ইজতেমা মাঠে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায় | sampadona bangla news
শনিবার , ২০ জানুয়ারি ২০১৮

ইজতেমা মাঠে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

সম্পাদনা অনলাইন : টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম দিনে আজ (শুক্রবার) লাখো মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। নিয়মিত তাবলিগ জামাতের ছাড়াও ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের কয়েক লাখ মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নেন।

ইজতেমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজে খুতবা পাঠ শুরু হয় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। নামাজ শুরু হয় ১টা ৪০ মিনিটে। ইমামতি করেন রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের।

ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমার পুরো ময়দান পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন পাটি, চটের বস্তা ও খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন।

জুমার নামাজে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ হাসান রাসেল।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে অংশ নেন। তীব্র শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি।

বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শেখ ওমর খতিবের বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরব্বি আব্দুল মতিন। প্রথম পর্বে দেশের ১৪ জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্থান, ইরান, ইরাক ও জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।

ইজতেমার প্রথম দিনেই অংশ নিয়েছেন ৪ হাজার বিদেশি মুসল্লি। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী এই বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে প্রথম দিন শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৭৯টি দেশের ৩ হাজার ৯১৯ জন মুসল্লি ইজতেমা মাঠে পৌঁছেছেন। ইজতেমার পরিবেশ রক্ষায় ইজতেমায় প্রতিদিন ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই পর্বে পরিচালিত হবে।

বিদেশি মুসল্লিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিদেশি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা খিত্তার ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরায় বিদেশিদের জন্য ৪টি খিত্তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টোকাই, হকারদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

প্রথম পর্বের ইজতেমায় রাজধানী ঢাকাসহ ১৪ জেলার মুসল্লিরা ইজেতেমায় অংশ নিয়েছেন। সকাল থেকেই সড়ক পথ, রেলপথ ও নৌপথসহ সব পথেই টঙ্গীর তুরাগ তীরে ঢল নামে মুসল্লিদের।

এবারে প্রথম দফায় বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের জন্য পুরো ময়দানকে ২৭টি খিত্তায় (ভাগে) ভাগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট খিত্তায় নির্দিষ্ট জেলার মুসল্লির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছর ১৬০ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। বিদেশি মেহমানদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নিবাস।

এবারের ইজতেমা ময়দানের রয়েছে ১৭টি প্রবেশ পথ। ইজতেমা ময়দানের চারদিকে ১৫টি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। মাঠ জুড়ে রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি।

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে প্রথম ধাপে অংশগ্রহণ করেছেন ঢাকার একাংশসহ নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, নরসিংদী এবং বগুড়া জেলার বাসিন্দরা। প্রতিটি জেলার জন্য রয়েছে নির্ধারিত স্থান। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন।

Share on FacebookTweet about this on TwitterShare on Google+Email this to someone

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*