আসছে সমন্বিত শিক্ষা আইন | sampadona bangla news
রবিবার , ২২ জুলাই ২০১৮

আসছে সমন্বিত শিক্ষা আইন

সম্পাদনা অনলাইন : ছয় বছরেও শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ‘শিক্ষা আইনটি’ অবশেষে বাদ দিতে হচ্ছে। এখন নতুন করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা। শিায় বিদ্যমান ৭৩টি আইন এবং অন্যবিধি ও নীতিমালা নিয়ে তৈরি হবে সমন্বিত শিা আইন। এটি শিােেত্র ‘মাদার ল’ হিসেবে বিবেচিত হবে। গতকাল শিা মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত এক ণবৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘শিক্ষা আইনটিতে’ নানা অসঙ্গতি থাকায় গত মে মাসে মন্ত্রিসভা ১৩টি পর্যবেণ দিয়ে ফেরৎ পাঠায়। শিক্ষার যে দু’টি মন্ত্রণালয় (শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়) রয়েছে তাদের মধ্যেও পারস্পরিক সমন্বয় করে আইনের খসড়া তৈরি করা হয়নি। তাই ওই খসড়ায় ব্যাপক অসামঞ্জস্য, বৈপরীত্য ও বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সাথে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। শিার বিদ্যমান সব আইন নীতিমালা, বিধিবিধান একত্রিত করে একটি ‘আমব্রেলা আইন’ (এক ছাতার নিচে সব) করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদের সভাপতিত্বে নতুনভাবে শিা আইন তৈরির উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদফতরের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। বৈঠকে মন্ত্রী সভা বিভাগের পর্যবেক্ষণসহ ফেরত আসা আইনের নানা অসঙ্গতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে সম্পৃক্ত নীতিমালা, বিধিবিধান ও নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলোকে কিভাবে একীভূত করা যায় তা নিয়ে, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং করণীয় সম্পর্কেও একটি প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অনুরূপ আমব্রেলা আইন প্রণয়নের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠক শেষে জাভেদ আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, শিার বিভিন্ন ধারা কেবল শিার জন্য নিবেদিত দুই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে না। শিা এবং প্রাথমিক ও গণশিা ছাড়াও, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, নৌ-মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন কোর্স, ডিগ্রি ও প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। ওই সব েেত্র বিদ্যমান আইন ও নীতি একীভূত করেই এবারকার আইনটি প্রণীত হবে। তিনি আরো জানান, আগের খসড়ার তুলনায় নতুন আইনে ফরমেট এবং নাম উভয়টিই পরিবর্তন ঘটবে। নতুন আইনটি সমন্বিত আইনের ধরায় প্রণীত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন আইনের একটি নতুন ধারা ও বিন্যাস রচনা করা হবে। নতুন নামে প্রণীত আইনের খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকেই প্রণীত হয়ে মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণভাবে নিরীা শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ অন্যান্য সব প্রক্রিয়া শেষ করে, তবেই মন্ত্রিসভার পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। তাতে বেশ কয়েক মাস চলে যাবে। তা বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হবে না এমনটি নিশ্চিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন শিক্ষা আইন প্রণয়নের সময় বিভিন্ন আইন, নীতিমালা, বিধিবিধান, প্রবিধানসহ নানা বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে পর্যবেণ দিয়েছে তা অনুসরণ করা হবে। এ সব বিষয়ে আগের আইনগুলোকে প্রয়োজনে রহিত বা স্থগিত করার ব্যাপারেও উদ্যোগ ও করণীয় নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত ও নির্দেশনা চাওয়া হবে।
জানা গেছে, নোট ও গাইড নিষিদ্ধকরণ এবং পাবলিক পরীা অপরাধ দমনে পৃথক আইন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের সাথে জড়িত থাকার শাস্তি,নোট গাইড নিষিদ্ধ করতে হলে আগের আইনের কী হবে সে বিষয়ে পর্যবেণ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রস্তাবিত শিা আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন আইন, বিধি, প্রবিধান, রীতি পর্যবেণ করতে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন বা সংশোধনীর বিষয়ে উচ্চআদালতের সিদ্ধান্ত বা পর্যবেণ (যদি থাকে), আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের উদ্দেশ্য ও এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি, কনভেশন, সমঝোতা স্মারক, সিদ্ধান্ত, প্রটোকল খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এখন এসব নির্দেশনার আলোকেই নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*