ফৌজদারি আইন: আমাদের দেশের মানুষের অবস্থান

মীর আখতার হোসেন নজরুল: প্রশাসনের নানান সীমাবদ্ধতার জন্য বর্তমানে বাংলাদেশে খুন-খারাবি বৃদ্ধি, আর আইন শৃঙ্খলার যথেষ্ট অবনতির জন্য মৃত্যু বরণ করেছে শিশু রাজন। গত ৮ জুলাই ২০১৫ সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার চরম ধৃষ্টতাস্বরূপ ওদেরেই লোক নির্যাতন করে হত্যার ভিডিও চিত্র ধারণ করে ইন্টারনেটে প্রচার করেছে। ভিডিও চিত্রটি ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শিশু রাজনকে হত্যা করে ৮ জুলাই ধাওয়া খেয়ে রাতেই সিলেট ছাড়ে কামরুল। এরপর ৯ জুলাই ঢাকা থেকে সৌদির উদ্দেশে বিমানে ওঠে। ১০ জুলাই সেখানে পৌঁছে আত্মগোপন করে। রাজনকে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করে হত্যাকারী কামরুল সৌদিতে পালিয়ে এসেছে, এমন খবর ছড়িয়ে পরলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ১৩ জুলাই প্রবাসীরা তাকে খুঁজে বের করে সৌদি পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এক পর্যায়ে রাজন হত্যার ন্যয় বিচারের জন্য কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরী হয়ে পড়ে।কিন্তু কামরুল কে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের বন্দীবিনিময় চুক্তি না থাকায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে। তারপরও কামরুলকে ফিরিয়ে দিতে রাজন হত্যা মামলার বিভিন্ন কাগজপত্রসহ ৩২ পৃষ্ঠার একটি ফাইল সৌদি সরকারের কাছে পাঠায় বাংলাদেশ থেকে। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোলের স্মরণাপন্ন হয় দেশের পুলিশ। ইন্টারপোল ২১ জুলাই কামরুলের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে। কামরুলকে ফিরিয়ে দিতে সৌদি রাজকীয় আদালতও নির্দেশ জারি করেন।

একই সঙ্গে তাকে ফিরিয়ে আনতে জোর এবং নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ পুলিশ। অবস্থা দৃষ্টে তাকে (কামরুল) ফিরিয়ে দিতে সৌদি প্রশাসন ও খুবই আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাই কামরুলের ওয়ার্ক পারমিটের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তার ওয়ার্ক পারমিট আর নবায়ন না করে তাকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে দেশে আনতে ১২ অক্টোবর রাতে সৌদি আরব যান বাংলাদেশ পুলিশের তিন কর্মকর্তা এবং ১৫ অক্টোবর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এক্ষেত্রে বালা যায় অনেক জটিলাতার মধ্যেও রাজন হত্যা মামলাটি পেয়েছে যেন ভিন্ন এক মাত্রা। কারণ সোস্যাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমের প্রচারের জন্য পুলিশ প্রশাসেন থেকে কোর্ট-কাচারি যেন ধারণ করেছে অন্য এক রূপ। গতানুগতিক সব কিছু বদলে দিয়ে প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার গতি অনেক বেড়ে গেছে। যাকে বলা যায় বিদ্যুৎ গতি পেয়েছে সব অবস্থাতেই। হয়তো সে জন্যই তদন্ত শেষে ঘটনার এক মাস আটদিনের মধ্যে ১৬ আগস্ট সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

পরবর্তিতে গত ১ অক্টোবর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ৪, ৭, ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর এই নয় দিবসে ৩৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৬ জন সাক্ষ্য দেন আদালতে। মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামের আইনজীবীর আবেদনে ১১ সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি শোনে আদালত।

