উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে তিতলি | sampadona bangla news
বুধবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৮

উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে তিতলি

সম্পাদনা অনলাইন : পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর/উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

তিন দিন ধরে হবে বৃষ্টি! : দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী তিন দিন বৃষ্টিপাতের এ প্রবণতা বাড়তে পারে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় তিতলি পূর্বের অবস্থানে রয়েছে। এতে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, খুলনা বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর,ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা /ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

কোথায় আঘাত হানবে ‘তিতলি’? : গতি বাড়িয়ে ধয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি! ভয়াবহ তাণ্ডব চালানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথায় এটি আঘাত হানতে পারে তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় তিতলি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর তার জেরেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তুমুল বৃষ্টি চলবে ৭২ ঘণ্টা ধরে!

এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ সামান্য পরিবর্তন হয়ে এ রাজ্যের দিকে ঝুঁকলে পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা খুবই কম বলে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর।

তিতলির কারণে বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, নদিয়ার বাসিন্দারা। তাই পুজোর মুখে তিতলির চিন্তায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা। বেশিরভাগ মণ্ডপের কাজ শেষের মুখে। এমন সময় তিনদিন তুমুল বৃষ্টি হলে কাজ ব্যহত হতে পারে। আশার আলো একটাই সোমবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূল থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। সেই নিম্নচাপ থেকেই ঘূর্ণিঝড়ে তিতলির জন্ম। ইতিমধ্যেই সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে৷ ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন উপকূলে সতর্কতা জারি করেছে। ওড়িশার গোপালপুরে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি রয়েছে। ওড়িশা, অন্ধ্রর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এর প্রভাব পড়তে পারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*