ফিল্ম থেকে টিভি জার্নি | sampadona bangla news
বুধবার , ২৬ জুলাই ২০১৭

ফিল্ম থেকে টিভি জার্নি

 

সম্পাদনা অনলাইন : ধারাবাহিক শুরুর একমাসের মধ্যেই নতুন ট্যুইস্ট। কাহিনি এগিয়ে যাচ্ছে দুশো বছর। এই পর্বে স্টার প্লাসের নতুন ধারাবাহিক ‘আরম্ভ’র কেন্দ্রীয় চরিত্র রানি সম্ভবীজার মাধ্যমে অভিনেত্রী মধু ছোট পরদায় পা রাখতে চলেছেন। মুম্বইতে পাওয়াইয়ের সেটে বসে তিনি কথা বললেন মন খুলে।

 অবশেষে আপনি টিভিতে। সিদ্ধান্ত নিতে এতটা সময় নিলেন কেন?
 আমি সবসময়ে আমার মনের কথা শুনে চলি। আমি গত কয়েক বছরে অনেক ধারাবাহিকের অফার পেয়েছি। কিন্তু মন মানছিল না। প্রতিদিন ১৬-১৭ ঘন্টা কাজ পোষাবে না। এই ধারাবাহিকটা কিন্তু সিনেমার মতো বানানো হচ্ছে। উইকএন্ড শো, মাসে পাঁচ-সাত দিনের কাজ। টিভিতে পা রাখার জন্য এটাই সঠিক সময় মনে হল বলেই তাই রাজি হলাম।
 এই ধারাবাহিকে আপনার চরিত্রটা কীরকম?
 আমি রানি সম্ভবীজা। পুরুষতন্ত্র বনাম নারীতন্ত্রের লড়াই। নারীতন্ত্রের রানি এই সম্ভবীজা। সে ধূর্ত। একজন রাজার মতোই এই রানিও নিজের সাম্রাজ্য রক্ষা করতে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
 চরিত্রটা নেগেটিভ মনে হচ্ছে।
 শুনে তাই মনে হলেও আদতে চরিত্রটা নেগেটিভ নয়। একজন রাজাকে সিংহাসন রক্ষা করতে হলে তো ভালো-খারাপ দু’রকমের কাজই করতে হয়। চরিত্রটার অনেকগুলো দিক হয়ত নেগেটিভ। তাই আমি চরিত্রটাকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই যাতে দর্শকের কাছে আমি খলনায়িকা না হয়ে উঠি।
 শুনলাম ধারাবাহিকে আপনার প্রবেশের সময়ে সম্ভবীজা গর্ভবতী এবং যুদ্ধে ব্যস্ত। তাহলে আপনার স্বামী কে?
 হ্যাঁ। গল্পে এইভাবেই আমি আসছি। সম্ভবীজা এতটাই শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী যে গর্ভাবস্থায় নিজের রক্ষনাবেক্ষণের জন্যও তার কোনও পুরুষের প্রযোজন নেই। তবে দেখুন রাজা যেমন উত্তরাধিকার হিসেবে পুত্র সন্তান চান, এই রানি কিন্তু কন্যা সন্তান চায়। এটাই চরিত্রটার বৈশিষ্ট্য(হাসলেন)। আর স্বামীর পরিচয়টা সারপ্রাইজ থাক।
 ‘বাহুবলী’র লেখক কে ভি বিজয়েন্দ্র প্রসাদের মস্তিষ্কপ্রসূত ধারাবাহিক ‘আরম্ভ’। ছবিটা দেখেছেন?
 অবশ্যই। আমার দারুণ লেগেছে। ছবির রূপকথা অংশটা আমার খুব ভালো লেগেছে। তবে আমার সিক্যুয়েলটা বেশি ভালো লেগেছে।
 আপনি কি এই ধরনের গল্পে বিশ্বাস করেন?
 দেখুন সবথেকে বড় কথা দর্শক এখন এই ধরনের গল্প পছন্দ করছেন। ‘বাহুবলী ২’ তো এত বড় হিট হল। পুরাণের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন চ্যানেলে এত ধারাবাহিক তৈরি হচ্ছে। ছবির ক্ষেত্রে যেমন ধরুন ‘জগ্গা জাসুস’। আসলে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত বাস্তববাদী ছবি তৈরি হচ্ছে। সেখানে আমার মনে হয় কখনও কখনও রূপকথারও প্রযোজন আছে। ‘আরম্ভ’ এর বৈশিষ্ট্য— এটা মৌলিক ফিকশন। কোনও প্রচলিত পুরাণ কাহিনির অনুকরণ নয়।
 এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে আরও একজন ছোট পরদায় পা রাখলেন—তনুজা। তাঁর সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল?
 তনুজাজির সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। এবারে প্রথম দিন সেটে দেখা হতেই খুব ভালো লাগল। আসলে কাজের জায়গায় পরিচিত মানুষরা থাকলে কমফোর্ট লেভেলটা বাড়ে। অমিতজি বা শাহরুখকে সাক্ষাৎকারে অনেকবার বলতে শুনেছি ‘আমি চেনা লোকেদের সঙ্গে কাজ করতে চাই’। তখন বুঝতাম না। এখন কথাটার গুরুত্ব বুঝতে পারছি।
