ফুজ পোজ | sampadona bangla news
শুক্রবার , ২০ জুলাই ২০১৮

ফুজ পোজ

জবাইকিরো : সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই শ্রুতি ছিল পুলিশ ঘুষখোর! আর তাই ঘুষ খাওয়ার প্রতিক্রিয়া এমন ছিল নৈতিকতর প্রশ্লে কিছু লোক পুলিশকে এড়িয়ে চলতো। অনেকে পুলিশের ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দিতে চাইত না।

এখন আর সেই ব্রিটিশ যুগ নেই। এখন যার টাকা আছে সে-ই সমাজে হিরো। সে টাকা কখন কিভাবে অর্জিত হলো, তা আর কেউ ভাবতে চায় না। টাকা দেখলেই লোকে এখন চুমো খায়।

টাকা টাকা আর টাকা। টাকা ছাড়া ফুজের জীবনে আর কোন ভাবনা নেই-লক্ষ্যও নেই। সে শুধু ভাবে কেমন করে বেশি বেশি টাকা কামানো যাবে। কারণ টাকা থাকলে যেমন সহজেই যা ইচ্ছে তাই করা যায়, অন্য কিছুতে তা হয় না। রাত দিন ফুজ ভাবে, কিভাবে তারাতারি টাকা কামাবে।

একদিন ফুজ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখল, পুলিশ অফিসার নিয়োগ হবে। সে ঠিক করে ফেলল পুলিশ অফিসার তাকে হতেই হবে। কারণ পুলিশ অফিসার হলে শর্টকার্টে টাকা কামানো যাবে।

ফুজ একটা লাইন দিয়ে খোঁজ পেল, পুলিশ অফিসারে সারাসরি যোগ দিতে দশ লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু কোথায় পাবে ফুজ দশ লাখ টাকা। তাঁর বাবার দশ হাজার টাকা দেওয়ার ও ক্ষমতা নেই।

ফুজদের এক প্রতিবেশি। চলন বলনে মনে হয় বেশ পয়সাওলা। বিশেষ করে প্রতিবেশির মেয়ে এক এক সময় এক এক ড্রেস পড়ে ছাদে পোজ দিত। সে দেখতে সুন্দরী না হলেও চলনসই। অন্তত কুৎসিত নয়। ফুজ ফন্দি আটল ওই মেয়েকেই গুটি করবে।

ফুজ দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম-লম্বায় প্রায় ছয় ফিটের কাছাকাছি। জিন্স, টি-সার্ট আর বিদেশি কেটস পড়ে সে যখন বাড়ি থেকে বের হয়; তখন অনেকেই তার দিকে চেয়ে থাকে-বিশেষ করে পাড়ার কিশোরী মেয়েরা। ব্যাপারটা ফুজ খুব একটা না বুঝলেও, একটু একটু বোঝে। বিয়ের পিড়িতে তার বেশ চাহিদা হবে, এমন একটা অস্পষ্ট ধারণা তার ছিল।

প্রেম-ট্রেম কিভাবে করতে হয়, তা ফুজ এই চ্যাটিং এর যুগেও তেমন বোঝে না। প্রেম করতে যে ধৈর্যে্র দরকার্ তাও ফুজের নেই। সে সব কিছু শর্টকার্টে চট জলদি সারতে চায়। তাই একদিন ফুজ ছাদে পোজ মারা মেয়েটির বাবাকেই ধরল। জানাল সে পুলিশ অফিসার হতে চায়, ঘুষ দিয়ে। দশ লাখ টাকা লাগবে পুলিশ অফিসার হতে। পোজ দেওয়া মেয়েটির নাম ও জানে না ফুজ। পোজের বাবা কিন্তু বেশ ধারিবাজ। শর্টকার্ট পথে পয়সা করেছে। তাই সে সমাজের অনেক কিছুকেই অন্যরকমভাবে দেখে। যা সাধারণ মানুষ দেখে না বোঝেও না। বৈষয়িক অভিজ্ঞ পোজের বাবা গোপনে দশ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার মেয়ে পোজের বিয়ে দিয়ে দিল ফুজের সাথে।

