বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে সরকার : মির্জা ফখরুল | sampadona bangla news
মঙ্গলবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে সরকার : মির্জা ফখরুল

সম্পাদনা অনলাইন : সরকার বিএনপিতে বিভক্তির জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে মন্তব্য করে দেশের সংকট উত্তরণে শুধু ফেইসবুক নয় রাস্তায় সোচ্চার হতে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব যুব সমাজের প্রতি এই আহবান জানিয়ে বলেন, দেশে এখন দুঃসময়। তরুনদের, যুবকদের বলছি- শুধু ফেইস বুক দেখলে চলবে না। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে দুই-একটা কথা বললেই চলবে না। রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে, দেশকে রক্ষা করতে হলে, রাজনীতিকে রক্ষা করতে হলে রাস্তায় সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। নিজের অধিকারটাকে আদায় করে নিতে হবে।

সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনে ২০ দলীয় জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। জাগপার সভাপতি অধ্যাপক রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় খেলাফম মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, এলডিপি’র মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, মাস্টার এম এ মান্নান, আবিদুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আসাদুর রহমান খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপিতে বিভক্তির জন্য সরকার অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কত নাটক সাজায়। দেখেন ওরা (সরকার) মনে দিক থেকে কত দুর্বল, কত দেউলিয়া যে, দল ভাঙার চেষ্টা। এরা মিথ্যা লেখে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই মিথ্যা কথা বলে দলের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস বলে এসব মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যায় না, সম্ভব নয়।

সুন্দরবনের কাছে ১৯০টি শিল্প স্থাপনে সরকারি অনুমতি প্রদানে উদ্বিগ্ন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সুন্দরবন এমন একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা যা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে রক্ষা করে।এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এই সুন্দরবনকে ধ্বংস করে ফেলার প্রক্রিয়া হিসেবে ইতিমধ্যে ১৯০টি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইউনিটের লাইসেন্স দিয়েছে। সেটা সুন্দরবনকে একেবারে ধ্বংস করে ফেলবে। কারণ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা পরিষ্কার করেই বলেন যে, এই ধরনের ফরেস্টের কাছে যদি কোনো শিল্প তৈরি হয়, সেখান থেকে যে বিষাক্ত গ্যাস বেরিয়ে আসে তাতে এই বন ধবংস হয়ে যাচ্ছে ও যাবে। আমরা উদ্বিগ্ন সুন্দরবন নিয়ে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে বহু হৈচৈ হয়েছে। বিদেশ করেছে, ইউনেস্কো বন্ধ করেছে। কিন্তু সরকার কানেই নিচ্ছে না। কারণ তার (সরকার) কাছে এদেশের কোনো মূল্য নেই। তাদের একটাই ইচ্ছা ক্ষমতায় টিকে থাকা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের শর্ত সরকারের কাছে মানুষদের দিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফ্রান্স থেকে সেটা তৈরি করা হয়েছে। উৎক্ষেপ করা হবে। সেটার শর্ত একদম কাছের মানুষদের দিয়ে দেয়া হয়েছে। যা কিছু করবেন তাদেরকে পয়সা দিয়ে করতে হবে। ভালো করে একটু খোঁজ-খবর নেন সাংবাদিক ভাইরা। এই কথা বাজারে চলে এসেছে।

সমস্ত ব্যাংকগুলো তাদের (ক্ষমতাসীন) নিজেদের লোকজনদের দিয়ে দেয়া হয়েছে। বড় বড় কনট্রাক্টস সব তাদেরকে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। পদ্মাসেতু ৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা কী আপনারা জানেন।

সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের জন্য অশনি সংকেত। সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। পত্রিকায় এসেছে- প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলছেন, কোনো অগ্রগতি নেই। একটা লোককেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। এই হচ্ছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য। এই হচ্ছে আমাদের যোগ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাফল্য, এই হচ্ছে আমাদের যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য।

জার্মানির একট গবেষণা সংস্থা কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারকে ‘স্বৈরাচারি সরকার’ অভিহিত করার প্রসঙ্গটি টেনে সরকারের স্বরূপ উন্মেচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*