ধর্ষণের আদি ইতি | sampadona bangla news
রবিবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ধর্ষণের আদি ইতি

মীর আখতার হোসেন : ফ্রয়েডের মতে প্রেম হলো ধর্ষণের উপায়। যখন কেউ কোন নারীকে দেখে আসক্ত হয় তখনই সে তাকে ভোগ বা ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু অহংকে ভয় দেখানো হয়। বলা হয় ধর্ষণ করলে যে শাস্তি হবে তা হবে ভয়াবহ। অহংকে বুঝানো হয়, একটু সবুর কর ওই মেয়েকে পাওয়ার ব্যবস্তা করা হচ্ছে। তখন নানা ছলা কলায় মেয়েটিকে নিবেদন করা হয়, আমি তোমাকে ভালবাসি ইত্যাদি ইত্যাদি। মেয়েটি তখন পুরুষের ছলা কলায় মুগ্ধ হয়ে লোভে পরে নিজেকে তুলে দেয় পুরুষের লালসার কাছে। এটাই ধর্ষণ। ফ্রয়েডের ভাষায় একটু ভদ্রভাবে বললে প্রেম।

যেমন জর্জ রালি স্কটও বলেছেন, যারা অর্থ ছাড়াই পুরুষদের সাথে যৌন সম্পর্ক করে তারা হলো Amateur Prostitutes অর্থাৎ ‘পেশাহীন পতিতা’।

অবশ্য ভারতীয় হাইকোর্ট অতি সম্প্রতি মত দিয়েছে কেউ যদি নিজ ইচ্ছায় দেহ দান করে তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে না। অধিকাংশ বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণ বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে তার দেহে যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে বুঝায়। সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইনবিদদের মধ্যে ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক যুগ ও ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতেও ধর্ষণের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সময়ের সাথে ধর্ষণের সংজ্ঞারও পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৭৯ সালের পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরুষকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার দায়ে অভিযুক্ত করা যেত না। ১৯৫০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু রাজ্যে কোনো শ্বেতাঙ্গ নারী স্বেচ্ছায় কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হলেও সেটিকে ‘ধর্ষণ’ বিবেচনা করা হত।

২০১২ সালের পূর্ব পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ধর্ষণকে কেবল নারীদের বিরুদ্ধে পুরুষদের দ্বারা সংঘটিত একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করত। ২০১২ সালে তারা ধর্ষণের সংজ্ঞা হিসেবে “কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলপূর্বক তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম”-এর পরিবর্তে “ভুক্তভোগীর অনুমতি ছাড়া যোনি বা পায়ুতে শরীরের কোনো অংশ বা কোনো বস্তু দ্বারা অনুপ্রবেশ কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির যৌনাঙ্গ দ্বারা মুখে অনুপ্রবেশ”-কে গ্রহণ করে। পূর্ববর্তী সংজ্ঞাটি ১৯২৭ সাল থেকে অপরিবর্তিত ছিল এবং এটিকে পুরাতন ও সংকীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হত। নতুন সংজ্ঞাটি স্বীকার করে নেয় যে, নারী ও পুরুষ উভয়েই ধর্ষক বা ধর্ষিত হতে পারে, এবং কোনো বস্তুর দ্বারা ধর্ষণও ভুক্তভোগীর জন্য যোনিপথ/পায়ুপথে ধর্ষণের মতো কষ্টদায়ক হতে পারে। এফবিআই আরো স্বীকার করে যে, ভুক্তভোগী মানসিক বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনুমতি প্রদানে অক্ষম হতে পারে, কিংবা ভুক্তভোগীকে মাদকদ্রব্য দ্বারা অচেতনও করা হয়ে থাকতে পারে। এফবিআই কর্তৃক এই সংজ্ঞাটি গ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বা রাজ্য ফৌজদারি আইনের কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি কিংবা বিচারব্যবস্থায়ও কোনো প্রভাব ফেলেনি, বরং এর উদ্দেশ্য ছিল দেশজুড়ে যেন সঠিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগ আসে।