সিলেটের পিপি বলেছেন, ‘মঙ্গলবার আদালতে গ্রেফতার বাকি দুজন ও পলাতক দুজনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক ৮ নভেম্বর রায়ের দিন ঠিক করেছেন।’ এর আগের দিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেফতার ১১ আসামির মধ্যে নয়জনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যেভাবে শিশু রাজন হত্যা মামলার দ্রুতো অগ্রগতি হয়েছে; তা যাদি শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থেকে আসামীদের শাস্তি কার্যকরী হয় তবে বাংলাদেশের ফৌজদারি মামলার ইতিহাসে এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেবে।

রাজন হত্যার তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ার মতো দু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রায় সব ফৌজদারি মামলার অবস্থা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। যার জন্য বলতেই হবে: আমাদের দেশের আইনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের অধিকার বঞ্চিত করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে দায়ি। একজন স্বাধীন নাগরিকের প্রধান চাহিদার অন্যতম চাহিদা হলো, সঠিক সময়ের মধ্যে ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার। এটা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই মৌলিক অধিকার ব্যাহত হলে মানুষের জীবন দুর্বিসহ হতে পারে। ন্যায় বিচার সময়মত না পেলে মানুষ যে কি পরিস্থিতির শিকার হতে পারে তা বর্ণানাতীত। আর ন্যায় বিচারের অভাবে মানুষ যে কি অবস্থার সম্মুখীন হয় তার অনেক প্রমাণ আমাদের দেশে বিদ্যমান।

মুক্তিযোদ্ধ ফালু মিয়া: ১৯৭২ এর ২৭ আগস্টের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ ফেরত দিনমজুর ফালু মিয়া: চিতাবাঘের মতো ক্ষিপ্র এক কর্মী পুরুষ।তিনটি ডাকাতি মামলায় তাঁকে সাভার পুলিশ সন্দেহবশত গ্রেফতার করে। ঘরে তখন মাত্র তিন মাসের সংসারের গর্ভবতী স্ত্রী।যদিও ডাকাতি কেসগুলোর দুটিতে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছিল। তাই আসামি তালিকায় ফালু মিয়ার নামই ছিল না। কিন্তু তবুও মুক্তি পায়নি ফালু মিয়া। তৃতীয় মামলায় সাত (৭) বছর পর বিচার শুরু হয়েছিল। বাদীপক্ষ অর্থাৎ পুলিশ উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছিল যে, তদন্তে ফালু মিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে সামরিক আদালত অন্য অনেকের সঙ্গে ফালুকে ১২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিল।যে মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগই পায়নি ফালু মিয়া। তথাকথিত ‘সাজা’ শেষ হয়েছিল। কিন্তু তারপরও বন্দিত্ব চলতেইছিল ফালু মিয়ার।

’৯৩-এ যখন তিনি মুক্তি পান তখন বাংলাদেশ জুড়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। ইন্টারভিউ দিতে দিতে ক্লান্ত ফালু মিয়া একটি কথাই বলতেন,‘আদালত, পুলিশ আর কারা কর্তৃপক্ষের অমনোযোগিতা, অদক্ষতা আর অবহেলার কারণে আমার জীবনের ২২টি বছর হারিয়ে ফেলেছি।’

ফালু মিয়ার অবৈধ ও বেআইনি আটকাদেশ নিয়ে একটি মানবাধিকার সংস্থা সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৯৪—এর ২৮ মার্চ ১০ লাখ ৩৩ হাজার টাকার একটি ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছিল।ফালু মিয়ার মুক্তির পর ৬ বছর পর্যন্ত মামলাটি চলেছিলও। কিন্তু কোন ক্ষতিপূরণ সে পায় নি। মামলার তারিখ পড়লেই সরকার পক্ষ থেকে সেদিন গরহাজির থাকত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলার যে জবাব দাখিল করেছিল, তাতে উল্লেখ করেছিল যে, ফালু মিয়া একজন কুখ্যাত পেশাদার ডাকাত।

