বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি | sampadona bangla news
শুক্রবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি

সম্পাদনা অনলাইন : বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, ব্যাংক ও সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টার মাইন্ডসহ এক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জালিয়াত চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ুব আলী বাঁধন।
এছাড়া ৩৮তম বিসিএসের পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রণী স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক (পিওন) আনোয়ার হোসেন মজুমদার এবং মো. নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম এবং পিওন হাসমত আলী শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় হাসমতের কাছে ওই দিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মোল্যা নজরুল ইসলাম এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাতেই নয়, মেডিকেল, ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত ঘটনা ঘটছে। সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইম এই অপরাধ দমনে শুরু থেকেই মনোযোগ দিয়েছে।
এই ধারাবাহিকতায় গত বছর ১৯ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াত চক্র ধরতে অভিযান চালোনো হয়। ২০ অক্টোবর শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। এরপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের জালিয়াত চক্রের মাস্টার মাইন্ড নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামীসহ এই চক্রের ২৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি’র এই কর্মকর্তা  বলেন, ভর্তি কিংবা নিয়োগ পরীক্ষায় দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র আগের রাতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। আর আরেকটি চক্র পরীক্ষা শুরুর আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করে। এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে লাখো তরুণের স্বপ্নের চাকরি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করে আসছে। পাঁচ দিনের সাড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডিজিটাল ডিভাইস চক্রের মাস্টার মাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালকসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত অলিপ, ইব্রাহীম, বাঁধন ও মোস্তফা জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের পর রাজধানীর আলিয়া মাদ্রাসা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের দুটি কক্ষে বসে তারা অভিজ্ঞদের নিয়ে প্রশ্নপত্র সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহ করত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*