গাজীপুরে হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড | sampadona bangla news
শুক্রবার , ১৭ আগস্ট ২০১৮

গাজীপুরে হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড

সম্পাদনা অনলােন : গাজীপুরে হত্যার দায়ে চার যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও অপর আরেকটি ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছরে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল হক মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। নিহত খোকা মিয়া নরসিংদীর মনোহরদী থানার দক্ষিণ বারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কালিয়াকুড়ি গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (২৭), গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগুটিয়া চালার বাজারের গণি ওরফে সুরুজ মিয়ার ছেলে শওকত (২৮), একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাষ্টারবাড়ি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মিজান (২৯) ও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাঘবেড় গ্রামের শাহজাহানের ছেলে শাহীন মিয়া (২৯)। এদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খোরশেদ পলাতক রয়েছেন।
রায়ে মামলার অপর দুই আসামি শিশির সংমা (২৮) ও খোরশেদ আলম নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্যকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।
গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি খোকা মিয়ার সিএনজি অটোরিকশাটি বোনের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ভাড়া করে শ্রীপুর পৌরসভার মাধোখোলা খাসপাড়া এলাকায় আসে কামরুল ইসলাম। দূরের রাস্তা হওয়ায় চালক জসিম অটোরিকশার মালিক খোকা মিয়াকেও সাথে নিয়ে আসেন। অটোরিকশাটি মাধোখোলা এলাকার গহীন জঙ্গলে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত্ পেতে থাকা কামরুলের সহযোগীরা অটোথামিয়ে খোকা মিয়াকে গলাকেটে করে হত্যা করে। চালক জসিম আহত অবস্থায় দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে খুনিরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোকা মিয়ার (৪০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় এসআই আবদুস সালাম বাদী হয়ে ওইদিন রাতে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কামরুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা আরো দুইজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তকালে আরো তিনজনের সম্পৃক্ততা প্রকাশ পায়। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৫ মে ৬জনকে অভিযুক্ত করে গাজীপুর আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। মামলায় ১০জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক মঙ্গলবার ওই রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি ছিলেন পিপি মো. হারিছ উদ্দিন আহমেদ এবং আসামী পক্ষে ছিলেন এড: মুবিন খান ও এড: নাসরিন আক্তার মায়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*