এভাবে ২৪ নভেম্বর ১৯৯৩ পর্যন্ত ২১ বছর ৮ মাস কারাগারে কেটে ছিল ফালু মিয়ার। ফালু মিয়া দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিল, স্বাধীনতাও এনেছিল। স্বাধীন সেই বাংলাদেশ ততদিনে যৌবন প্রাপ্ত হয়েছিল। আর ফালু মিয়া হয়েছিল ৬০ বছরের বৃদ্ধ। নির্দোষ কারা জীবনের যন্ত্রণায় আর সেখানকার শারীরিক শ্রমে ফালুর একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল হয়েছিল যক্ষা রোগ।

মুক্তির সময় ফালু মিয়ার কোনো মামলারই বিস্তারিত কাগজপত্র পাওয়া যায় নি। জেলে থাকা অবস্থাতেই ফালু মিয়ার বাবা, মা, চাচা সবাই মারা গিয়েছিল। বৌ চলে গিয়েছিল, সন্তানের খোঁজ ছিল না। ছিল না কোন স্থাবর সম্পত্তিও। ফালু মিয়ার খোঁজ রাখেনি নিকটাত্মীয় কেউ। কারণ তাঁর গ্রেফতারের কথা কেউ জানতো না। জেল থেকে যোগাযোগও করতে পারেন নি ফালু মিয়া।যদিও চিঠিপত্র লিখতেন কিন্তু সে চিঠি লাল দেয়াল পেরিয়ে সাভার আর পৌঁছতো না।

ফজলু মিয়া: ফালু মিয়ার মতো আরেক জন ফজলু মিয়া। বিনা বিচারে ২২ বছর কারাগারে আটক ছিলেন। ওই ব্যক্তি গত ১৫ অক্টোবর ২০১৫ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই সিলেটের আদালত প্রাঙ্গন থেকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে ফজলু মিয়াকে পুলিশ আটক করে।

পরে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে এক আইনে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বহু আইনি লড়াইয়ের পর ২০০৩ সালে আদালত তাকে মুক্তির আদেশ দিলেও মুক্তি মেলেনি ফজলু মিয়ার। একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় অবশেষে তিনি সিলেটের জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। ২২ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ১১ জুলাই সিলেটের আদালত এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় ফজলু মিয়াকে পুলিশ আটক করেছিল। প্রথমে ৫৪ ধারায় সন্দেহবশত আটক করা হলেও পরে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে সে সম্পর্কিত বিধিতে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে রাখা হয়েছিল। আবার এক পর্যায়ে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ফজলু মিয়াকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়েছিল।

গত ২২ বছরে ফজলু মিয়াকে ১৯৮ বার আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিলেটে কারাগারের সুপার আইনী সহায়তাদানকারি বেসরকারি সংস্থা ব্লাস্ট এর সহায়তা নিয়ে ফজলু মিয়াকে মুক্ত করেন। সিলেট থেকে ব্লাস্টের আইনজীবী জ্যোৎস্না ইসলাম জানিয়েছেন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য কামাল উদ্দিন রাসেল দায়িত্ব নেয়ায় ফজলু মিয়া মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু ১৩ বছর আগে ২০০২ সালে আদালত তাকে তার আত্নীয়-স্বজনের জিম্মায় মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল।ফজলু মিয়ার কোন আত্নীয়-স্বজন খুজে না পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। জ্যোৎস্না ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তার মক্কেল ২৭/২৮ বছর বয়সে আটক হয়েছিল। ২২ বছর পর মুক্তি পেয়ে ফজলু মিয়া হয়েছিলেন আবেগপ্রবণ কিন্তু সেই সাথে তিনি বেশ অসুস্থও।

