দুই মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ | sampadona bangla news
রবিবার , ১৯ আগস্ট ২০১৮

দুই মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ

সম্পাদনা অনলাইন : রমজানের শেষ দিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ঈদের পরেও বহাল ছিল এ দাম। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দুই মাসের ব্যবধানে দাম বেড়ে হয় দ্বিগুণ। খুচরা বাজারে গতকাল ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয় প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ। বিক্রেতাদের আশঙ্কা আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম আরো বেড়ে যেতে পারে। এমন আশঙ্কার মধ্যেই বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ঈদের পর দাম কমে যাবে। ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে পেঁয়াজের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের মানুষ যখন ত্যক্ত-বিরক্ত ঠিক তখনই গণমাধ্যমে দেয়া মন্ত্রীর এ বক্তব্যকে তামাশা বা মশকরা হিসেবে দেখছেন সংক্ষুব্ধরা।

ভারতীয় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দেশী পেঁয়াজেরও। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে গতকাল দেশী পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ এ বছর আবহাওয়া বেশ ভালো। পেঁয়াজের ফলনও হয়েছে গত বছরের চেয়ে প্রায় দেড় লাখ টন বেশি। গত বছর যেখানে সারা দেশে ১৮ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়েছিল, সেখানে এ বছর উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ মেট্রিক টন।

বাজার বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ দিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। তবে আমদানিকারকেরা বলছেন, ভারত থেকে উচ্চমূল্যে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ভারত দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা জানান, ভারত থেকে নাসিক, হাসখালি, বেলেডাঙ্গা ও খড়কপুর জাতের পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে দেশে নাসিক জাতের পেঁয়াজের চাহিদা বেশি।
দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি স্থলবন্দর সূত্র জানায়, পেঁয়াজ আমদানির জন্য বিখ্যাত এ বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বেড়ে দ্বিগুণ হলেও কোরবানির ঈদের অতিরিক্ত চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৪ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৯ থেকে ৩১ টাকা কেজিতে।০ এ বন্দর দিয়ে আগে গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। গত শনিবার থেকে গত বৃহস্পতিবার এই ছয় দিনে বন্দর দিয়ে ৩৬৫টি ট্রাকে সাত হাজার ৩০০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

ঈদের পর দাম কমে যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী : এ দিকে ঈদের পর পেঁয়াজের দাম কমে যাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে অতিবৃষ্টির কারণে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে তার একটা প্রভাব এবং ঈদের একটা প্রভাব পড়েছে। আশা করছি ঈদের পর পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*