চ্যালেঞ্জ নিয়েই দুর্গম কঙ্গো মিশনে দুই নারী পাইলট | sampadona bangla news
সোমবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

চ্যালেঞ্জ নিয়েই দুর্গম কঙ্গো মিশনে দুই নারী পাইলট

সম্পাদনা অনলাইন : পিছিয়ে নেই নারীরা। সবক্ষেত্রেই পুরুষের পাশাপাশি এগিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার তারা যোগ দিবেন দুঃসাহসিক কাজে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করবেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে। এতদিন এ কাজে পুরুষরা সফলতার গল্প বুনেছেন। কুড়িয়েছেন প্রশংসা। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা।
এবার তার সঙ্গে যোগ দিবেন দেশের নারীরা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুইজন নারী বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী প্রথমবারের মতো কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এক বছরের জন্য কাজ করতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে নতুন এক মাইল ফলক যোগ হলো। আগামী ৭ ডিসেম্বর এই দুই পাইলট কঙ্গোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
তবে তাদের এ যাত্রায় কম খাটুনি খাটতে হয়নি। নানা বৈরী পরিবেশে কাজ করার প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। সাত বছর ধরে শিখতে হয়েছে নানা কৌশল। দেশের পার্বত্য এলাকায় দুর্গম জায়গায় তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পাহাড়ি অঞ্চলে বিমান উড্ডয়নের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।
দুর্গম কঙ্গো আর বৈরী পরিবেশ একদমই তাদেরকে ভাবাচ্ছে না। এখন তারা যে কোনো প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম। পরিশ্রম করলে পুরুষের মতো নারীরাও যে এগিয়ে যেতে পারে তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এ দুই নারী বৈমানিক।
পেশাদারিত্বের মধ্যদিয়ে দুনিয়ার বুকে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রতিশ্রুতি তাদের। এর মধ্য দিয়ে তারা শিখিয়েছেন নারীদের এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র। পাশাপাশি নারীদের উৎসাহিত করতে তাদের এই দুঃসাহসিক যাত্রা। আর এ এগিয়ে চলায় পরিবার থেকে উত্সাহ পেয়েছেন বলে জানান এ দুই নারী বৈমানিক।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হকের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর। বাবা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ছিলেন, মা গৃহিণী। নাইমা হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করেন। ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে বিমান চালনা বিষয়ে বিএসসিতে প্রথম শ্রেণি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। দেশ-বিদেশে উড্ডয়নসহ সামরিক নানা প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি।
নাইমা হক বলেন, ইচ্ছা করলেই সবকিছু হবে না। বরং ইচ্ছার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করলে যে কেউ এ জায়গায় আসতে পারবে। আর সেজন্য যথেষ্ট ধৈর্য থাকতে হবে। আমরা সেভাবেই এসেছি।
প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদেরকে নানা পরিবেশে নানা ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই কাজে আমাদের পরিবারও সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিয়েছে। এ অর্জনে আমাদের পরিবারও অত্যন্ত গর্বিত। তারা আমাদের জন্য দোয়া করছেন, আপনারাও দোয়া করবেন। আমরা যেন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারি।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী’র বাড়ি যশোরের বেনাপোল। বাবা বিমান বাহিনীতে চাকরি করতেন। মা গৃহিণী। তামান্না বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে তিনি বিমান চালনা বিষয়ে প্রথম শ্রেণি পেয়ে বিএসসি উত্তীর্ণ হন। দেশ-বিদেশ থেকে উড্ডয়নসহ সামরিক নানা প্রশিক্ষণে অংশ নেন তিনি।
তামান্না-ই-লুৎফী বলেন, বাবা বিমান বাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন। সেখান থেকেই মূলত এদিকের আগ্রহ বা ঝোঁক। পরিবারের সর্বোচ্চ সহযোগিতায় আজকে এই জায়গায় এসেছি। বিমান বাহিনী যথেষ্ট সহযোগী। কেউ যদি নিজেদের পজিশন করতে পারে, অবশ্যই এখানে আসা উচিত। সমাজ আমাদের (নারী) অনেক সুযোগ দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় মেয়েদের জন্য নতুন নতুন দ্বার খুলছে। এখন প্রয়োজন পজিশন তৈরি করা। পরিশ্রম করলে পুরুষের মতো নারীরাও এগিয়ে যেতে পারে।
এই দুই বৈমানিক জানান, ১৪ বছর ধরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অফিসাররা কঙ্গোতে সেবা দিচ্ছেন। এর মধ্যে গত ৭ বছর ধরে নারী অফিসাররাও কাজ করছেন। নারী পাইলট হিসেবে তারাই প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন। ১৪ বছরের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে তারা কাজ করবেন। মূলত সেখানে এই দুই পাইলট রসদ বহনকারী হেলিকপ্টার এমআই-১৭ পরিচালনা করবেন। গতকাল তারা পুরাতন বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের সামনে এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করে দেখান।
প্রসঙ্গত, বিমান বাহিনী দু’জন নারী পাইলট ছাড়াও ১৫ জন নারী অফিসারসহ কঙ্গোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩টি কন্টিনজেন্টের মোট ৩৫৮ জন শান্তিরক্ষী প্রতিস্থাপন শুরু করেছে। প্রতিস্থাপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিমান বাহিনীর ১১৫ জন সদস্য জাতিসংঘের ভাড়া করা বিমানে গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার কঙ্গোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। কন্টিনজেন্টের বাকি সদস্যরা আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কঙ্গো যাবেন।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই কন্টিনজেন্টগুলো ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট-১৫, এয়ার ফিল্ড সার্ভিসেস ইউনিট-১৫ ও এয়ার ট্রান্সপোর্ট ইউনিট-৮ নিয়ে গঠিত। যার নেতৃত্বে থাকবেন যথাক্রমে এয়ার কমডোর মো. জাহিদুর রহমান, গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. শরীফুল ইসলাম।
Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*