চলতি অর্থ বছরে ১২ .৮৮% রফতানি বৃদ্ধি হয়েছে | sampadona bangla news
শনিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চলতি অর্থ বছরে ১২ .৮৮% রফতানি বৃদ্ধি হয়েছে

এক্সপোর্টসম্পাদনা: অনলাইন। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ২ হাজার ২২৪ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে; ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাসভিত্তিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সিংহভাগ আয় হয়েছে পোশাক, পাট ও পাটজাত এবং হিমায়িত খাদ্য রফতানি থেকে। প্লাস্টিক ও হোম টেক্সটাইল রফতানি খাতের আয়ও সন্তোষজনক। তবে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য রফতানি ইতিবাচক ধারায় থাকার কারণে ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বলেন, ‘আয়ের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও আমরা আশাবাদী।’

চলতি (২০১৩-১৪) অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশের মোট রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। মাস ভিত্তিতে শুধু মার্চে লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এ সময়ে ২৪১ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯ শতাংশ কম।

মোট রফতানি আয়ের ৮১ শতাংশ তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন) খাত থেকে এসেছে। এ খাতে আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৮০৫ কোটি ডলার। পোশাক শিল্পের এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৪১ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। তবে অর্থবছরের আট মাস শেষে এ প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ।

পোশাক খাতের মোট রফতানি আয়ের মধ্যে ওভেন পোশাক থেকে সর্বোচ্চ ৯২২ কোটি ও নিট পোশাক খাত থেকে ৮৮৩ কোটি ডলার এসেছে। ওভেনের এ আয় আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে নেট আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি।

তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পরও তৈরি পোশাক খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে এতে খুশি নয় ইপিবি। নতুন কোনো পণ্য বা খাত রফতানিতে বড় কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। রফতানিতে আসেনি বৈচিত্র্য। ফলে বিদ্যমান বাজারের বাইরে নতুন রফতানি গন্তব্যও  তৈরি করাও যাচ্ছে না। এটিকে সামগ্রিক অর্থনীতির ব্যর্থতা বলেই বিবেচনা করছে ইপিবি।

ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে হিমায়িত খাদ্য রফতানি থেকে ৪৯ কোটি, চামড়ায় ৩৮ কোটি ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ১৬ কোটি ডলার আয় হয়েছে। তিনটি পণ্যের ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি বরাবরের মতোই নেতিবাচক ধারায় আছে। আলোচ্য সময়ে খাতটি থেকে ৬১ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হলেও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ ও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম।

এদিকে রফতানি বহুমুখীকরণ ও নতুন নতুন দেশে রফতানি বৃদ্ধির জন্য মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, সিয়েরালিয়ন ও মরিশাসের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চিঠি দিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এফটিএর খুঁটিনাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, সিয়েরালিয়ন ও মরিশাসের সঙ্গে এফটিএ করার বিষয়ে ট্যারিফ কমিশন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এসব দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য আমদানি-রফতানি পণ্যের তালিকা, পণ্যমূল্যসহ আনুষঙ্গিক বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ করতে চায়। মালয়েশিয়া প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। তুরস্ক ও শ্রীলংকার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তবে বাংলাদেশ সবার আগে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে এফটিএ করতে চায়। আফ্রিকার সঙ্গে চুক্তি করলে বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে। কারণ এসব দেশ থেকে আমদানির চেয়ে পণ্য রফতানির সম্ভাবনাই বেশি। পাট, পাটজাত দ্রব্য, ওষুধ, তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*