কিছু দেশ বা বিচারব্যবস্থা ধর্ষণ ও যৌন আক্রমণকে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত করে। তারা সাধারণত কেবল যোনিতে শিশ্নের অনুপ্রবেশ কিংবা কেবল শিশ্নের মাদ্যমে অনুপ্রবেশকে ধর্ষণ হিসেবে এবং অন্যান্য ধরনের অনৈচ্ছিক যৌনক্রিয়াকে যৌন আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করে। উদাহরণস্বরূপ, স্কটল্যান্ডে কেবল শিশ্নের দ্বারা সংঘটিত যৌন অনুপ্রবেশকেই ধর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করে। ১৯৯৮ সালে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ধর্ষণকে “চাপ প্রদানের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ওপর সংঘটিত যৌন প্রকৃতির শারীরিক আক্রমণ” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থায় ‘ধর্ষণ’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘যৌন আক্রমণ’ কিংবা ‘অপরাধমূলক যৌন আচরণ’ শব্দগুচ্ছকে ব্যবহার করা হয়।

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতেও ধর্ষণের বহু উপখ্যান পাওয়া যায়। যেমন  উতথ্য ঋষির স্ত্রী মমতার প্রতি আসক্ত হয়ে, বৃহস্পতি তাঁর কাছে সঙ্গম প্রার্থনা করেন। উল্লেখ্য বৃহস্পতি ছিলেন উতথ্যের ছোট ভাই। দেবর বৃহস্পতি যখন মমতার কাছে সঙ্গম প্রার্থনা করেন, তখন মমতার গর্ভে দীর্ঘতমা ঋষি ছিলেন। মমতা বৃহস্পতিকে বিভিন্নভাবে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কিন্তু সঙ্গমকালে, গর্ভস্থ দীর্ঘতমা পা দিয়ে বৃহস্পতির স্খলিত বীর্য বাইরে ফেলে দেন। এর ফলে বৃহস্পতির বীর্য ভূমিতে পতিত হয় এবং সেখান থেকে ভরদ্বাজের জন্ম হয়।

ভরদ্বাজের জন্মের পর, স্বামীর পুত্র নয় বলে মমতা তাঁকে ত্যাগ করেন। কিন্তু বৃহস্পতি তাঁকে উতথ্যের ক্ষেত্রজ পুত্র হিসাবে প্রতিপালনের পরামর্শ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতি ও মমতা উভয়ই এই পুত্রকে পরিত্যাগ করেন। পরে মরুদ্গণ এই পুত্রকে পালন করেন। ইনি মরুদ্গণের ভুত বা ভর হয়েছিলেন এবং দ্বাজ (সঙ্কর) পুত্র বলে এর নাম হয় ভরদ্বাজ।

ইনি স্নানকালে ঘৃতাচী অপ্সরাকে নগ্ন অবস্থায় দেখে অত্যন্ত মোহিত হয়ে পড়েন। এর ফলে তাঁর বীর্যপাত হলে, ইনি এই বীর্যকে একটি দ্রোণের (পাত্র বিশেষ) ভিতর রাখেন। এখান থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- পাণ্ডব-কৌরব অস্ত্রগুরু দ্রোণ।

মহাভারতের যুগে এমন অন্ততঃ পাঁচ জন বিখ্যাত মুনি ঋষির নাম উল্লেখ করা যায়, যাঁরা ‘স্বর্গবেশ্যা’ দেখে কামার্ত হয়ে তাঁদের সঙ্গে যৌন মিলন বা ধর্ষণ করেছিলেন। যেমন : বিশ্বামিত্র, শরদ্বান, ভরদ্বাজ, ব্যাস, বশিষ্ঠ, পরাশর, দীর্ঘতমা।

