয়। ওই কয়েদির বাড়ি থেকে প্রতিদিন রাজকীয় খাবার আসে-যা অনায়াসে তিন চারজন খেতে পারে। এইভাবে রোম যে কয়েকদিন জেল হাজতে ছিল সে কয়েকদিন একটু আরামে ছিল। তবে পানি অভাবে কয়েদিরা ঠিক মত গোসল করতে পারেনা। সে জন্য প্রায় সকলের শরীরেই চাম উকুন হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে জেলখানার ওই বন্দী জীবন যে কতটুকু বিভীষিকাময়, তা যে ওইখানে না গেছে সে বুঝতে পারবে না।

রোমের কাছে সাবচেয়ে খারাপ লাগত, যখন মনে করত এই শহরের সকলে মুক্ত স্বাধীন। তারা যেখানে খুশি যেতে পারে। শুধু সে বন্দী। নিজের ইচ্ছায় কোথায়ও যেতে পারে না। আর রুমির কথা মনে পড়লে তো চোখ ভিজে উঠতে চাইত, শুধু প্রকাশ করতে পারত না তার পুরুষত্বে আঘাত লাগার ভয়ে।

এদিকে অচেনা এক আত্মীয়ের সাথে রুমি চলে আসল রোমদের গ্রামের বাড়ি। যেখানে রোমের বাবা, মা, ভাই বোন না থাকলেও আত্মীয় স্বজনের অভাব ছিল না। প্রেমিক বা স্বামি, যাকে সে বিশ্বাস করত, সেই রোমকে ছাড়াই গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষা করতে লাগল রুমি।

অবশেষে পনের দিয়ের মাথায় রোমের চাচাত ভাই টাকা পয়সা খরচ করে জামিনে ছাড়িয়ে আনল রোমকে। আবার যেন নতুন করে রোম রুমি পেল দুজন দুজনকে। পাহার থেকে পানি যেমন আছড়িয়ে পড়ে নদীতে আর নদী যেমন আছড়িয়ে পরে সাগরে তেমনই রোম রুমি দুজন দুজনের উপর আছড়িয়ে পড়ল। শুরু হলো যেন একদম নতুন করে তাদের প্রেম। যে প্রেমের অবেগে তারা এতই মত্ত যে, তাদের কাছে ওই মূহুর্তে পৃথিবীর সমস্ত কিছুই লুপ্ত হয়ে পড়ল।

রোম আর রুমিকে আলাদা করার জন্য দুই জেলায় চারটি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই জেলায় আসামি হয়েছে প্রায় বিশ জন। কিন্তু তাদের আলাদা করা যায়নি। বরং তাদের যতো বাধা আর বিপদে ফেলা হয়েছে, তারা ততই আরো দুজন দুজনের কাছে এগিয়ে গেছে-কোন দুরত্বই আর থাকেনি। তাদের মধ্যে যে নৈকট্য সৃষ্টি হয়েছে-তা সচারচর দেখা যায় না।

রোম আর রুমির দেখা হয়েছে কৈশরে। ওই বয়সে তারা নিজেদের ইচ্ছাকে বাস্তাবায়িত করতে কতদুর পর্যন্ত যে যেতে পারে তা কল্পনা করতেও ভয় হয়। মূলত হয়েছিলও তাই। নিজেদের জীবনের ঝুকি নিয়ে তাদের প্রেম, ভাললাগার জন্য যা করেছে, একটু পরিণত বয়সের কেউ তা করতে আগে পিছে হিসেব করবে। কোন হিসেবের ধার দুজনের একজনও ধারেনি। তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে কি হবে, তা কেউ ভাবেনি।

রোমকে রুমির মামা জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তুমি যে রুমি কে বিয়ে করতে চাও বিয়ের পর খাওয়াবে পড়াবে কোথা থেকে।’ একথায় রোম থমকে গিয়েছিল। তারপর বলেছিল, ‘আমাদের কয়েক বছর সময় দিলে আমরা ঠিকই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব।’

রুমির মামা তখন বলেছিল, ‘কে তোমাদের সময় দেবে।’ রোম তখন বলেছিল, ‘আপনারাও তো আমাদের সময় দিতে পারেন। আমাদের বিয়ে মেনে নিয়ে যদি রুমিকে আবর স্কুলে যেতে দেন, তবে আমাদের জীবনের জন্য তা অনেক ভাল হবে।’

