জনকের আদর্শ ও বন্যার্তদের আর্তনাদ | sampadona bangla news
রবিবার , ২২ অক্টোবর ২০১৭

জনকের আদর্শ ও বন্যার্তদের আর্তনাদ

রিদওয়ানুল রমজান : ১৯৭১ সালের ১৭ই মার্চ বংবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৫১ তম জন্মদিন। এই দিন ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা থেকে ফিরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন এদেশে জন্মদিনই বা কি আর মৃত্যু দিনই বা কি আমার জনগনই আমার জীবন।বঙ্গবন্ধু মানুষটাই ছিলেন এমন। যার সকল ভালোবাসা ছিল কেবল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ কে নিয়ে। আর তাইতো মৃত্যুর ৪২ বছর পরও তিনি এদেশের মানুষের কাছে শ্রেষ্ঠসন্তান হয়ে আছেন। এখন প্রশ্নটা হলো সেই শ্রেষ্ঠসন্তানের আদর্শকে আমরা কতটুকু জানতে পেরেছি, আর যতটুকু জানতে পেরেছি সে অনুযায়ী কতটুকু আমরা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত করতে পেরেছি। নাকি শুধুই তার নাম ব্যাবহার করে আমরা রাঘব বোয়াল হচ্ছি?

আমরা কেবোল মুখেই মুজিব  মুজিব করি সত্যি বলতে আমরা ব্যাক্তি ও জাতীয় জীবনে তার কোন  আদর্শই অনুসরন করি না। দেশের বন্যা পরিস্তিতি খুবই ভয়াবহ অবস্থা। প্লাবিত হচ্ছে সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুরিগ্রাম, বগুরা, সিলেট, মৌলভী বাজার, কক্সবাজার মুলত এই ৮ টি জেলা। এর মধ্যে কিছু আবার পুরোপুরি আবার কিছু আবার কিছু জেলা আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এই বন্যার্তদের না আছে খাবার, না আছে থাকার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কিংবা পড়নের কাপড়। সব কিছুইতো নিয়ে গেছে বন্যা। এখন তাদের একমাত্র ভরসা কেবোল সৃষ্ঠিকর্তা আর উছিলা বাকি ৫৬টি জেলার মানুষ। যদি গড়ে ৭টি জেলার মানুষ মিলে ১টি জেলার মানুষকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তবেইতো সমস্যার সমাধান সম্ভব। ৭১এর ৭ই মার্চের ভাষনে বঙ্গবন্ধুব বলেছিলেন-”তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।” অর্থাৎ তিনি বাংলার মানুষকে রক্ষা করার জন্য এদেশের প্রতিটি মানুষকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন। ঐ আহ্বান কেবোল মুক্তিযুদ্ধের জন্য নয়।ঐ আহ্বান ছিলো এ দেশের মানুষের সকল দুঃখ-দুর্দশায় যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যে সহযোগিতা করার মাধ্যমে দেশকে  এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান। কিন্তু কই আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই আহবানে সাড়া দিয়ে কতজন আজ বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে?

যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “আমার জন্মদিনই বা কি আর মৃত্যুদিনই বা কি আমার জনগনই আমার জীবন।” সেখানে আজ আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? ১৫ই আগষ্ট তার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের কেবল লেফাফাদুরস্তি মনোভাব। তার নামে হাজার হাজার টাকার ব্যানার ফেস্টুন তৈরী করে কেবল নিজেদের নাম আর পকেট ভারী করার প্রতিযোগিতা। ব্যানারে ব্যানারে ঢাকা পরে শোকের কান্না। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যদি আমরা তার আদর্শকে বুকে ধারন করতাম তবে ঐ টাকা দিয়ে আমরা সোনার দেশের সোনার মানুষকে বাচাতাম। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজন করা হয় কাঙ্গালী ভোজের। বাস্তবতা হলো কাঙ্গালীর খাবার কাঙ্গালীরা খেতে পায় না। এটাও পকেট ভারী করার একটা উপায়। কাঙ্গালীর খাবার আজ খায় রাঘব বোয়ালরা। কিন্তু হ্যা আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর একটা আদর্শ কে বুকে ধারন করতে পারতাম তবে এমোনটা হতো না। তিনি বলেছিলেনএ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার দেশের মানুষ পেট ভরে খেতে না পায়।” তার এই আদর্শকে ধারন করতে পারলে আজ ১৫ই আগস্ট বন্যার্ত সকল মানুষ পেট ভরে খেতে পারতো।