অবশেষে একদিন ঘুষ দিয়ে পুলিশও হয়ে গেল ফুজ। ট্রেনিং শেষ হলো। রাজধানীতে পোর্ষ্টিং হলো। শশুরের বুদ্ধিতে ঘুষ দিয়ে তারাতারিই কয়েকটি পদোন্নতিও পেল। এখন ফুজ রাজধানীতে পাওয়ারফুল পুলিশ অফিসার। বড় অফিসারকে ঘুষ দিতে গিয়ে ঘুষ নেয়াও শিখল। পরিবেশই শিখিয়ে দিল কিভাবে ঘুষের কারবার করা যায়-আর ফুলে ফেপে উঠা যায়। রাজধানীতে ফুজ এখন কোটিপতি পুলিশ অফিসার। যা সাধারণ ভাবে কোন অবস্থায়ই হওয়া সম্ভব না।

অনেক ঠাট বাট ফুজের। কয়েকজন সহকারি নিয়ে পুলিশের বিশেষ বিভাগে সে কাজ করছে। শোনা যায়, রাজধানীতে টাকা উড়ে বেড়ায়। কিন্তু তা সবার জন্য না। কিন্তু পুলিশের জন্য বিশেষ করে ফুজের মতো অফিসারের জন্য তা সহজই প্রায়। যেহেতু ফুজ বেশ অলৌকিকভাবে ঘুষ লেনদেনের কায়দা কানুন শিখেছিল।

ফুজের অন্যকিছুতে নেশা নেই। এক বউ নিয়েই সন্তুষ্ট; যদিও পুলিশ অফিসার হওয়ার সুবাদে হরেক রকম সুন্দরী মেয়ে ভোগ করার সুযোগ আছে। জুয়াও খেলে না। ফুজের নেশা কেমন করে টাকা কামানো যাবে-শুধু সেই দিকেই।

দেখতে দেখতে ফুজ আর তার বউ পোজের জীবনের প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তাদের এক মেয়ে ও ছেলে হয়েছে। মেয়ে ইশা বড়। কলেজে উঠেছে। টাকার নেশায় ব্যস্ত ফুজ ছেলে মেয়ের দিকে তেমন মনযোগ দিতে পারেনি। মেয়েটা যে কখন কিভাবে ড্রাগ এডিকটেড হয়ে পড়েছে তাও জানে না।

ফুজের লাখ লাখ টাকা বিছানা আর বালিশের নীচেই পড়ে থাকে। ব্যাংকে রাখে না। ইদানিং ব্যাংক ম্যানেজার কেমন যেন বাঁকা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়। কারণ ব্যাংকে তার টাকার পাহাড় হয়ে গেছে। বছর শেষে যে ইন্টারেস্ট ফুজের একাউন্টে জমা হচ্ছে তা রীতিমতো ঈর্ষনীয়   আর ভয়েরও ব্যাপার। তাই এখন সহজে ফুজ ব্যাংকে যেতেই চায় না।

বে-নামে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বাড়ি হয়েছে, মার্কেট হয়েছে ফুজের। যার বাজার মূল্য শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তার নিজের কয়েকটি সৌখিন গাড়ি আছে। যে গাড়ির কাছে সরকারি গাড়ি লক্কর ঝক্কর ছাড়া কিছু নয়।

ফুজের বউ পোজ সাড়াদিন ব্যস্ত থাকে মার্কেটিং আর সাজ সজ্জা নিয়ে। দুহাতে টাকা খারচ করে। যাকে উড়ানোও বলা যায়। মেয়ে ইশাও তাই। কিন্তু কোউ কাউকে লক্ষ্য করে না।

একদিন হঠাৎ ফুজ আবিস্কার করল তার টাকা চুরি হচ্ছে। পোজ টাকা নিলে বলে। কিন্তু মেয়ে ইশা বলে না। ফুজের পুলিশি দৃষ্টি হঠাৎ মেয়েকে সন্দেহ করতে আরাম্ভ করলো।বুঝতে পারল ইশা অস্বাভাবিক হারে টাকা সরাচ্ছে। তখন মেয়ের ড্রাগ নেওয়ার ব্যাপারটা তারা কাছে বেশ বড় হয়েই দেখা দিল। এতোদিন তেমন আমল দেয়নি ফুজ। শুনেছে মেয়ে নেশা করে। গাঁজা-সিগরেট খায়।

