নফসের তাকওয়া অবলম্বনের উপায় | sampadona bangla news
রবিবার , ১৯ আগস্ট ২০১৮

নফসের তাকওয়া অবলম্বনের উপায়

মসজিদে নববীশেখ সা’দী।  নফসের ওপর ‘তাকওয়ার’ ভূমিকা এবং কিভাবে তা নফসের ওপর প্রয়োগ করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা করা জরুরী। কেননা, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নফসকে সুনিয়ন্ত্রিত করতে হলে প্রথমেই দৃঢ়সংকল্পভাবে নফসের প্রতিক্রিয়া উপলদ্ধি করতে হবে। এবং তাতে স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য যথাযাধ্য চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সে সাথে সকল ধরনের গুনাহ থেকে নফসকে ফিরিয়ে রাখবে। এমনকি, নফসকে অপ্রয়োজনীয় কোন কিছুতেও জড়াতে দেবে না। তখনই তুমি অর্জন করতে পারবে তোমার চোখ, তোমার কান, জিহ্বা, মন, পেট এবং লজ্জাস্থানের ব্যাপারে ‘তাকওয়া’। এভাবেই নফসকে তাকওয়ার শক্ত লাগামে বেঁথে ফেলতে পারবে। এখন যে ব্যক্তি আল্লহ তা‘আলার তাকওয়া অবলম্বন করতে চায়, তাকে অবশ্যই তার পঞ্চেন্দ্রিয়ের ব্যাপারে সাবধান থাতে হবে। কোননা এ বিষয়টাই হচ্ছে মূল। এই পঞ্চইন্দ্রিয় হলো: চোখ, কান, জিহ্বা মন ও পেট। এই ইনন্দ্রিয়গুলোকে এমন বিষয় থেকে হেফাজত করতে হবে, যেসব বিষয়ের মধ্যে দ্বীনের দিক থেকে সমান্যতমও ক্ষতির কারণ হতে পারে, সে বিষয় হারাম অথবা অপ্রয়োজনীয়ই হোক, আর হালাল জিনিসের অপচয়ই হোক। মোটকথা, এই ইন্দ্রিয়ের মধ্যে যখন এ ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হবে। এ্ভাবেই সমস্ত শরীরে সৃষ্টি হবে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর ‘তাকওয়া’।

চোখের তাকওয়া: চোখের হেফাজত করা অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস। কেননা, এটা যাবতীয় ফিতনা এবং দুর্দশার উৎস। এ ব্যাপারে তিনটি নীতে খুব ভালভাবে বুঝে নিতে হবে। প্রথম নীতি যা আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: মু’মিনদের বলে দিন যে, তারা যেন তাদের চোখ নামিয়ে রাখে, আপন লজ্জাস্থানের হেফজত করে। এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ হবে। নিশ্চয়ই আল্লহ তাদের আমল সম্পর্কে ওয়াকিফহাল আছেন। (সূরা নূর: ৩০) অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন তিনি এমন যে, চোখের চুরির বিষয় তিনি জানেন এবং অন্তরে যা লুক্কায়িত আছে তাও তিনি জানেন। (সুরা মু’মিন : ১৯)।

হাদীসে দেখা যায়: নারীর সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ শযতানের তীরসমুহের একটি বিষাক্ত তীর। কাজেই যে ব্যক্তি তা থেকে বিরত থাকে (অর্থাৎ নারীর সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে না), আল্লহ তাকে ইবাদতের এমন স্বাদ ভোগ করান যে, সে পরিপূর্ণ আনন্দ লাভ করবে। ইবাদতে মিষ্টতা ও মুনাজাতে আস্বাদ অর্জনই এবাদত গোজার ব্যক্তির কাছে পরম পাওয়া। কেননা তাদের মতে এটাই ‘হাকীকত’। এটা এমন এক অভিজ্ঞতার বিষয় প্রমাণিত হয়েছে এবং এ পথের অভিযাত্রীদের কাজেও বিষয়টি সুপ্রমাণিত হয়ে যায়। যখন তুমি বাজে বেহুদা ও অবাঞ্ছিত কোন কিছুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করা থেকে বিরত থকবে, নিজের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে তখন এমনভাবে ইবাদতে মিষ্টতা আনুগত্যে স্বাদ এবং অন্তঃকরণে স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা থাকবে যে, এর আগে কখনও তেমন অজিজ্ঞতা লাভ করতে পারোনি।

কানের তাকওয়া: কান বা শ্রবণ এক মহা নেয়ামত, আবার তা বড়ই দুঃখের কারণ। সেজন্য কানকে বেহুদা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় শোনা থেকে বিরত রাখতে হবে। দু’টি কারণে এ ব্যাপারে অধিক সতর্ক থাকতে হবে। একদিকে বেহুদা ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় বা কথা শ্রবণকারী সেই বিষয় বা কথায় বক্তার বক্তব্যে সম্পৃক্ত হয়ে পড়া। তাই যে কোন ব্যাপারে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো, সন্দেহজনক বিষয় যেভাবে খারাপ ও মন্দ কথা বলা থেকে জবানকে সংযত রাখবে, তেমনি তা শোনা থেকেও কানকে হেফাজত রাখতে হবে। কেননা, খারাপ ও মন্দ কথা শুনলে তাতে সে কথায় সায় দেয়াই বুঝায়। এ ব্যাপারে খুবই সর্তক থাকতে হবে। অপরদিকে মন্দ ও খারাপ কথা শুনলে তা অযথাই অন্তরে ধোঁকা ও সন্দেহের সৃষ্টি করে। ফলে তা অনেক ক্ষেত্রে শরীরেও তার প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে এবং মন-প্রাণে সে প্রতিক্রিয়া ক্রিয়া করতে থাকে। ফলে আল্লহর ইবাদতের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।

রসনা তাকওয়া: রসনা নিয়ন্ত্রণও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এই রসনা জিহ্বা এত বিদ্রোহী ও লজ্বজাহীন হয়ে পড়তে পারে যে, সে যে কোন সময় মারত্মক শত্রতা করে বসতে পারে। তাছাড়া, এ জবান দ্বারাই বিরটাকারের গোলযোগও সৃষ্টি হবে পারে। সুফিয়ান ইবনে আবদুল্ল (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা) ! আমার সবচাইতে কোন অঙ্গ সম্পর্কে বেশী সতর্ক থাকা উচিত? রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিজের জিহ্বা ধরে বলেন, ‘এইটা’। ইউনুস ইবনে আবদুল্ল বলেছেন: আমি আমার নফসের প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছি যে, সে বসরার প্রখর রৌদ্র ও উত্তাপের দিনেও রোযার কষ্ট সহ্য করতে পারে, কিন্তু বেহুদা ও অনাবশ্যক কথা থেকে জবানকে সংযত করতে পারে না। কাজেই যে, রসনা সংরক্ষণ ও সংযতা রাখতে যথেষ্ট চেষ্ট ও সাধনা প্রযোজন।  (মিনহাজুল আবেদীন অবলম্বনে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*