আজ দেখলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার বাবার মাজারের সামনে দাড়িয়ে কাঁদছেন। পিতার মৃত্যুর শোক তিনি আজও ভুলতে পারেন নি তাই কাঁদছেন। হয়তো মনে মনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছেন বাবার হত্যাকারীদের শাস্তি এই বাংলার মাটিতে তিনি করবেনই। হ্যা এটা অবশ্যই মেয়ে হিসেবে তার কর্তব্য। তবে তাকে তার বাবার স্বপ্নও পূর করতে তার বাবার আদর্শ মেনে চলা দরকার । বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে তার আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না।”

প্রধানমন্ত্রী তার বাবার এই আদর্শকে ধারন করেননি। যদি করতেন তবে তিনি তার বাবার স্বপ্ন পূরন করার জন্য ছুটে যেতেন বন্যা কবলিত মানুষের কাছে। নিজ দায়িত্বে খবর রাখতেন বন্যার্তদের দুঃখ-দুর্দশার কথা। অবশ্যই জবাব দিহি করাতেন কেনো বার বার ভেঙ্গে যায় শহর রক্ষা বাঁধ? কেনো বন্যার্তরা বলেন খাবারের কিছু নায়? তিনি অবশ্যই তার নেতা কর্মীদের বলতেন এবারের ১৫ই আগস্টের আয়োজনের সকল টাকা দিয়ে আমরা বন্যার্তদের মুখে হাঁসি ফোটাবো, গড়বো  বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। কিন্তু তা তিনি করেন নি। মর্যাদাপূর্ণ জীবন কি পেল বন্যার্তরা? না পায়নি। যদি পেতোই তবে প্রতি বছর তারা বন্যার স্বীকার হতো না। না খেয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতো না।সামান্য একটু জায়গায় ঘুম আসতো না পরিবারের সবাই। একফোঁটা বিশুদ্ধ পানির পানির অভাবে তৃষ্ণায় ভূগতো না ওই পোড়া কপালেরা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু লাখো শহীদের আত্মার তৃপ্তির কথা বলেন নি। তিনি বলেছেন ”এই স্বাধীন দেশের মানুষ যেদিন পেট  ভরে খেতে পাবে পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন তখনই শুধু লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।” কিন্তু না আমরা আজও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে গ্রহন করতে পারি নাই, আর পারি নাই বলেই বন্যার্তরা আজ মর্যাদাপূর্ণ জীবন পেলো না। অথছ ১৫ই আগস্ট হউক কিংবা ১৭ই মার্চ হউক দেশের এই সূর্য সন্তান কে নিয়ে আমরা ব্যবসা পেতে বসি। জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানের স্বপ্ন কিংবা আদর্শ কিছুই আজও আমাদের অঙ্গে জড়ায় নি। আমরা কেবোল তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়েই শ্রদ্ধা নিবেদন করেই শান্ত হই। সত্যি বলতে তিনি আজ বেচে থাকলে আমাদের ধিক্কার জানাতেন। চোখের সামনে তার সোনার দেশের সোনার মানুষের এই দুর্গতি তিনি কখনই সহ্য করতে পারতেন না। অভিভাবগ হয়ে রাজ পথে নামতেন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। সবশেষে একটি কথা দিয়ে শেষ করতে চাই-মানুষকে দেখানোর জন্য রূপক ভালোবাসা নয়, বরং মানুষের প্রতি আন্তরিক হতে চেষ্টা করুন। হে আল্লাহ! বিপদগ্রস্ত সব মানুষকে তুমি হেফাজত কর।

 

লেখকঃ কলামিস্ট

১৭৮/১ ঝাউচর

পশ্চিম হাজারিবাগ, ঢাকা-১২০৯

০১৮২৫ ০৩৯৮৯৩

 

 

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*