বাংলাদেশের প্রধান কোচ হলেন রোডস | sampadona bangla news
বৃহস্পতিবার , ২১ জুন ২০১৮

বাংলাদেশের প্রধান কোচ হলেন রোডস

সম্পাদনা অনলাইন : বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্টিভ রোডস। ইংল্যান্ডের সাবেক এই উইকেটরক্ষকের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার চুক্তি ২০২০ সালের টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ইএসপিএনক্রিকইনফো এ তথ্য জানিয়েছে। ৫৪ বছর বয়স্ক রোডস এই প্রথম কোনো জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার চন্দিকা হাতুরিসিঙ্গে বিদায় নেয়ার পর থেকে পদটি শূন্য ছিল।

কোচ আসে কোচ যায়

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন স্টিভ রোডস – ছবি : সংগ্রহ
সাবেক ইংলিশ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান স্টিভ রোডস সম্ভবত হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পরবর্তী হেড কোচ। চলতি সপ্তাহেই তার নাম ঘোষণা করতে পারে বিসিবি। রোডস নিয়োগ পেলে পূরণ হবে হেড কোচের সাত মাসের শূন্য পদ। চন্দিকা হাথুরুসিংহে চাকুরি ছেড়ে যাওয়ার পর এই পদে যোগ্য লোক খুঁজে পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বিসিবিকে।

হাথুরুসিংহে ছিলেন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সফল কোচ। তাই রোডসকে তার উত্তরসুরী হিসেবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে হবে। ইংল্যান্ডের হয়ে ১১ টেস্ট ও ৯টি মাত্র ওয়ানডে খেলেছেন স্টিভ রোডস। সর্বশেষ খেলেছেন ১৯৯৫ সালে। গত দুই দশকে এখন পর্যন্ত ১০ জন কোচ নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক তাদের সম্পর্কে।

গর্ডন গ্রিনিজ : বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণ হয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রিনিজের হাত ধরে। স্টেট স্ট্যাটাস প্রাপ্তিও তার অবদানই বলা চলে। ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নেয়া গ্রিনিজ ছিলেন ১৯৯৯ সালের মে মাস পর্যন্ত। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে গ্রিনিজকে বরখাস্ত করে বোর্ড। পরদিন পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করে টাইগারররা, সেই ম্যাচই বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে সহায়তা করেছিলো।

এডি বারলো : সে বছরই আগস্টে কোচ হয়ে আসেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার এডি বারলো। তার সময়ও বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফটা লক্ষণীয় ছিলো। তবে অসুস্থতা তাকে থাকতে দেয়নি প্রিয় শীষ্যদের সাথে। ২০০০ সালের মে মাসে চলে যান বারলো।

ট্রেভর চ্যাপেল : অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত চ্যাপেল ভাইদের ছোটজন ট্রেভর চাপেল ২০০১ সালের মার্চে কোচ হয়ে আসেন। তার সময়টা ভুলেই যেতে চাইবে বাংলাদেশ। তার অধীনে ১৯ ম্যাচের মধ্যে ১৮টিতেই হারে দল। এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পরের বছর ফেব্রæয়ারিতে বিদায় নেন সাবেক এই অসি ক্রিকেটার।

মহসিন কামাল : এরপর উপমহাদেশীয় কোচ নিয়োগ দেয় বিসিবি। পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহসিন কামালকে আনা হয় ২০০২ সালের এপ্রিলে। তাবে টানা ২৩ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর তার চাকুরি চলে যায়।

ডেভ হোয়াটমোর : শ্রীলঙ্কাকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ ডেভ হোয়াটমোরকে রাজি করায় বিসিবি। ২০০৩ সালের মে মাসে কোচের পাশাপাশি নির্বাচক প্যানেলে থাকার শর্ত দিয়ে টাইগারদের দায়িত্ব নেন এই অস্ট্রেলিয়ান। তার হাত ধরে আবার জয়ের পথে চলতে শুরু করে বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের জুন পর্যন্ত চার বছর দায়িত্ব পালন করেন ডেভ। তার অধীনে ১১৮ ম্যাচের মধ্যে ৩৫টিতে জয় পায় দল। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আসে টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম জয়। মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাদের তখনই ভবিষ্যত ক্রিকেটার হিসেবে পরিচর্যা শুরু করেন ডেভ। ফলটাও হাতে নাতে পায় বাংলাদেশ।

জেমি সিডন্স : হোয়াটমোরের পর আসেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান জেমি সিডন্স। তার সময়টাও খারাপ কাটেনি বাংলাদেশের। টেস্টে সাকিব আল হাসানকে স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে খেলানো শুরু করেছিলেন সিডন্স। মূলত সেই থেকেই সাকিবের পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার হয়ে ওঠা। ২০০১ সালে চার বছর চাকুরি করে বিদায় নেন সিডন্স।

স্টুয়ার্ট ল : ২০১১ সালে জুনে চাকুরি নিয়ে এক বছরের মাথায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চলে যান সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ল। ২০১২ এশিয়া কাপ ছিলো তার শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। সে আসারের ফাইনালে বাংলাদেশ ২ রানে হেরেছিলো পাকিস্তানের কাছে।

রিচার্ড পাইবাস : ইংলিশ কোচ রিচার্ড পাইবাস এসেছিলেন ২০১২ সালে জুনে। কিন্তু চুক্তি নিয়ে বিসিবির সাথে মতের মিল না হওয়ায় মাত্র চার মাসের মধ্যে তিনি চলে যান।

শেন জার্গেসন : পাইবাসের পর আরেক অস্ট্রেলিয়ান শেন জার্গেসনকে কোচ নিয়োগ দেয়া হয় টাইগারদের। ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কাজ করেন তিনি। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাকে বিদায় নিতে হয়।

চন্দিকা হাথুরুসিংহে : ২০১৪ সালের জুনে দায়িত্ব নেন সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার চন্দিকা হাথুরুসিংহে। হাথুরুযুগে দারুণ সময় পার করেছে টাইগাররা। তাকে বলা হয় সবচেয়ে সফল কোচ। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ তার সময়ে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছে। দেশের মাটিকে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ জিতেছে। শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে তিনি বাংলাদেশের চাকরি ছেড়ে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*