ভরদ্বাজ ও রৈভ্য নামক ঋষির ভিতর প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল। ভরদ্বাজের পুত্র যবক্রীত রৈভ্যের পুত্রবধুর সতীত্ব নষ্ট করার চেষ্টা করলে, রৈভ্য যবক্রীতকে হত্যা করেন।  ভরদ্বাজ পুত্রের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রৈভ্যকে অভিশাপ দিয়ে, আগুনে আত্মহত্যা করেন। ভরদ্বাজের অভিশাপে রৈভ্যের মৃত্যু হয়। পরে রৈভ্যের পুত্র অর্বাবসু তপস্যার দ্বারা ভরদ্বাজ, রৈভ্য ও যবক্রীতের পুনর্জীবন লাভ করাতে সমর্থ হন। ভরদ্বাজ পুনর্জীবন লাভের পর রোগমুক্তির উপায় জানার জন্য দেবলোকে গিয়ে ইন্দ্রের কাছে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। পরে পৃথিবীতে ফিরে অন্যান্য ঋষিদের আয়ুর্বেদ শিক্ষা দেন।  মহাভারতের মতে- ইনি হরিদ্বারে বসবাস করতেন। রামায়ণে দেখা যায়- ইনি সীতাকে সম্বর্ধনা দিয়েছিলেন।

বিশ্বে মেয়েদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক দেশ ভারত। সম্প্রতি ‘থমসন রয়টার্স’-এর করা এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। ‘থমসন রয়টার্স’ রয়টার্সের গবেষণা সংস্থা। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন ৭ বছর আগে প্রথম এ সমীক্ষা শুরু করেছিলন। তখন সে তালিকায় মেয়েদের বসবাসের জন্য বিপদজনক দেশ হিসেবে এক নম্বরে ছিল আফগানিস্তান। ভারত ছিল ৪ নম্বরে। কিন্তু ৭ বছর পরে ভারতের অবস্থান শীর্ষে।

এই মুহূর্তে ভারতের পরে আফগানিস্তান। পূর্বের করা সমীক্ষায় পাকিস্তান ছিল ৩ নম্বরে। বর্তমানে তাদের অবস্থান ৬। থমসন রয়টার্সের করা সমীক্ষার ১০টি দেশের মধ্যে ৯টি দেশ এশিয়ার। বাইরের একটি মাত্র দেশ আমেরিকা। স্বস্থির কথা হলো, এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

তার পরও বাংলাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা৷ একই সঙ্গে বাড়ছে নিষ্ঠুরতা৷ আর এই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওয়তায় তেমন আনা যাচ্ছেনা বলা চলে৷ এর কারণ, অনেকেরই আছে ক্ষমতার যোগ, তাই তারা অপ্রতিরোধ্য৷

ধর্ষণের তালিকায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে ৪৭ ভাগ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার।সারা বিশ্বে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ আর নারী নিগ্রহের ঘটনা। নারীর সম্ভ্রম হরণের প্রবণতা বাংলাদেশের মতো দেশেও হচ্ছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোতে ধর্ষণের সংখ্যা উদ্বেগজনক। এই অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি বিশ্বের কয়েকটি সংগঠন জঘন্য এই নারী নিগ্রহের ঘটনার শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে আছে ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক্স, ন্যাশনাল ভায়োলেন্স এগেইন্সট উইমেন সার্ভার, কমিউনিটি অব ইনফরমেশন, এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাশনাল ক্রাইম রিপোর্টস ব্যুরো এবং জাস্টিস ইন্সটিটিউট অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া। তারা তাদের সমীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ধর্ষণের যে মাত্রা সেটি তুলে ধরেছেন। তালিকার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নাম আসা ওয়াশিংটনের জন্য বিব্রতকর বটে।

অনেক দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হিসাবে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড। তাতেও অনেক ক্ষেত্রে কমেনি এই অপরাধ প্রবণতা। ২০১২ সালে দিল্লিতে বাসের মধ্যে একটি মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা সারা বিশ্বে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ভারতের সেই ‘নির্ভয়া কাণ্ড’ ঘটার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল সারা ভারতে। তা সত্ত্বেও রাজধানী দিল্লিতেই প্রতিদিন এই অপরাধ ঘটেই চলেছে। ভারতের ‘ওয়ান ইন্ডিয়া’ পত্রিকা এক প্রতিবেদনে বলেছে, সারা ভারতের চিত্র কমবেশি একই রকম।

