ফ্লোরিডায় আঘাত হেনেছে হারিকেন মাইকেল | sampadona bangla news
বুধবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

ফ্লোরিডায় আঘাত হেনেছে হারিকেন মাইকেল

সম্পাদনা অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী হারিকেন মাইকেল। মধ্য আমেরিকায় তাণ্ডব চালানোর পর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও ঝড়টি প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে ক্যাটাগরি ১ থেকে ক্যাটাগরি ৩-এ রূপ নেয়।

বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন সেন্টার বলছে, ঘণ্টায় ১২০ মাইল গতিতে ফ্লোরিডার দিকে এগিয়ে আসছে ঝড়টি।

ফ্লোরিডার পানামা সিটি বিচে নিজের বাড়িতে থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করা টিমোথি থমাস অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে বলছিলেন, ‘আমরা সাক্ষাৎ দোজখের মধ্যে পড়েছি।’

হারিকেন মাইকেলকে ‘ভয়ংকর’ উল্লেখ করে ঝড়ের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে উপকূলের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফ্লোরিডা স্টেটের গভর্নর রিক স্কট। ফ্লোরিডার পাশাপাশি অ্যালাবামা ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১২ ফুট পানির ঢেউ আছড়ে পড়বে উপকূলে। সেইসঙ্গে ৩০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাইকেলকে ‘ভয়ংকর’ বলা হচ্ছে, কারণ এটি উপকূলীয় অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় আঘাত হেনে জনপদের আরো ভেতরে প্রবেশ করেছে। অ্যালাবামা ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দিকে যেতে যেতে ঘূর্ণিঝড়টি সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাঁর গতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির পরিচালক ব্রক লং হোয়াইট হাউসে বলেন, ‘২০০১ সালের আগে নির্মিত ভবনগুলো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এই শক্তিশালী বাতাসের বেগ সহ্য করতে পারবে না এগুলো।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি এই ভবনগুলো যেন দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।’

এর আগে মধ্য আমেরিকার দেশ মেক্সিকো, কিউবা ও হন্ডুরাসে ঘূর্ণিঝড় মাইকেলের আঘাতে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। হন্ডুরাসে ছয়জন, নিকারাগুয়ায় চারজন ও এল সালভাদরে তিনজন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্স বলছে, এবারের মাইকেল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা তৃতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ১৯৬৯ সালে মিসিসিপিতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘ক্যামিলি’ এবং তার আগে ১৯৩৫ সালের শ্রমিক দিবসে ফ্লোরিডায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টির পরই এর ভয়াবহতা বর্ণনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*