খালেদা জিয়ার জামিন আদালতের ব্যাপার : কাদের | sampadona bangla news
বৃহস্পতিবার , ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

খালেদা জিয়ার জামিন আদালতের ব্যাপার : কাদের

সম্পাদনা অনলাইন ; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রলম্বিত হবে কিনা তা নির্ভর করছে আদালতের ওপর। এতে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার কারামুক্তি প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘সেটা তো আদালতের সিদ্ধান্তের ব্যাপার, তাঁকে জামিন দেবেন কিনা। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরো মামলা আছে। সবকিছু মিলিয়ে তাঁর কারাবাস প্রলম্বিত হবে কিনা সেটাও সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত। আমি এ কথা বলতে পারি, সরকার এ ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। আগেও করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

সরকার বিএনপিকে ভাঙবে না জানিয়ে কাদের বলেন, বিএনপির অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি ইলেকশন থেকে সরে গেলে আমরা খুব হবো বা এর প্রতিক্রিয়া আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হবে, সেটা ঠিক নয়। কেননা আমরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চাই। আর সেজন্য বিএনপির থাকা দরকার। আমি চাই না বিএনপি ভাঙুক। একটা বড় দল ভেঙে যাবে, এটা আমরা চাই না, চেষ্টাও আমরা করি না। বিএনপির সংকট আমরা ঘনিভূত করব না। আমরা এখানে কোনো ফ্যাক্টর নই। বিএনপির সাংগঠনিক অভ্যন্তরীণ সংকট ঘনিভূত হওয়ার জন্য তারেক জিয়াই যথেষ্ট।’

গণআন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে জনগণ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, গত ৯ বছরে বিএনপির আন্দোলনের ডাকে সাড়া দেয়নি জনগণ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*