গাজীপুরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান : পুনরায় নির্বাচনের দাবি বিএনপির | sampadona bangla news
রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮

গাজীপুরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান : পুনরায় নির্বাচনের দাবি বিএনপির

সম্পাদনা অনলাইন : ভোট ডাকাতি, জাল ভোট ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। সেখানে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে দলটি বলছে, এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার আবারো প্রমাণ করল তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।জোরজবরদস্তি, প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতিতে বিশ্বাসী। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাজীপুরের নির্বাচনে আরো একটি কলঙ্কময় অধ্যায় সংযোজিত হলো। খুলনায় নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করে তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষ নিয়েছেন তাঁরা।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, এ নির্বাচন নির্বাচনের নামে শুধুমাত্র একটি তামাশা। ভোট ডাকাতির নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করে তা প্রয়োগ করেছে। আমরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে বাতিলের দাবি জানালেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশাল, রাজশাহী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাজীপুরের নির্বাচনে আর এক কলঙ্কময় অধ্যায় সংযোজন করলো। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে স্বৈরাচার এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সমাহিত করছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রায় প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে।
তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গ্রেফতার, সাদা পোশাকের পুলিশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ভাংচুর, বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকতে না দেওয়া, নির্বাচনের আগের রাত থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারা, নির্বাচনের দিন এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া সম্পর্কে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ফখরুল বলেন, সরকারের এই নির্লজ্জ গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচনের জন্য এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্থানীয় সরকারগুলোতে অংশ নিচ্ছি আন্দোলনের অংশ হিসাবে। আসন্ন বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনেও অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি একই কারণে। এ নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে জনবিচ্ছিন্ন সরকারের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন, নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হচ্ছে।
কারাবন্দি খালেদা জিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা অবিলম্বে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া আসন্ন নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশনকে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য এবং জনগণকে এই ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, ‘বিএনপি’র আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় অংশ নিচ্ছে। আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনেও অংশ নেবে বিএনপি। সরকারের নির্লজ্জ গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচনের জন্য এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্থানীয় সরকারগুলোতে অংশ নিচ্ছি। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা ও পক্ষপাতিত্বও প্রমাণিত হচ্ছে।
বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের গ্রেফতার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচারণা শুরু করেছে এবং বাইরের প্ররোচনার কথা বলা হচ্ছে। মেজর মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নীল নকশার অংশ হিসেবে।’  আমরা এই ‘চক্রান্তের’ তীব্র নিন্দা জানাই এবং সেই সাথে মেজর (অব.) মিজানকে মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, আ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*