পিআইও অবসরন দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি | sampadona bangla news
শুক্রবার , ২০ এপ্রিল ২০১৮

পিআইও অবসরন দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি

রহিম রেজা, ঝালকাঠি : থেকেঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাসরিন সুলতারার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সভা করে অপসরন ও বিচার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিরা। সোমবার অর্ধদিন ব্যাপি উপচেলা চত্ত্বরে বিক্ষোভ ও উপজেলা সভাকক্ষে প্রতিবাদ সভা করে ইউএনওর মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মহাপরিচালব বরাবরে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

উপজেলায় এ পিআইও যোগদানের পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কয়েক মাস ধরে পিআইও এবং উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় দু’দফা এ উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিখা, কাবিটা, অতি দরিদ্রদের ৪০ দিন কর্মসূচি, ত্রানের ব্রীজ নির্মান, সোলার স্থাপন ও বিশেষ বরাদ্দ প্রকলল্পের বিভিন্ন প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে এ উপজেলার তৃনমূল উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন উদ্দেশ্য বেস্তে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রোববার জেলা প্রশাসক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মন্ত্রনায়লকেও অবহিত করেও জনপ্রতিনিধিরা কোন সুরাহা না পেয়ে সোমবার সকালে তারা তাদের অভিযোগ ও দাবি নিয়ে প্রকাশ্যে আন্দোলন শুরু করে। সকালে উপজেলা চত্ত্বরে পিআইওর অপসরন দাবি করে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে নারী, পুরুষ জনপ্রতিনিধিরা। পরে দুপুরে সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিতপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দেন জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামানের এ বার্তায় আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়ে উপজেলা সভাকক্ষে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধা, সাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, মঠবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার ও শুক্তাগড় ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক মৃধা, তৌহিদুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম তারেক প্রমুখ। কর্মসূচিতে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর ও ইউপি মেম্বরগণ একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন। বক্তারা অনতিবিলম্বে পিআইও নাসরিন সুলতানাকে অবসরন ও তার বিচার দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন। জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, উপজেলার সকল টিআর, কাবিখা, কাবিটা, অতি দরিদ্রদের ৪০ দিন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৫০ পাসেন্ট ঘুষ দাবি করেন এবং প্রতিটি প্রকল্প মাস্টাররোল জমা দেয়ার প্রক্কালে টিআর প্রতি ২ হাজার, কাবিখা প্রতি ৫ হাজার ও কাবিখা প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরির সময় ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের নামে মাইক্রো গাড়ি ভাড়া বাবদ ও নানা অযুহাতে ঘুষ দাবি করেন।

এমতাবস্থায় রাজাপুর উপজেলায় দু’দফায় এসব উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ২৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতপূর্বক দ্রুত সমস্যা সমাধান করা হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান জানান, এ উপজেলার জন্য দু’ফায় বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিখা, কাবিটা, অতি দরিদ্রদের ৪০ দিন কর্মসূচি, ত্রানের ব্রীজ নির্মান, সোলার স্থাপন ও বিশেষ বরাদ্দ প্রকলল্পের বিভিন্ন প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে রাজাপুরের উন্নয়ন কাজকে গতিশীল করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযুক্ত পিআইও নাসরিন সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সদর চেয়ারম্যান ফুলুহার স্কুলের মাঠ বরাটের একটি বিল পাস করতে বলেন, তিনি নাকি ৩ বছর পূর্বে কাজ করেছে। সে বিল পাশ করা সম্ভব না বলায় এবং অন্যান্য ইউনিয়নে ৪০ দিনের কাজ ঠিকমত হয় না, সেগুলোর বিল কেটে দিয়ে প্রস্তুত করতে বলায় তারা ক্ষিপ্ত। এছাড়া টিআর’র কোন কাজই হয়না তিনি কাজ করতে বলায় তারা ক্ষিপ্ত। এসব প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলন করতে চাইলে সে বিল পাস না করায় তারা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*