অর্থবহ নির্বাচনের জন্য সবদলের সংলাপ চায় বিএনপি | sampadona bangla news
সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

অর্থবহ নির্বাচনের জন্য সবদলের সংলাপ চায় বিএনপি

সম্পাদনা অনলাইন : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা ছিল বেআইনি ও অনৈতিক সরকারের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে। ওই ভাষণে দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে, একটি অর্থবহ নির্বাচনের রূপরেখা সম্পর্কে কোন দিক-নির্দেশনা নেই।তিনি দেশে একটি অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সকল দলের সাথে সংলাপের দাবী জানান।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানান।তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যা বলেছেন তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতি আশা করেছিল, তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের এই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক বছর আগেই তিনি যে ভাষণ দেবেন সে ভাষণে থাকবে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, জাতীয় সংকট নিরসনে একটি স্পষ্ট রূপরেখা এবং জনগণের উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য থাকবে বিভ্রান্তির বেড়াজালমুক্ত কর্ম পদক্ষেপ।’

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তা হলে সেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারেরই অনুরূপ। সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবে- এমন কিছু উল্লেখ নেই। সংবিধানের ১৫তম ও ১৬ তম সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনকে পাকাপোক্ত করার একটি ব্যবস্থাই করা হয়েছে মাত্র।

মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র সবসময় সমার্থক বা সমান্তরাল হয় না। তাই যদি হতো তা হলে হিটলার ও মুসোলিনির শাসনকেও গণতান্ত্রিক বলা যেত। কারণ তাদের শাসনও সংবিধান অনুযায়ীই ছিল।’

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তাঁদের কিছু চিন্তা-ভাবনা রয়েছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তবে প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন তা হলে তাঁর উচিত হবে এ নিয়ে সকল স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া। আমাদের দল মনে করে একটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ এর নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে, তা নিয়ে আমাদের দলের একটি চিন্তা-ভাবনা আছে।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘একটি সুন্দর পরিবেশে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হলে জাতির মনে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আমরা আস্থা রাখতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*