কথা শুনে রুমির মামা অবজ্ঞার হাসি হেসেছিল। ওই সময় যদি অভিজ্ঞতাহীন অর্বাচিন এক বলকের কথা শুনে গার্জিয়ান মহলে সাড়া দিত, তবে দুটি জীবনের পরিণতি হয়তো অন্যরকম হতো। আমাদের দেশে তারা তারি বিয়ে হওয়ার এটাও একটা কারণ। কারণ প্রেমের বিষয়ে বাধা দিলে তা আরও বেগবান হয়। প্রেমিক জুটি তারা তারি বিয়ে করে। ইউরোপ আমেরিকায় গার্জিয়ানরা যখন কোন অবস্থায়ই ছেলে-মেয়ের প্রেমের ব্যাপারে বা পছন্দের ব্যাপারে কিছু করেন না; সেখানে বাংলাদেশে প্রেমিক প্রেমিকাকে নিজেদের প্রেমকে সফল করতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে হয়।

আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। রুমির পেটে বাচ্চা এসেছে। এখন তার ভালমন্দ খাওয়া দরকার। কারণ একজনের মধ্যে তারা এখন দুজন। কিন্তু অপ্রিয় সত্য হলো, কঠিন বাস্তবতায় তাদের সাধারণ খাওয়া পড়ারই  ঠিক নেই। রুমির পড়নের কাড়ল ছিঁড়ে গেছে। একটা কাপড় যে রোম কিনবে সে যোগ্যতাও নেই। পরিচিত জনের কাছ থেকে ধার করে চলছে তারা।

এর মধ্য রুমির মামা এসেছিল রুমিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। রুমি না বুঝলেও; রোম বুঝতে পারল মামার মতলব ভাল না। রুমিকে বলতেই, অভিমানে রুমি বলল, ‘আমি আর কখনও মা বাবার মুখ দেখব না।’

এত অভাব যা রোম সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু রুমির কোন অভিযোগ নেই। সবসময়ই হাসি লেগেই থাকত ঠোটে। রোমকে খুশি করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা সব সময়ই করত রুমি।

হঠাৎ এক রাতে রুমির খুব পেট ব্যাথা আরাম্ভ হলো। জ্ঞান হারালো রুমি। হাসপাতালে নেয়া হলো। ডাক্তার বলল, এটা লেবার পেইন। বাচ্চা হওয়ার সময়। রুমির কাছে একা রোম। এসময় একজন মহিলা থাকা দরকার তাও নেই। রাত গভীরে হঠাৎ করে খিচুনি আরাম্ভ হলো রুমির। ওই খিচুনির মধ্যেই একটা মেয়ের জন্ম দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করল-মারা গেল রুমি।

আবেগ যখন কিছুটা থিতিয়ে এসেছিল তখন পনের বছরের রোমের মধ্যে এক অদ্ভুত অনুভুতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিয়ে তাকে তখন আর গৌরবের অনুভুতি দিতে পারত না। বরং বিয়ে তাকে কিছুটা হতভম্ভ আর লজ্জিতই করে ফেলেছিল। সকলেই যখন বলত, এই যে নয়ক এখন বর, বর এখন বাচ্চার বাবা হতে চলেছে। কেমন যে অনুশোচনা আর হীনমন্যতায় ভুগত রোম। ওই অবস্থা থেকে তাকে মুক্তি দিয়ে চলে গেল রুমি।

রোম যখন একা হতো, তখন সব কিছুই তার কাছে ফাঁকা আর অর্থহীন মনে হতে লাগল। তার যে কত বড় কিছু আর নেই তা উপলদ্ধিতে আসতে থাকল। সময় সময় রুমির অভাব তাকে এত পেয়ে বসতে লাগল যে, নিঃসগতার শেষ স্তরে পৌছে গেল। জীবনের সবকিছুই ফাঁকা হতে হতে প্রায় সময়ই হতাশা তাকে পেয়ে বসতে লাগল। অথচ ইতিমধ্যে ইংলিশ অনার্স পর্যন্ত পাশ করেছে রোম। লেখা পড়ায় সম্মানজনক অবস্থায় এসে আত্মীয় অনাত্মীয়ের মধ্যে যে ছি ছি ভাব ছিল তাও কমে এসেছিল। এখন অনেকেই আবার তাকে সমীহের চোখে দেখতে অরাম্ভ করেছে।

কিন্তু হলে কি হবে, রোমের জীবনের যে শূন্যতা তা কোন কিছুতেই আর পূরণ হল না। অবশেষে নেশার জগতে ঢুকে পড়ল। রোম এখন শুধু সাড়া দিন রাত গাঁজা খায়। অবস্থা এমন দঁড়াল আবর ছি ছি গেল গেল, রসাতলে গেল ডাক শুরু হলো। রোমকে আর শিক্ষিত এবং ভদ্রলোকের সন্তান বলেই মনে হয় না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*