বিনা বিচারে ফজলু মিয়ার জীবনের একটা বড় সময় যে নষ্ট হয়ে গেলো, তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা, এসব প্রশ্ন তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সুলতানা কামাল বলেছেন, “ফজলু মিয়ার জীবনের সেই সময়গুলো কেউ ফেরত দিতে পারবে না। তারপরও কোনভাবে তাকে যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া যেতো তা হলে কিছুটা হলেও সান্তনা পাওয়া যেতো। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও বলেছে, ফজলু মিয়ার আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রশ্নে আইনগত বিষয় তারা খতিয়ে দেখবে। কিন্তু এ ধরণের কোন উদাহরণই তৈরি হয়নি।” যেমন মুক্তিযোদ্ধা ফালু মিয়া ও মামলা করে কোন ক্ষতিপুরণ পায়নি।

শিশু রাজন, মুক্তিযোদ্ধা ফালু মিয়া ও ফজলু মিয়ার মামলা ও ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে বোধগম্য হয় যে, প্রশাসন ইচ্ছে করলে শিশু রাজনের মামলার মতো দ্রুতোই একটা দৃষ্টান্ত বা নজির স্থাপন করতে পারে। নইলে বহু ফালু আর ফজলু কারাগারের অন্ধ প্রকষ্টে মাথা ঠুকে মরবে কিন্তু কোন প্রতিকার পাবে না।

মে ২০১৫ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৭৬টি আদালতে বিচারাধীন মামলা জমা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার। তার ওপর প্রতিদিনই দায়ের হচ্ছে নতুন মামলা। এর মধ্যে জেলা ও দায়রা জজের আওতাধীন আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলে ১ লাখ ১৭ হাজার। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে রয়েছে সাড়ে ২৩ হাজার মামলা। একইভাবে সিএমএম আদালতের অধীনস্থ আদালতগুলোতে মামলা রয়েছে ২৬ হাজার। মহানগর দায়রা জজ আদালতের অধীনস্থ আদালতগুলোতে মামলা রয়েছে ২২ হাজার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৩টিতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১৫ হাজার। পরিবেশ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ২৬৬টি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা রয়েছে ১৫০টি। এদিকে ফৌজদারি মামলার বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতার কারণে নষ্ট হচ্ছে অনেক মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত।

সুপ্রিম কোর্টের ২০১৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের আদালতে বর্তমানে ২৮ লাখেরও বেশি মামলা পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘বিকল্প পন্থায় এসব মামলা নিষ্পত্তি হলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে মামলা জটের বিশাল চাপ কমবে।’ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাড়ে ৬ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার জনকে স্থানীয় সালিশী ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

জার্মান উন্নয়ন সংস্থা ‘জিআইজেড’ পরিচালিত ‘২০১২ জাস্টিস অডিট প্রতিবেদনে’র তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিকল্প পন্থায় মামলা নিষ্পত্তিতে বেশি আগ্রহী। বাংলাদেশে মোট মামলার মাত্র ২০ শতাংশ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিকল্প পন্থায় মামলা নিষ্পত্তির হার ৮০ শতাংশ। সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৫৭ হাজার ২৭৫ নারী, ৫২ হাজার ৩৫৪ পুরুষ ও ৩২৫ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ জনকে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে দেওয়ানি ১৪ হাজার ৩৭১টি মামলা এবং ফৌজদারি ২৬ হাজার ৬১৫টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই সময় মতো ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। এটা প্রত্যেক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। তাই এই অধিকার কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে তা অবশ্যই আইন প্রণেতা ও নীতি নির্ধারকদের খুঁজে বের করতে হবে। নইলে স্বাধীনতা নামের শব্দটিই অর্থহীন হয়ে পড়বে। যেমন মুক্তিযোদ্ধ ফালু মিয়া আর ফজলু মিয়ার জীবনে স্বাধীনতার কোন স্বাদই জোটেনি-জুটেছে মধ্য যুগের বর্বরতা। তাঁদের জীবন যেন কোন অত্যাচারি এবং খামখেয়ালি রাজার শাসনের দন্ডে অভিশপ্ত এক অন্ধকারময় অবস্থা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *