'খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না' | sampadona bangla news
রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮

‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’

সম্পাদনা অনলাইন : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির নেতারা।
তারা বলছেন, সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তাকে তার ন্যূনতম প্রাপ্যটুকুও দেয়া হচ্ছে না। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সবকিছু থেকে, নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।
সোমবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে প্রতীক অনশনে অংশ নিয়ে নেতারা এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সোয়া ৪টায় এই প্রতীক অনশন শেষ হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। অনেক দিন পর খোলা জায়গায় রাজধানীতে কর্মসূচি পালন করল বিএনপি। সকাল ৯টা থেকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৮টার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নেতাকর্মীরা নাট্যমঞ্চে এসে জড়ো হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। বিএনপি জোটের শরিক দলগুলোর নেতারাও বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সবার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না। তাকে আজকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। কারাগারে তাকে ন্যূনতম প্রাপ্তিটুকু দেওয়া হচ্ছে না। এই সরকার তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে, বেগম জিয়ার মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবি আবারো করছি যে, এখানে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিয়ে পুনরায় গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তবেই  নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এদেশে নির্বাচন হবে অন্যথায় নির্বাচন হবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আজকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না, তার ন্যূনতম যে প্রাপ্য সেই প্রাপ্যটুকু তাকে দেয়া হচ্ছে না। এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তার সব কিছু রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তাকে দূরে সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্য একটাই। সেটা হচ্ছে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। উদ্দেশ্য একটাই বিএনপিকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।
সকল রাজনৈতিক ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য শুধু নয়, বিএনপি নির্বাচন যাওয়ার জন্য নয়। আজকে এদেশের মুক্তির জন্য, ১৬ কোটি মানুষের মুক্তির জন্য, মানুষের আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবার  জন্য, এই সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটা বিএনপিকে রাজনীতি থেকে, নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। এজন্যই চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের বিজয় অর্জন করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার একটাই ষড়যন্ত্র করছে। সেটা হচ্ছে বেগম জিয়াকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া, ২০ দলকে ছাড়া তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসন আবার পুনরাবৃত্তি করতে চায়। আমরা বলতে চাই, ২০১৪ সালের সেই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের জনগণ আরেকবার বাস্তবায়ন হতে দেবে না।  এই সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নাই। তাই রাস্তায় আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, মুক্ত তাকে নিয়েই আমরা নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনে যাবো।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে যার জন্যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, যত কৌশল করা হোক না কেনো এটা সম্ভবপর হবে না। তার কারণ একদিন না একদিন তাদের কৌশল ও ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে তারা বেগম জিয়াকে জামিন না দিয়ে আর পারবে না।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে অনশনে বক্তব্য দেন- বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস,গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নুল আবদিন ফারুক, কবির মুরাদ, আতাউর রহসান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আশারফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, আমিরুল ইসলাম আলীম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*