ডায়াবেটিস দমনে নতুন থেরাপি | sampadona bangla news
রবিবার , ২১ জানুয়ারি ২০১৮

ডায়াবেটিস দমনে নতুন থেরাপি

সম্পাদনা অনলাইন : সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৩০ কোটির মতো। জার্মানিতেই ৭০ লক্ষেরও বেশি ডায়াবেটিস রোগী আছেন। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ। তাই রোগটিকে দমন করতে নানা রকম থেরাপি ও ওষুধপত্র বের করার চেষ্টা করছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ কোটিতে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর প্রধান কারণ সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন। স্থূলতা, চলাফেরার অভাব, মন্দ খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি রোগটিকে বিশেষ করে প্রভাবিত করে। ওষুধ প্রস্ততকারক কোম্পানিগুলো এ ক্ষেত্রে নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা একটা লাভজনক ব্যবসাও।
ইনসুলিনে নির্ভরশীলতা : ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগটি দুই ধরনের হয়ে থাকে: টাইপ ১ ও টাইপ     ২। সাধারণত অল্পবয়সীরা আক্রান্ত হয় টাইপ ১ ডায়াবেটিসে। যেমনটি দেখা যায় অলিভারের ক্ষেত্রে। হঠাৎ করেই সে ক্লান্তি বোধ করতে শুরু করে। তার ওপর আবার ওজন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, বেড়ে যায় মূত্রত্যাগের বেগও। তখন অলিভারের বয়স ছিল ১৮। ১০ বছর ধরে হানোফার শহরের এই ছাত্র দৈনিক ইনসুলিন ইনজেকশন নিচ্ছে।
অলিভার জানায়, রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে আমি ইনসুলিন ইনজেকশন নেই। এটা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে।
অ্যান্টিবডির আশ্রয় : অল্পবয়সীদের যাতে সবসময় টাইপ ১ ডায়াবেটিস নিয়ে মাথা ঘামাতে না হয়, সেজন্য গবেষকরা ইনসুলিনের বিকল্প কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে একটি পদ্ধতি হলো, দেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাতে ইনসুলিন উৎপাদনকারী বেটাসেলগুলোকে আক্রমণ করতে না পারে, সে জন্যে এক ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করা।
হানোফার শহরের মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এল্মার ইয়েকেল এই প্রসঙ্গে জানান ‘এটা রোগ নির্ণয়ের সময় দেয়া এককালীন এক থেরাপি। এরপর রোগীকে আর চিকিৎসা দিতে হয় না। একবারই দিতে হয় বলে এক আকর্ষণীয় পদ্ধতি এটি। এর মূল লক্ষ্য: রোগ নির্ণয়ের সময় টিকে থাকা বেটাকোষগুলোকে রক্ষা করা ও কাজে লাগানো।’
আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এই পদ্ধতি নিয়ে মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে হানোফার-এর মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিও অংশ নিয়েছে। তবে ফলাফলটা পাওয়া গেছে বিভিন্ন রকমের। ইউরোপ ও অ্যামেরিকার হালকা পাতলা দেহের তরুণ ডায়াবেটিস রোগীরা অ্যান্টিবডির উপাদান থেকে উপকার পেয়েছে। কিন্তু এশিয়ান অঞ্চলের রোগীরা আশাব্যঞ্জক তেমন কিছু দেখাতে পারেনি। এল্মার ইয়েকেল জানান, ‘আমরা মনে করি টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে এশিয়ার দেশগুলোতে অন্য কারণ থাকতে পারে।’
রক্তের স্টেমসেল : আরো কিছু গবেষণার মাধ্যমে বোঝা যাবে, কেন টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের সবার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডির উপাদান কাজে লাগছে না। অন্য দিকে, ব্রাজিলের গবেষকরা স্টেমসেল নিয়ে গবেষণা করছেন।
টিকা পদ্ধতি : তবে টাইপ ১ ডায়াবেটিস দমন করার ব্যাপারে আর একটি পদ্ধতি বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। আর তা হলো টিকা দিয়ে এই প্রকারের ডায়াবেটিস দমন করা। কয়েকটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। হয়তো বছর তিনেকের মধ্যে প্রথম টিকাটি বাজারে আসবে। অন্য দিকে, ডায়াবেটিস টাইপ ২-এর ক্ষেত্রে একটি ভালো খবর রয়েছে| আর তা হলো, একটি ওষুধ কিছুদিনের মধ্যেই অনুমোদন পেতে যাচ্ছে, যার নাম ‘ফরক্সিগা’। এর সাহায্যে কিডনিকে এমনভাবে উদ্দীপিত করা হবে, যাতে রক্তের অতিরিক্ত শর্করা মূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে রোগীদের আর ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*