কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে তুলে নেয়ার অভিযোগ ইমরানের | sampadona bangla news
বুধবার , ২৪ অক্টোবর ২০১৮

কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে তুলে নেয়ার অভিযোগ ইমরানের

সম্পাদনা অনলাইন :  গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার দাবি করেছেন, তাকে কালো কাপড়ে চোখমুখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

ইমরান বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। শুধু প্রতিবাদ করার জন্য একটি প্রতিবাদ সভা থেকে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া সিনেম্যাটিক স্টাইলে তুলে নেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবীর উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডি এম জিলানী শুভ।

সংবাদ সম্মেলনে ইমরান দাবি করেন, কালো কাপড় দিয়ে চোখমুখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে তাকে তুলে নিয়ে র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলে কালো কাপড় ও হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। র‌্যাবের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে আলোচনা করতে চান বলে জানান।

তারা জানতে চান, কিসের জন্য আন্দোলন করছেন? এর উদ্দেশ্য কী? একপর্যায়ে র‌্যাব কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন। মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, তার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে চান।

ইমরান জানান, তিনি র‌্যাবের কর্মকর্তাদের বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেমন তারা সোচ্চার, তেমনই মাদকবিরোধী অভিযানের নামে যে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড ঘটছে, তার বিরুদ্ধেও তারা সোচ্চার।

ইমরান দাবি করেন, শাহবাগ থানার পুলিশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) লিখিতভাবে অবহিত করেই তারা সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। তাই অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, এটা দেখার দায়িত্ব র‌্যাবের না, এটা পুলিশের।

তুলে নেয়ার পর তাকে কখন ছাড়া হয় এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরান এইচ সরকার বলেন, তুলে নেয়ার পর তার বোন ও ভাইয়ের ফোন নম্বর নেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা। তাদের ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাদের জিম্মায় রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবীর বলেন, বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে নিজের হাতে যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সব নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।

 

শাহবাগ থেকে আটক
রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশের প্রস্তুতিকালে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মঞ্চের ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার বন্ধের দাবিতে সমাবেশে’ অংশগ্রহণের প্রস্তুতিকালে তাকে আটক করা হয়েছিলো।
গণজাগরণ মঞ্চের কয়েকজন কর্মী জানান, বিকেলে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিকালে ইমরান এইচ সরকারকে আটক করে নিয়ে যান র‌্যাবের সাদা পোশাকধারী ৭-৮ সদস্য।

ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি সাখাওয়াত ফাইয়াজ জানান, ‘ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে’ শাহবাগে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মসূচি ছিল। একই স্থানে গণজাগরণ মঞ্চেরও কর্মসূচি ছিল। আমাদের কর্মসূচি শেষের অপেক্ষায় পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন ইমরান।

হঠাৎ একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন নেমে ইমরানকে ধরে গাড়িতে ওঠানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন।

এতে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। যাদের মধ্যে লিটন নন্দী ও দীপক শিলসহ ৭-৮ জন রয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রাতে ছেড়ে দেয়া হয়
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে ছেড়ে দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আটকের পর র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১১টা নাগাদ তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*