খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন কার্যতালিকায় | sampadona bangla news
মঙ্গলবার , ২২ মে ২০১৮

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন কার্যতালিকায়

সম্পাদনা অনলাইন : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আপিলের রায়ের জন্য মঙ্গলবারের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবারের জন্য আপিল বিভাগের প্রকাশিত কার্যতালিকায় খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে দায়ের করা আপিলগুলো রায়ের জন্য তিন নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। আপিল বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
এর আগে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ৯ মে আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেন।

এ আপিলের শুনানিতে গত ৯ মে খালেদা জিয়ার আইজীবীরা আদালতে বলেন, শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ মামলায় আমাদের বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেনি। তারা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, তারা একটি মামলাও দেখাতে পারবেন না যে, হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেছে। অন্য সকল মামলার থেকে এ মামলা আলাদা করে এনে দ্রুত বিচার করার চেষ্টা করছে রাষ্ট্র। আমরা মানি বা না মানি গোটা রাষ্ট্রকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এটা এক ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা। বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের শামিল। এতে সারাদেশেই আইনজীবীদের মধ্যে এমন একটা ধারণা কোনো মামলায় জামিন হবে কী হবে না, সেটা নির্ভর করছে বিশেষ ক্লিয়ারেন্স আছে কীনা, সেটার ওপর।

আইনজীবীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলা হাইকোর্ট বাতিল করেছে তার বিরুদ্ধে দুদক এবং রাষ্ট্র আসেনি। শুধু একটা নয়, সরকারদলীয় অনেক নেতার বিরুদ্ধেই মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্র আপিল করেনি। কিন্তু এই একটা মামলায় সরকার এবং দুদক বেছে নিয়েছে। সরকার এটা করে আদালতের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। তারা বলেন, এক দেশে দুই রকম আইন হয় না। দুই রকম একশনও হয় না। সরকার দলের ক্ষেত্রে একরকম আর বিরোধীদের ক্ষেত্রে আরেক রকম আচরণ করা হচ্ছে। এভাবে পিক এন্ড চুজ করা হচ্ছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল এবং খালেদা জিয়ার জামিন বহাল চেয়ে তারপক্ষের দায়ের করা অপর একটি আপিল আবেদনের ওপর গত ৮ ও ৯ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৯ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল (আপিলের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন) গ্রহণ করা হয়। ৮ মে জামিন বিষয়ে আপিলের শুনানি তারিখ ধার্য করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামীকে ১০ বছর সশ্রম কারাদ- এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নি¤œ আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়। এরপর গত ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে খালেদা জিয়া জামিন মঞ্জুরের আদেশে দেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, আদেশ দেয়ার সময় আমরা যেসব বিষয় বিবেচনা করেছি সেগুলো হলো- এক. সাজার পরিমাণ (বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে)। দুই, মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি। তিন. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং চার. তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো। তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক একজন নারী এবং দীর্ঘ দিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত। এ সব বিবেচনা করে তাকে চার মাসের জামিন দেয়া হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*