 এখন ‘নারীবাদ’ নিয়ে আলোচনা হলেও মেয়েদের উপর অত্যাচার তো কমছে না। এই ধারাবাহিক কি কোনও ইতিবাচক বার্তা দেবে?
 বার্তার থেকেও বড় কথা আমি ভাবি সমাজে এত ঘৃণা থাকে কী করে! ছাত্ররা একটা নিষ্পাপ কুকুরকে পিটিয়ে মারছে, অসহ্য! আজকাল তো খবরই দেখি না। সামগ্রিকভাবে মানবজাতির একটা আধ্যাত্মিক জাগরণ না ঘটলে এই নৈতিক অধঃপতন থামবে না। তিরিশ চল্লিশ বছর আগে আমার মা-বাবা আমাকে একা ছাড়তে এতটা ভয় পেতেন না। অথচ আজকে পরিস্থিতি দেখুন।
 আপনারও তো দুই মেয়ে।
 আমি ভয় পাই। কেন এত ভয়? তেরো বছর বয়সে আমি একা বাস ধরে স্কুলে যেতাম। আজকে মেয়েদের বাড়ির নিচে পর্যন্ত একা ছাড়ি না। আমিও তো একজন মা। তা বলে আমি কিন্তু ওদের শেখাই না যে পুরুষ মাত্রই খারাপ। তবুও সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
 এই ধারাবাহিক নিয়ে ওরা কতটা উৎসাহী?
 আগে পরদায় অন্য কোনও নায়কের সঙ্গে আমাকে দেখলে ওরা খুব রেগে যেত, বলত ‘এটা তো বাবা নয়’(হাসি)। নানা পাটেকর আমাকে মারছেন বা মিঠুনদার ছবিতে আমি মারা যাচ্ছি দেখে ওরা কেঁদে ফেলত। এখন বুঝতে শিখেছে। আসলে কী জানেন, আমি বরাবর আমার মেয়েদের সাপোর্ট করতে চাই। তবে বলে দিয়েছি পড়াশোনা শেষ করে তারপর যা ইচ্ছে করবে। বড় মেয়ে তো ক্লাস টেনে দারুণ রেজাল্ট করেছে। ও অভিনেত্রী হতে চায়।
 এই বছর আপনার ছবি ‘রোজা’র ২৫ বছর। কী বলবেন?
 একটাই কথা বলব আমি কৃতজ্ঞ। এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কাউকে মনে রাখে না। সেখানে একটা ছবির জন্য পঁচিশ বছর পরেও আমাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
 মণিরত্নমের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?
 অবশ্যই। নিয়মিত যোগাযোগ আছে। ওঁর ছবি মুক্তির আগে মেসেজ করা বা ছবি দেখে মতামত জানানো লেগেই থাকে।
 বিগত কয়েক বছরে দক্ষিণী ছবিতে কাজ করেছেন। কিন্তু বলিউডে সেইভাবে আপনাকে আর দেখা গেল না কেন?
 কারণটা আমার কাছেও পরিষ্কার নয়। আমার মনের মতো চরিত্র আমাকে অফার করা হয়নি। প্রত্যেকবারই মনে হয়েছে নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে অভিনয় করা উচিত নয়। তাই আমি রাজি হইনি।
 ইউটিউবে আপনার শর্ট ফিল্ম ‘পকেট মাম্মি’র ভিউ সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে। বিনোদনের সংজ্ঞা তো বদলাচ্ছে।
 এই অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স বা ইউটিউবের বাড়বাড়ন্ত কিন্তু একজন অভিনেতাকে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। আগেই বলেছি পছন্দ হলে নিশ্চয় কাজ করব। মাধ্যমটা বড় কথা নয়।
 বাংলা কাগজের জন্য সাক্ষাৎকার। তাই জানতে ইচ্ছা করছে বাংলার সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা কীরকম?
 (হেসে)ছোটবেলায় এক বাঙালি বন্ধুর বাড়িতে দুর্গা পুজো দেখতে যেতাম। একটা কথা হয়ত অনেকেই জানেন না যে আমার পরিবার আনন্দময়ী মায়ের ভক্ত। আমি নিজেও মাকে খুব মানি। বাংলার সঙ্গে আরও একটা বড় যোগসূত্র আমার ছোট মেয়ে। ওর নাম কেয়া।

 

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*