ত্রুটিপূর্ণ ভাড়া করা ভবনে ৫০% গার্মেন্টস গড়ে উঠেছে | sampadona bangla news
শনিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ত্রুটিপূর্ণ ভাড়া করা ভবনে ৫০% গার্মেন্টস গড়ে উঠেছে

ভাড়ায় তৈরি পোশাক করখানাসম্পাদনা: অনলাইন। রাজধানীতে ভাড়া করা ভবনে রয়েছে ১ হাজার ৫০০ পোশাক কারখানা। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ বা ৭৫০টিরও বেশি কারখানা ত্রুটিপূর্ণ। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ত্রুটিপূর্ণ এসব কারখানা রাজধানী থেকে সরাতে হবে বলে মনে করছে সরকারের কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর। জানা গেছে, রাজধানীতে ভাড়া করা ভবনে গড়ে ওঠা কারখানাগুলোর অধিকাংশেরই রয়েছে স্থাপত্য ও নকশাজনিত ত্রুটি। কর্মপরিবেশ ও শ্রম নিরাপত্তা জোরদার মূল্যায়ন কার্যক্রমেও এসব ত্রুটি বেরিয়ে আসছে। এরই মধ্যে উৎপাদন স্থগিত হয়ে গেছে এক ডজনেরও বেশি কারখানার।

কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহমেদ বলেন, ঢাকায় ভাড়া করা বিভিন্ন ভবনে পোশাক কারখানা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ৫০ শতাংশকে চলে যেতে হবে। পর্যায়ক্রমে এগুলোকে ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন হবে। ভাড়া করা ভবনে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এমন কারখানাগুলোর মধ্যে আছে মিরপুরের মোল্লা টাওয়ারের সফটেক্স, ফেম ও ডায়মন্ড। এছাড়া একই এলাকায় রয়েছে ফোর উইংস, অ্যাটিউন ও ন্যাচারাল গার্মেন্টস। এ কারখানাগুলোর সব উদ্যোক্তাই বাণিজ্যিক ভবনের ফ্লোর ভাড়া নিয়ে কারখানা গড়ে তুলেছেন। বিদ্যমান মূল্যায়ন কার্যক্রমে স্থাপত্য ত্রুটি ধরা পড়ায় এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সৈয়দ আহমেদ বলেন, ত্রুটি ধরা পড়েছে এমন ভবনের কারখানাগুলো কালই ভেঙে পড়বে এমন নয়। তবে এটা নিশ্চিত যে, পর্যায়ক্রমে মোট কারখানার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশকে সরিয়ে নিতে হবে। সূত্র অনুযায়ী, দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগে এরই মধ্যে ১২টির বেশি কারখানা ভবনের ত্রুটি চিহ্নিত করা গেছে। পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষ হলে বোঝা যাবে ঠিক কতটি কারখানা সরিয়ে নিতে হবে। তবে সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সাড়ে ৭০০ পোশাক কারখানাকে পরিকল্পিত স্থানে চলে যেতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাবে, দেশে সক্রিয় কারখানা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬০০টি। এর প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৫০০টি গড়ে উঠেছে শেয়ার্ড ভবনে। সরকারের প্রাথমিক হিসাবে, এই ১ হাজার ৫০০ কারখানার ৫০ শতাংশ সরিয়ে নিতে হবে। আর এ কারখানাগুলোর মধ্যে যেগুলো ত্রুটিপূর্ণ ভবনে স্থাপিত, তা চিহ্নিত হবে মূল্যায়ন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর। এদিকে মালিকপক্ষের অভিযোগ, মূল্যায়ন কার্যক্রমে ত্রুটি বেরিয়ে আসতে শুরু করায় মালিকদের ভোগান্তি তো হচ্ছেই, পাশাপাশি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে শ্রমিকের কর্মসংস্থানও। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের তরফ থেকে কারখানা স্থানান্তরে কোনো সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরিকল্পিত শিল্পায়নে শিল্পোদ্যোক্তারাও আগ্রহী। তবে এজন্য সময়ের পাশাপাশি সরকার ও ক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রয়োজন। কিছু আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ কোনো উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আমরা পাইনি।’ মালিকদের এ অভিযোগ অস্বীকার করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, মূল্যায়ন কার্যক্রমে ত্রুটি ধরা পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে তা সংশোধন করেই উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব। মালিকদের মানসিকতাই এক্ষেত্রে মূল বাধা। এ প্রসঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব মিকাইল শিপার বলেন, কারখানা ভবনের ত্রুটি সংশোধন বা স্থানান্তরসহ যেকোনো কার্যক্রমে সরকার যতটা সম্ভব সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তবে কারখানা সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে মূল উদ্যোগটা নিতে হবে উদ্যোক্তাদেরই। প্রসঙ্গত, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পোশাক কারখানা মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার ২৬টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ আছে ইউরোপীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রায় ১৫০ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। বিদেশী প্রকৌশলীদের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রায় ১৮০টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ক্রেতাদের এ মূল্যায়নের আওতায় আছে প্রায় আড়াই হাজার কারখানা। এছাড়া সরকারের কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে প্রায় ২ হাজার পোশাক কারখানা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*