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের শিকার হওয়াদের মধ্যে ৯১ শতাংশ মহিলা ও অবশিষ্ট ৯ শতাংশ পুরুষ। প্রতি ৩ জনে একজন নারী ধর্ষিত হয়। ১৮ বছরের পূর্বে ৪০ শতাংশ নারী এখানে ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতি ১০৭ সেকেন্ডে একজন ধর্ষিতা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১২-১৮ বছর বয়সী ২ লাখ ৯৩ হাজার শিশু-কিশোরীর ধর্ষিত হবার তথ্য পাওয়া গেছে। এখানে ৬৮ শতাংশ ধর্ষণের রিপোর্ট হয় না। ৯৮ ভাগ ধর্ষকের শাস্তি হয় না। এমনকি কারাগারেও নারীদের স্বস্তি নেই। ২ লাখ ১৬ হাজার নারী প্রতিবছর কারাগারে ধর্ষিত হয়।

যুক্তরাজ্যেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বিস্তর। তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৮৫ হাজার মহিলা ধর্ষিতা হন গ্রেট ব্রিটেনে। প্রতি বছর যৌন হয়রানির শিকার হন প্রায় ৪০ হাজার মহিলা। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়ালসে প্রতিদিন ২৩০ জন ধর্ষিত হয়। প্রতি ৫ জন নারীর একজন ১৬ বছরের আগেই ধর্ষিত হয়। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কমবয়সী ও শিশুকন্যার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। সেদেশে ধর্ষণের অপরাধে সাজাও কম। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে মাত্র ২ বছরের জেল দেয়া হয়। এখানে প্রতিবছর ৫ লাখ ধর্ষণের মামলা হয়। ১১ বছরের নীচেই ১৫ শতাংশ মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। ৫০ শতাংশ নারী ১৮ বছরের আগেই নিগৃহীত হন।

এদিকে, সুইডেনে প্রতি চারজনে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হন। ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়। ৯০ ভাগ ধর্ষণের ঘটনায় কোন মামলা হয় না কিংবা রেকর্ড থাকে না । অন্যদিকে, ইউরোপের উন্নত দেশ জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনার প্রাণ হারিয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার নারী। আর ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে ধর্ষণের ঘটনা অপরাধ হিসাবে গণ্য হতো না। পরে তা অপরাধের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বছরে ৭৫ হাজারের বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ফ্রান্সে। তবে ১০ শতাংশ ঘটনারও অভিযোগ জমা পড়ে না পুলিশে।

এদিকে, হাফিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী বছরে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ যৌন নির্যাতনের শিকার হন কানাডায়। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে বাড়িতে চেনা পরিবেশে এবং ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবার-বন্ধুবান্ধবরাই যৌন নির্যাতন করেন। ১৬ বছরের নীচে ধর্ষণের হার শতাংশ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াতে ২০১২ সালের হিসাব ধরলে পঞ্চাশ হাজারের বেশি মহিলা বছরে নির্যাতিতা হন। অর্থাত্ প্রতি ৬ জনে ১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। এর বাইরে ডেনমার্কে ৫২ শতাংশ মহিলা যৌন নির্যাতনের শিকার হন প্রতিবছর।

মৌলিক অধিকার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংস্থা দ্বারা প্রকাশিত ২০১৪ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে  প্রায় ৪৭ শতাংশ নারী শারীরিক অথবা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। জিম্বাবুয়েতে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন, মাসে ৯০ জন, প্রতিদিন ১৬ জন নারী ধর্ষিত হয়। নিউজিল্যান্ডে রোষ্ট গোষ্টার নামক একটি দল রয়েছে যারা অল্পবয়সী মেয়েদের গণধর্ষণ করে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, ২০১৫ সালের শুধু ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৩টি। জানুয়ারিতে ৫৫টি। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিন হাজার ৯২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকা, মামলা ও অভিযোগের ভিত্তিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রে নিবন্ধিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ৪৫৫ জন। এদের মধ্যে শিশু ১৩৫ জন।  ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে ১১ জন।

পুলিশ ২০১৩ সালে ২ হাজার ৯২১ এবং ২০১৪ সালে ২ হাজার ৯১৮টি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলেও এখন পর্যন্ত এসব মামলার একটিরও বিচার হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্ষণের এই ব্যাপকতার পিছনের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে না চলা এবং অপরাধীর শাস্তি না পাওয়া। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততাও যথেষ্ট দায়ী। চলব….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*