মেয়ে নেশা করে বেশ নতুন ব্যাপার। কারণ মধ্যবিত্ত সমাজে এখন ছেলেদের নেশা বেশ গা সওয়া হলেও মেয়েদের নেশা তেমন শোনা যায় না। যদিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়ে নতুনত্বের জন্য এখন নেশা ধরছে।

যেসব মেয়ে একদম বখে গেছে, তারা ছেলে বন্ধুদের সাথে দৌহিক সম্পর্কও করছে। বাচ্চা বেধে গেলে অবাধে বাচ্চাও নষ্ট করে ফেলছে। কোন নৈতিক দায় এদের নেই। এরা শুধু বুঝছে মজা লোটার কথা। বাবা মায়ের সৎ পথে বা অসৎ পথে উপার্জিত টাকা এদের হাতিয়ার।

কোন কিছুতেই আর সুখ পাচ্ছে না তারা। একমাত্র নেশায় চুর হওয়া ছাড়া। বন্ধু বান্ধব নিয়ে নেশায় চুর হতে বিশ পঞ্চাশ হাজার টাকা এখন কোন ব্যাপারই না-এক আসনেই তা লাগছে। আর এজন্য ফুজের টনক নড়েছে।

চিন্তায় পড়ে গেছে ফুজ, মেয়ে ইশাকে নিয়ে। এ অবস্থায় ইশার এক বন্ধু পরামর্শ দিল ইশাকে ড্রাগ রিমুভ সেন্টারে পাঠাতে। তাই করা হলো। আর একদিন হিসেব পেতেও দেরি হলো না ড্রাগ রিমুভ সেন্টারের ডাক্তার, বয় বাবুর্চিও ড্রাগ এডিকটেড। সকলে মিলে ফুজের টাকায় ফুর্তি আর আনন্দ হৈই চৈই করে ড্রাগ নিচ্ছে।

ইশার অসংলগ্ন কাজকর্মে বিরক্ত হয়ে এখন তাকে পেটাতেও দ্বিধা করে না ফুজ। কারণ একজন মেয়ে হিসেবে ইশা এখন রীতিমত ভংকর এক চরিত্র। ইদিনিং ফুজ বুঝতে পারছে, তার মেয়ে ছলনা চাতুরির আশ্রয়ে অনেক কিছু করছে। যাতে তার বন্ধু বান্ধব বুদ্ধি যোগাচ্ছে।

বাবা টাকা পয়সার ব্যাপারে টাইট দেওয়ায় বর্তমানে বেশ আকর্ষনীয় ইশা নিজের যৌবনকে পণ্য করতেও দ্বিধা করছে না। অর্থাৎ সে অনেক কিছুই করছে নেশার টাকা যোগাতে। মুশকিল হচ্ছে তার বন্ধুদের হাতে তেমন টাকা থাকে না। বরং বন্ধরাই এতোদিন ইশার টাকায় চলতো।

এক বৈঠকে বন্ধুরা ইশাকে বুঝালো এবং বুদ্ধি দিল, তার বাবাকে জবাই করে মারলে সে তার বাবার সম্পতির মালিক হয়ে যাবে। সম্পত্তির মালিক হলে ইশার আর নেশার টাকার সমস্যা হবে না।

ইশা বলল, ‘সে একা কেমন করে বাবাকে জবাই করবে।’ তখন স্থির হলো তার দুই-তিন বন্ধু এব্যাপারে তাকে সাহায্য করবে। ঠিক হলো ইশার বাবাকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে ঘুম পাড়াতে হবে। তা হলে জবাই এর কাজ সহজে ঠিকমতো করা যাবে।

কফির সাথে কড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হলো ফুজকে এবং ইশার মা পোজকে। এর পর ধারালো চাকু দিয়ে ইশা তার বাবার গলা দুইভাগ করে ফেলল। অস্বাভাবিক শব্দে পোজ চোখ খুলতেই তাকেও একই পথে যেতে হলো। অর্থাৎ মাকেও জবাই করে ফেলল ইশা। ঘটনাটা কত বড় আর ভয়ংকর তা ইশা কতটুকু বুঝল তা জানা গেল না।

মামলা হলো। ইশা ধরাও পড়ল। একজন পুলিশ অফিসার ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার অপরাধে দ্রুত বিচার আইনে ইশার বিচার হলো। বিচারক রায় দিলেন দুবার মৃত্যুডণ্ড হবে ইশার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*